Logo
Logo
×

জনদুর্ভোগ

অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবনের সঠিক হিসেবে নেই

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২১, ০৭:২৩ পিএম

অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবনের সঠিক হিসেবে নেই
Swapno

# সাত থেকে আটটি ইউনিটকে নিয়ে কমিটি করবে ফায়ার সার্ভিস


# তালিকা না থাকাটাই যেন স্বাভাবিক মন্তব্য এবি সিদ্দিকী’র

 

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ইলেকট্রনিক, কাঁচপুরের আল-নূর পেপারমিল ও রূপগঞ্জের হাসেম ফুড অ্যান্ড ভেবারেজের মতো বেশ কয়েকটি বড় বড় কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিপুল পরিমাণে অর্থিক ক্ষয়ক্ষতিসহ অনেকের প্রাণহানিও হয়েছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এখন এই জেলার বিভিন্ন কল-কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার বিষয় নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন কনকা উঠছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ অনেক বেশি অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে ছোটবড় হোসিয়ারী ও গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো কল-কারখানা আছে। যারমধ্যে অনেক কল-কারখানার ভেতরেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, পানি ও পর্যাপ্ত বার্হিগমনের রাস্তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোন সুনিদৃষ্ট পরিসংখ্যান এখনো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কাছে নেই।

 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে কয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নির্বাপক লাইসেন্স রয়েছে তারও কোন হিসেব দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্সের কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে নাগরিক কমিটি ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক এ বিষয়ে বলেন, ‘আসলে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনা। বরং এরা সরাসরি গিয়ে কারখানা মালিকের অফিসে ঢুকে এবং পরবর্তীতে তার (মালিক) কাছ থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে চলে আসে। তাই এদের কাছে জেলায় কি পরিমাণে প্রতিষ্ঠান অগ্নি ঝুঁকিতে আছে সেটার তালিকা না থাকাটাই স্বাভাবিক’।

 


তবে, জেলায় এই মূহুর্তে কত সংখ্যক কল-কারখানা অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ তার হিসেব না পাওয়া গেলেও জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে এমন অনেক বহুতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে যেখানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা নেই। তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এসব ভবন ও মার্কেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানানো হলেও তাঁরা এতে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৮০ টির মতো বহুতল ভবন এবং মার্কেটকে অগ্নি নির্বাপন ও জননিরাপত্তাজনিত দিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের শেষের দিকে। তবে এরপর সেখানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হলেও অধিকাংশ মার্কেটেই দেখা গেছে এখনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

 


তবে দ্রুতই এসব অনিয়ম বন্ধে কাজ শুরু হবে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, ‘ নারায়ণগঞ্জে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যে নেই, সেটা বলা ঠিক হবেনা। আছে, অনেক ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এদের অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণের পর আমাদের কাছ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহের কথাও বলেছি। অনেকে মেনেছে আবার অনেকে মানেনি। তাই আমাদের জেলা প্রশাসক সাহেব ইতিমধ্যেই বলেছেন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দ্রুতই আমাদের ৭থেকে ৮ টি ইউনিটকে একসঙ্গে করে একটি কমিটি করে দিবে। আশাকরি এরপরই আমরা এই সমস্যাগুলো সমাধান করে দিবো’।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন