ঢাকা-না.গঞ্জ লিংকরোড যেনো মৃত্যুফাঁদ
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লিংকরোড। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও পথচারীর চাপ সামাল দেওয়া এই সড়কটি বর্তমানে যেন এক অঘোষিত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় সড়কটি প্রশস্ত ও দ্রুতগতির হলেও, নিরাপদ পারাপারের অভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবিসি স্কুল এলাকা, ফতুল্লা স্টেডিয়াম, জালকুড়ি, কড়ইতলা, দেলপাড়া এবং পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন অংশে প্রতিদিনই দেখা যায় ভয়ংকর চিত্র। ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে সরাসরি ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন। শিশু, নারী, বয়স্ক কেউই এই ঝুঁকি থেকে বাদ পড়ছেন না।
দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইভেটকারের অবিরাম চলাচলের মাঝেই পথচারীরা সুযোগ খুঁজে নেন। অনেক সময় কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হন তারা। এ যেন জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এক লড়াই।
সম্প্রতি ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় এক নারী বাসের ধাক্কায় নিহত হওয়ার ঘটনা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন দুর্ঘটনা এখানে নতুন কিছু নয় বরং নিয়মিত বিরতিতেই ঘটছে প্রাণহানি।
দেলপাড়া এলাকায় একটি রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন অন্তত চারবার এই সড়ক অতিক্রম করেন। সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাত প্রতিটি শিফটে এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার যেন তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। অনেক শ্রমিকই জানান, সহকর্মীদের সামনে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হতে দেখার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।
একজন পোশাক শ্রমিক বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা পার হই, কিন্তু মনে ভয় থাকে। আজকে হয়তো ঠিকমতো পার হতে পারবো না। অনেকবার দুর্ঘটনা চোখের সামনে দেখছি।
আরেকজন নারী শ্রমিকের ভাষ্য, আমাদের জন্য কোনো ব্রিজ নাই, কোনো নিরাপদ রাস্তা নাই। আমরা কি মানুষ না? আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নাই?
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে পার হয়। অভিভাবক হিসেবে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একজন পরিবহন চালকও স্বীকার করেন সমস্যার বাস্তবতা। তিনি বলেন, এই রাস্তায় মানুষ হঠাৎ করে সামনে চলে আসে। ব্রিজ থাকলে আমরা চালকরাও স্বস্তিতে গাড়ি চালাতে পারতাম। এলাকাবাসী ও পথচারীদের মতে, এই সড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ শুধু অতিরিক্ত গতি নয়, বরং পরিকল্পিত পারাপার ব্যবস্থার অভাব। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এবিসি স্কুল, ফতুল্লা স্টেডিয়াম, দেলপাড়া ও কড়ইতলা এলাকায় অন্তত কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এছাড়া স্পিডব্রেকার স্থাপন, ট্রাফিক পুলিশের স্থায়ী মোতায়েন, জেব্রা ক্রসিং ও সাইনেজ বৃদ্ধির দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এসব ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড আজ শুধু একটি সড়ক নয়, বরং প্রতিদিনের ঝুঁকি, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সড়ক যে আরও অনেক প্রাণ কেড়ে নেবে।এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


