সাইনবোর্ডে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
সাইনবোর্ডে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
# এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে: সওজ
# কমিউনিটি পুলিশ সহযোগিতা করছেন: হাইওয়ে ওসি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংযোগস্থল। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাজারো যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে সাইনবোর্ড এলাকার ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুতগতির মহাসড়ক পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ যানবাহনের গতি কমার অপেক্ষায় কিংবা হাতের ইশারায় গাড়ি থামিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছেন। অনেক সময় দ্রুতগতির বাস ও ট্রাককে হঠাৎ ব্রেক করতে হচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের চালকরাও পড়ছেন বিপাকে।
স্থানীয় পথচারীরা অভিযোগ করেন, ব্রিজ সংস্কার চললেও নিরাপদ পারাপারের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। জেব্রা ক্রসিং, অস্থায়ী পারাপার কিংবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে কয়েকজন পরিবহন চালক জানান, হঠাৎ পথচারীরা সড়কে উঠে পড়ায় জরুরি ব্রেক করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে। কাজ শেষ হলে পথচারীদের আর এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
শিমরাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলহাস বলেন,‘ বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তারা আগামী সাত দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও পথচারীদের সচেতন করতে ও নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতা করছেন।’
স্থানীয়দের দাবি, ফুটওভার ব্রিজের সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত অস্থায়ী নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।


