Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রূপগঞ্জকে আলোকিত করছে ১১ জন নারী

Icon

মাহবুব আলম প্রিয়

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২১, ০৫:৩৪ পিএম

রূপগঞ্জকে আলোকিত করছে ১১ জন নারী
Swapno

ইতিহাসের মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া  নারী জাগরণ, নারী মুক্তি আর নারী ক্ষমতায়নের যে পথ দেখিয়েছিলেন। সেই পথের আলো আজ গোটা দেশেই। দেশের গুরুত্বপূর্ন রাষ্ট্রীয় পদেও তাদের জয় জয়কার।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধূরী, সংসীয় বিরোধী দলের নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ,রাজপথের বিরোধী দলীয় নেত্রী সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ন ক্ষমতাধর এমপিও রয়েছেন নারী ক্ষমতায়নে। তবে তৃনমূল পর্যায়ে এমন চিত্র পাওয়া খুব বিরল। তবু এর  পূর্নরূপ বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায়।এখানে উপজেলা প্রশাসনের প্রধান চেয়ারগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছেন নারীরা। সরকারী বিভিন্ন  বিভাগীয় কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে তৃণমুল সেবাদানকারী ৩৭জন কর্মকর্তার মাঝে ১১জনই রয়েছেন নারী কর্মকর্তা। আবার প্রথমবারের মতো নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারাবো পৌর মেয়র এবং রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলালীগের সভানেত্রী হাসিনা গাজীও রয়েছেন নারী জাগরনের এ তালিকায়।  


 সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ৩৭টি সরকারী বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মাঝে প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক নারী যোগদান করেছেন এখানে। সরকারী এমন কর্মকর্তার তালিকায় তাদের সংখ্যা ১১ জন।  এর মাঝে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদধারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফা খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর , উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার নুর জাহান আরা খাতুন,পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার বেগম,  উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদা আখতার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাফিজা বেগম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহীন সুলতানা, উপজেলা উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল আয়েশা খাতুন, ইউআরসি ইন্সস্ট্রাক্টর ফারজানা তারান্নুম নিগার, উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানা। আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে একাধিক নারী। তাদের মাঝে উপজেলার তারাবো পৌর মেয়র মিসেস হাসিনা, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য শীলা রানী পাল।  


উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে বেশির ভাগ কর্মকর্তাই যোগদান করেছেন করোনা মহামারীকালীন। কঠিন এক সময়ে তাদের রূপগঞ্জে আগমন। সময়টাতে করোনা আতঙ্কে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে লকডাউন পালন আর ত্রাণ তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। সে সময়ে যোগদান করাদের মাঝে রয়েছেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি),কৃষি কর্মকর্তা,  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা এবং পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা। তাতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের আসন নিশ্চিত হয়। তাই আলোচনায় আসে রূপগঞ্জে নারী ক্ষমতায়নের । বিগত ২০ জুলাই ২০২০এর মধ্যে ওই গুরুত্বপূর্ন কর্মকর্তাদের যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রায় পুরোপুরি নারী শাসনের যাত্রা শুরু হয় রূপগঞ্জে। 


এর আগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার মাঝে প্রথমবারের মতো কোন নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন মিসেস হাসিনা গাজী। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি‘র সহধর্মীনি। বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক গোলাম মোর্তজা পাপ্পা তার বড় ছেলে। তাছাড়াও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী মহিলালীগ সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন । এবার ২য় বারের মতোও তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নারী হয়েও কোন কাজেই পিছিয়ে নেই তিনি । নিজ সংসার গুছিয়ে, কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করে দাপুটে নেত্রী হিসেবে রয়েছে তার সুনাম। জনপ্রতিনিধি হয়ে শিল্পাঞ্চল খ্যাত তারাবো পৌর এলাকার নাগরিক সুবিধা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এমন  স্থানীয় উন্নয়নে ভুমিকা রাখা এবং দলকে শক্তিশালী করতেই তার প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে মিসেস হাসিনা গাজী বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আমাদের গড়া গাজী গ্রুপ শুরু থেকেই বেকারত্ব দূরীকরণ ও দেশের বাণিজ্যিক যাত্রায় অগ্রণী ভুমিকা রেখেছিলো। এখন আমরা পরিবারের সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। আমরণ তাই করবো। এ সময় রূপগঞ্জে নারী জাগরণ বিষয়ে বলেন, রূপগঞ্জের নারী কর্মকর্তারা দক্ষ, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল। আমরা তাদের প্রতি আস্থা রাখি। তাদের আন্তরিক সেবায় সাধারণ জনগণও সন্তুষ্ট।  


 রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান। করোনা মহামারীর সময় রূপগঞ্জে যোগদান করেছেন। শুরুতেই করোনা মোকাবেলায়  ফ্রন্টলাইনার হিসেবে এ উপজেলার বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারী করেন। স্বল্প দিনে নিজ দায়িত্ব পালন ও জনসাধারনের কাছের মানুষ হিসেবে কুড়িয়ে নেন ভালোবাসা। সরকারী দায়িত্বের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং ভেজালসহ মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যকলাপ সম্পন্ন, অনুষ্ঠানাদি বাস্তবায়নসহ নিজ দপ্তরে তৎপর তিনি। তবে নারী কর্মকর্তা হিসেবেই তিনিই প্রথম নন। এর আগেও একাধিক নারী কর্মকর্তা এখানে সুনামের সাথে কাজ করে গেছেন। তাদের মাঝে বর্তমান নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন অন্যতম। একইভাবে বিগত সময়ে নারী ইউএনও হিসেবে মমতাজ বেগম, ফারহানা ইসলামরাও সুনাম কুড়িয়ে গেছেন। এখনো তাদের মনে করে রূপগঞ্জবাসি। তাদের সূত্র ধরেই রূপগঞ্জের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে কাজ করতে চান বর্তমান ইউএনও শাহ নুসরাত জাহান। তার সনে কথা হলে তিনি বলেন, আমার কাজ আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমি ভালো করলে প্রশংসিত হবো মন্দ করলে ঘৃণিত হবো। নারী হিসেবে কাজ করে রূপগঞ্জে সবার সহযোগীতা পাচ্ছেন দাবী করে তিনি আরো বলেন, কাজের ক্ষেত্রে নারী পুরুষ আলাদা করে দেখা হয়না। তবে নিরাপত্তা প্রশ্ন থেকে যায়।

  
ইউএনওর পর গুরুত্বপূর্ন পদ হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) । এ পদেও রয়েছেন নারী কর্মকর্তা আফিফা খান। করোনকালীন যোগদান করেছেন তিনি। শুরুতে লকডাইন বাস্তবায়ন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা প্রধান কাজ হলেও এখন তার ব্যস্ততা রূপগঞ্জের জমি জমা নিয়ে। তবে  উপজেলা প্রশাসনের কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে আলোচিত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি। তবে সরকারী খাস খতিয়ান রক্ষা আর জমি মালিকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় তার কাজের অন্যতম। বাস্তবে রূপগঞ্জে আবাসন ও শিল্পায়নের ব্যপক প্রভাব থাকায় এখানে এমন কার্যালয়ের উপরও প্রভাবখাটানো হয়। এতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিষয় সামনে এলেও আফিফা খান তার দায়িত্বপালন করছেন নিরলসভাবে। বিপুল সংখ্যক জমি সংক্রান্ত মোকদ্দামারও সুরাহা দিতে হয় তাকে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারী কর্মকর্তা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে কাজ করছি। নিজের দায়িত্ববোধ, অর্পিত দায়িত্ব পালন করে সর্বোচ্চ সেবাদানে প্রস্তুত রয়েছি। রূপগঞ্জে গুরুত্বপূর্ন পদে নারী কর্মকর্তাদের পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি। এ সময় তিনি আরো বলেন,  রূপগঞ্জ নারী কর্মকর্তার সংখ্যা যেমনই থাকুক সবাই একে অপরকে খুবই আন্তরিকতার সাথে সহযোগীতা করে থাকেন। ফলে সফলভাবে স্ব স্ব দপ্তর  পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে।   


একইভাবে শিল্পায়নের প্রভাবে ব্যপক হারে কৃষি জমি কমে আসায় কৃষক সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করেছে। একদিকে জমি আবাসনের বালির তলায় থাকায় অন্যদিকে  বাজার মুূল্য না পেয়ে নানাভাবে এখানকার কৃষকরা চাষাবাদে অনুসাৎসাহিত হচ্ছে। এ উপজেলার ১১ হাজার আবাদি জমি ও ২২ হাজারের অধিক কৃষকের দেখবালের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তি ২য় বারের মতো কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কোন নারী যোগদান করেছেন। হতাশ তিনি ফাতেহা নুর। তার সনে কথা হলে তিনি বলেন, নারীরা স¦ভাবতই মমতাবোধ নিয়ে কাজ করে। আমিও যে কাজ করি নিজের মনে করে, দায়িত্বশীলতা দিয়ে । রূপগঞ্জের কৃষকদের চাষাবাদে যুক্ত রাখতে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, পূনবার্সন, সার বীজ কিটনাশক প্রদান করে উৎসাহিত করে আসছি। মুলত কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকরা যাতে ভালো উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।  


প্রায় ৬ লাখ জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনায় রয়েছে একটি মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট  সরকারী হাসপাতাল। এ হাসপাতালেও প্রথমবারের মতো কোন নারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং একজন গাইনি ছাড়া রয়েছে ৯টি বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট। সরকার বিগত ২ বছর ধরে এখানে ডাক্তার নিয়োগ না দেয়ায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। আবার কভিড টিকা প্রদান কাজে নতুন করে বেড়েছে ব্যস্ততা। তাছাড়া নানা পরিক্ষণ যন্ত্রাদির সংকট থাকায় যে কোন কর্মকর্তারাই হিমসিম খান এখানকার রোগী সামাল দিতে।  তবু নারী কর্মকর্তা হিসেবে ডাক্তার নুরজাহান আরা খাতুন তার বিচক্ষণতা দিয়ে সামাল দিয়ে যাচ্ছেন এ হাসপাতালে আসা রোগীদের। সেবা দিচ্ছেন আন্তরিকতা দিয়ে। নারী কর্মকর্তা হিসেবে তার প্রশংসায় ভাসের অন্য সহকর্মী এবং রোগীর স্বজনরা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আমরা মানুষ। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে জীবন স্বার্থক হবে। কভিড সময়টায় এর কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ততা বেশি। তাছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারন মা ও শিশুদের টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হয়।  হাসপাতালের নানা সংকট রয়েছে সেসব  প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি। নারী হিসেবে নিজেকে আলাদা করে ভাবছি না। কাজের বেলায় লিঙ্গ বৈষম্য বলে কিছু নাই। কাজকে কাজ দ্বারাই মুল্যায়ন করি। 


এদিকে একই কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন নারী কর্মকর্তা। তার নাম লুৎফুন্নাহার বেগম। তার অধীনে থাকা  স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও ২৪ ঘন্টা  প্রসূতি সেবা ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ব্যপক সরকারী সেবামুলক কর্মযজ্ঞ। করোনাকালীন সব চেয়ে বিপদের সম্মুখ্যিন ছিলেন প্রসুতি মায়েরা। আর তাদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে আলোচিত হন এই কর্মকর্তা। তার অধীনস্থ এসওসিএমও  সাহনিন সুলতানা করোনাকালীন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় এমন প্রসুতি সেবা দিয়েছেন। এতে সরাসরি তত্ব¦বধানে ছিলেন লুৎফুন্নাহার বেগম। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারীকে ভয় পেলে চলবে বা। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাকে প্রস্তুত থাকতে হয়। আমরাও থেকেছি। আল্লাহ সফল করেছেন। তিনি  আরো বলেন, রূপগঞ্জে গুরুত্বপূর্ন পদে নারী কর্মকর্তাদের অবস্থায় আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করেছে। নারীরা যে তাদের কর্মস্থলে সফল এ উপজেলাই তার প্রমাণ।    


উপজেলার বিভিন্নস্থানে  নিরাপদ পানি সরবরাহে টিওবয়েল, সাবমারসিবল স্থাপন,স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা লোকের দাবী দাওয়া পুরনের কাজ যথারীতি একটু কঠিন। এখানে বিভিন্ন পক্ষের চাপ প্রয়োগ। প্রভাব খাটিয়ে দরিদ্রের জন্য বরাদ্দ মালামাল ধনীর বাড়িতেও চলে যায়। এসব নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে এ দপ্তরেও নারী কর্মকর্তা সাফ্যল্যের চিহ্ন এঁকেছেন। সরকারী নন কেডার পদে ২০১৮ তে চাকুরীতে  যোগদান করেন রূপগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আয়েশা খাতুন মুন্নি। শুরুতেই রূপগঞ্জেই প্রথম পোস্টিং পেয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কাজ পরিচালনা করে আসছেন। তিনি বলেন, এসব কাজ নারী হিসেবে চ্যালেঞ্জিং। তবে উপজেলার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সহযোগীতা থাকা এবং রূপগঞ্জের মানুষগুলো শান্তিপ্রিয় থাকায় খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারছি।


তাদের মাঝে উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানা বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সরকারের নানা পদক্ষেপ এখন আলোচিত। এমন  সেবা দিতে এখানে কাজ করছি স্বাধীন এবং নিরাপদভাবে। এখানে নারী বলে কারো কাছে হেয় হতে হচ্ছে না।বরং আলাদা সম্মান পাচ্ছি। এমন চিন্তাই করতেন মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া। তাঁর স্বপ্ন ছিলো, নারীরা ঘরে বসে থেকে , শিক্ষার আলো যেন বঞ্চিত না হয়। তারাইও যেন কাজ করে। নারী পুরুষ সবাই মিলে দেশ গড়বে এটাই ছিল তাঁর চাওয়া। আমরা তারই আন্দোলনের সুফল ভোগ করছি।    

 

রাজনৈতিক অঙ্গণেও পিছিয়ে নেই নারীরা। আওয়ামীলীগ, বিএনপিতে সমান তালে তাদের অবস্থান। তাদের মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলের বাসিন্দা শীলা রানী পাল অন্যতম। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা দীর্ঘ বছর ধরে এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। শুরুতে একটি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে প্রথমবারই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। এরপর আর পেঁছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরপর দুবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত দাপুটে নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় পূর্বাচল লেডিস ক্লাব গঠন করে নারীদের সংঘবদ্ধ করার কাজ করছেন। 


শুধু যে উপজেলা প্রশাসন কিংবা রাজনীতিতে নারীরা এগিয়ে তা নয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি বেসরকারী হাসপাতাল পরিচালনাও করছেন নারী। এমন এক নারী নাসরিন আলীম। তিনি উপজেলায় বরপায় লাইফ এইড নামীয় একটি বেসরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব করছেন তিনি। রূপগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারীভাবে এমন প্রতিষ্ঠান চালানো নারী হিসেবে তিনিই প্রথম। এসব বিষয়ে কথা হয় তার সনে। তিনি বলেন, সরকারী পদে, রাজনীতির মাঠে  নারী ক্ষমতায়ন বাড়লেও বাড়েনি নারী নিরাপত্ত্বা। এখনো নারীরা ঘর থেকে বেরুলে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় কখন কোন অঘটন ঘটে যায়। তাই নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নারীকেই ভুমিকা রাখতে হবে। তবে অবশ্যই পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। নারী পুরুষ আলাদাভাবে নয়। দু পক্ষের পরস্পর সমন্বয়ই হতে পারে সমাধান। 


অন্যান্য নারী কর্মকর্তাদের সাথেও কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, রূপগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। আর রূপগঞ্জ অঞ্চলটি রাজধানী লগোয়া হওয়ায় এখানে পোস্টিং পেতে প্রায় সবারই আগ্রহ থাকে। তাই এখানে পোস্টিং পাওয়া যেমন ভাগ্যের বিষয় তেমনি এখানে সফল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করাও চ্যালেঞ্জিং। তাদের দাবী, দেশের সমৃদ্ধ আনয়ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশনা বাস্তবানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন