Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা-২০’র পুরস্কার বিতরণ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২১, ০৯:১৩ পিএম

জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা-২০’র পুরস্কার বিতরণ
Swapno

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর ২৫ তম জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষে “জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা-২০” এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

 

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি’র সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, সাবেক সচিব, কবি ও লেখক ভ’ই্য়া সফিকুল ইসলাম, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা ’২০ এর আহ্বায়ক জাহিদুল হক দীপু প্রমূখ।

 

এ সময় সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ত্বকী অশেষ সম্বাবনার প্রতীক। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের দেশ হবে মানবিক এবং সবার। কিন্তু তা হয় নি। আমরা ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করছি শুধু মাত্র ত্বকীর পরিবার বা তার স্বজনদের জন্য নয়, এর সাথে রাষ্ট্রের সাফল্য ব্যর্থতার প্রশ্ন জড়িত। আমরা আমাদের দেশকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। বিচার না হওয়া আক্ষেপের কথা। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ বিচারের দাবি তুলতেই থাকবো। যে রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করছি সে রাষ্ট্র ত্বকীদের ধারণ করতে পাছে না। এইটি অকার্যকরতার প্রতীক ও উদাহরণ হচ্ছে ত্বকী। এ রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে বদলানো না গেলে ত্বকীদের নিরাপত্তা ও বিকাশ সম্ভব নয়।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও শান্তি ধ্বংস করার জন্য ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। ত্বকীকে হত্যা করার পূর্বে ও পরে বহু হত্যাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঘাতকরা কখনোই চিহ্নিত হয় নাই। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয় নাই। কিন্তু ত্বকী হত্যার পরে হত্যাকারীরা চিহ্নিত হয়েছে সারা দেশের মানুষ হত্যাকারীদের চিনেছে। ত্বকী আজকে শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়, সারা দেশে আন্দোলনের প্রতীক। বিশ্বের যে যে দেশে বাঙালী বসবাস করে, তাদেরও আশার প্রতীক। আমরা আশাবাদী ত্বকী হত্যার বিচার হবেই। এ বিচার দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, আমাদের রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষ স্বাধীন হয়নি। একটি মানবি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কিন্তু তা হয় নি। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি অথচ মানুষের স্বাধীনতা নেই। দেশের তরুণরা দলে দলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে, জনগণের হাজার হাজার কেটি টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। সংখ্যালঘুর তকমা নিয়ে প্রাণের ভয়ে দলে দলে মানুষ দেশ ছাড়ছে। 

 

তিনি বলেন, অথচ মুক্তিযুদ্ধে এ দেশটিকে সবার জন্য করার জন্য তারাও রক্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫০ বছরেও এদেশটি সবার হয়নি। বিচার-ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠানই স্বাধীন হয়নি। সব কিছুই পরাধীন, সরকার নিয়ন্ত্রিত। এখন আইনের শাসন হচ্ছে সরকারের ইচ্ছের প্রতিফলন। যেভাবে সরকার চায় সেভাবেই তা হয়। ছয় মাসে নুসরাত হত্যার বিচার নিম্ন আদালতে শেষ হয় আর আট বছরে ত্বকী হত্যা বিচার শুরুই হয়না। রাজন-রাকিবে বিচার সাত মাসে শেষ হয় আবার নয় বছরেও সাগর-রুনি হত্যার অভিযোগপত্র দেয়া হয় না, তনু হত্যা বিচার শুরু হয় না।

 

অনুষ্ঠানে সারাদেশের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। এবারে চিত্রাঙ্কন ও রচনায় সারাদেশ থেকে আট’শ ও রচনায় সাড়ে তিন’শ প্রতিযোগী অংশ গ্রহণ করেছে। ছয়টি বিভাগে ৬০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন, চিত্রাঙ্কনে রফিকুন নবী, জাহিদ মুস্তাফা ও অশোক কর্মকার; রচনায় ড. হায়াৎ মামুদ, ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও ফিরোজ আহমেদ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন