Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ফিটনেস নেই মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চের

Icon

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৭ পিএম

ফিটনেস নেই মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চের
Swapno

গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেটির সঙ্গে বাঁধা ৪ টি ছোট ছোট লঞ্চ শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসছে। এগুলো নৌপথে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল করে। তাই আরেকটু কাছাকাছি গিয়ে চোখে পড়ল, নি¤œমানের লোহার প্লেট দিয়ে তৈরি এই লঞ্চগুলোর অবস্থা প্রায় জরাজীর্ণ, কোনোরকম রং মাখিয়ে পানিতে ভাসানো হয়েছে। আকারে ছোট এই নৌযানগুলোর ভেতরের দৃশ্যও বেশ করুন, বেশি হলে ৫০ জন যাত্রী বহন করা যাবে প্রত্যেকটিতে। কিন্তু ফিটনেস বিহীন এসব নৌযানের মধ্যে কোনো কোনো সময় ৮০ থেকে ৯০ জন যাত্রীও ধারণ করা হয়। ফলে অধিকাংশ সময়তেই যাত্রীরা দুর্ঘটনা এড়াতে পারেনা। 

 

সর্বশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার পথে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ, কার্গো জাহাজের ধাক্কায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যায়। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত লঞ্চটির ভেতর ও নদীর অন্যান্য স্থান থেকে ৩৪ টি মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধাকারী দল। 

 

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনার সময় লঞ্চের ডেকে ও ছাদে অবস্থান করা অনেক যাত্রীরাই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পেড়েছে। কিন্তু ভেতরের জায়গা সরু ও বের হওয়ার পথ না থাকায় মহিলা, শিশুসহ অধিকাংশ যাত্রীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও লঞ্চ হতে বের হতে পারেনি। এতে কেউ সন্তান, কেউ বাবা আবার কেউ মায়ের মতো আপনজন হারিয়েছে। তাই শীতলক্ষ্যায় বালুবাহী বাল্কহেডসহ অন্যান্য জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করা ছোটবড় লঞ্চের ফিটনেসের প্রতিও দৃষ্টি দিতে হবে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের। 

 

নারায়ণগঞ্জ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ২৩ টি, চাঁদপুর রুটে ১৫ টি, সুরেশ্বর ও রামচন্দ্রপুর রুটে ৪ টি লঞ্চ চলাচল করে। এছাড়া মতলব রুটে ১৩ টি নৌযান চলাচল করে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল করা লঞ্চগুলো দুর্বল ইঞ্জিনের সাথে সাথে অদক্ষ চালক দ্বারাও পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ফিটনেস যেমনই হোক, নারায়ণগঞ্জের লঞ্চগুলো বহুদিন ধরেই এভাবে চলাচল করছে। তবে পরিবর্তন করতে হলে পুরো স্ট্রাকচারটাকেই (কাঠামো) বদলাতে হবে।

 এতে সরকারের উচিৎ হবে আমাদের প্লানিং ও আর্থিকভাবে সাহায্য করা। তাহলে আমরা প্রতিটি লঞ্চের কাঠামোই পরিবর্তন করতে পারবো।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা (ট্রাফিক বিভাগ) ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বলেন, ‘আমরা আমাদের নারায়ণগঞ্জ রুটে ফিটনেস ছাড়া কোনো পরিবহন চলতে দেইনা। তবে যদি আমরা ফিটনেসবিহীন কোনো নৌযান দেখি তাহলে অবশ্যই এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।  এছাড়া, দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জের নৌ রুট দিয়ে বাল্কহেড এবং অন্যান্য জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেবো।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন