Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেহাল কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্যকেন্দ্র

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৮ এএম

বেহাল কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্যকেন্দ্র
Swapno

অনিরাপদ ভবন, ঔষধ ও লোকবলের সংকট এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিস না করার কারনে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। আর এতে করে রোগীরা তাদের প্রাপ্য সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ফলে ধীরে ধীরে তারা হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবেশ মুখের প্রধান ফটকটি ভাঙাচোড়া। মাদকসেবীরা এর লোহার ফটক খুলে নিয়েছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন। প্রধান ফটক খোলামেলা থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিতর অবাধে প্রবেশ করে দিন দুপুরে মাদকসেবীরা আড্ডায় মাতেন এখানে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে রয়েছে পঁচা পানির নর্দমা। এর দূর্গন্ধে এখানে রোগী ও চিকিৎসকদের ভোগান্তির শেষ নেই। এতো গেলো বাহিরের চিত্র। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে রয়েছে লোকবল ও ঔষধ সংকট। তাই চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা এখানে আসা প্রায় ভুলেই গেছেন। ১৯৯২ সালে কাঞ্চন পৌর এলাকার বাসিন্দা হাজী সেরাজুল মোল্লার দান করা ৩০ শতক জমিতে ১৯৯৪ এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অর্থায়নে কাঞ্চন পৌর এলাকায় ২৪ ঘন্টা প্রসূতি ও গর্ভকালীন সেবায় মা ও শিশুসহ সাধারণ রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

বিগত বছরগুলোতে এখানে একই এলাকার বাসিন্দা এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভিত্তিক পরিদর্শক হিসেবে লুৎফর রহমানদায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও বিধি মোতাবেক এখানে একজন করে এসওসিএমও, ফার্মাসিস্ট, এফডব্লিউভি, আয়া এবং এমএলএসএস থাকার নিয়ম থাকলেও ফার্মাসিস্ট ও এলএমএসএস নিয়োগ নেই শুরু থেকেই। ফলে ঔষধ বিতরণ ও রোগী সহায়তা দিতে এখানকার কর্মীদের হিমসিম খেতে হয়। এতে কাঞ্চন পৌর এলাকার লক্ষাধিক জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে দেখা যায়, এখানকার দায়িত্বরত এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম এবং এফডব্লিউভি সুমা রানী ছাড়া আর কেউ কার্যালয়ে উপস্থিত নেই। খাতা কলমে ইউনিয়ন পরিদর্শক পদে লুৎফর রহমান নামের একজন দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অফিসের কাজেই তিনি বাইরে থাকেন বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুল্লাহ জানান, এ  হাসপাতালে এলেই শুধু শুনি ডাক্তার নেই, ঔষুধ নেই। এখানে যেগুলো দরকার সেগুলোই যদি না থাকে তাহলে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসবে কী করে। কেন্দুয়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগে ২৪  ঘন্টা সেবা পাওয়া যেতো। এখন এখানকার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ না পাওয়ায় এখন আর কেউ এখানে আসে না। সবাই বাধ্য হয়ে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চলে যায়। প্রায় রোগী শূন্য এই হাসপাতালের বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম জানান, রোগীরা সেবা নিতে আসেন। তবে তাদের মনমতো ঔষধ দিতে না পারায় তারা ক্ষোভ জানিয়ে চলে যান। শুরু থেকেই এখানে ফার্মাসিস্ট পদ শূন্য। তাই সব কাজ আমাকেই করতে হয়। তাই এখানে চাহিদা মতো সেবা না পেয়ে রোগীরা আসতে চায় না। তিনি আরো জানান, উপজেলা থেকে যে পরিমাণ ঔষধ দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। তবে এখানো এখানে মাসে ৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়।


এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সমস্যাগুলো জেনেছি। উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে এসব সংকটের সমাধানে কাজ করবো।


কাঞ্চন পৌর মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বেহাল এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছি। এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। তবে পৌর সভার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের অংশে বালি ভরাট করে প্রাচীর তৈরী করে নিরাপদ পরিবেশ করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছি। যা আগামী অর্থ বছরেই সমাধান হবে বলে আশাকরি। তিনি আরো জানান, কাঞ্চন পৌরসভার আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন