বাঙালি নববর্ষের সংস্কৃতির পরিচয়টা আসে সম্রাট আকবরের আমল থেকে। সম্রাট আকবরই প্রথম বাংলা সন বা বাংলা বর্ষের (বঙ্গাব্দ) প্রবর্তন করেন। তখন থেকেই কৃষক শ্রেণি সেই ফসলি সনে (বাংলা সন) তাদের খাজনা পরিশোধ করতেন। সেদিন মালিক-কৃষক-শ্রমিকদের মাঝে একটি আনন্দ ঘন মুহূর্তে তাদের লেনদেন হতো। সেই সংস্কৃতিই এখন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। বঙ্গাব্দের আগমনে বাঙালি জাতির ধর্ম বর্ণ এক হয়ে আনন্দের জোয়ার ভাসে। বঙ্গাব্দের বছরের শুরু হয় বৈশাখ মাস দিয়ে, তাই বাংলা বছরের প্রথম দিনটি বাঙালীদের কাছে পহেলা বৈশাখ নামে পরিচিত। এই পহেলা বৈশাখ বাঙালী জাতির কাছে একটি উৎসবে দিন হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এদিন ব্যবসায়ীদের মাঝেও আসে আলাদা একটি উৎফুল্লতা।
কারন এ সময় তাদের ব্যবসার পারদ থাকে উপরের দিকে। তাই এইদিনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মাঝে আলাদা একটি পরিকল্পনা থাকে। তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি পায় অনেকগুন। গত বছরের পহেলা বৈশাখে করোনার ছোবলে ব্যবসায়ীদের সে আশায় দেখা দেয় গুড়েবালি। এবছরও ব্যবসায়ীদের সেই আনন্দ উৎসব ম্লান করে দিচ্ছে করোনা মহামারি। পহেলা বৈশাখের সাথে এবার বাড়তি পাওনা হিসেবে ছিল রমজান। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন ঘোষণা দেয়ার খবরে ছোট-বড় সব ধরণের ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
কারন প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে বাঙালিদের নতুন পোশাকের প্রতি এক ধরণের ঝোঁক থাকে। পোশাক থেকে শুরু করে বাড়ির ঘর সাঝানোর বিষয়টি উৎসব আয়োজনের একটি অংশ হয়ে দাড়ায়। পহেলা বৈশাখে লোক ডাউন পড়াতে কেমন প্রভাব পড়েছে ছোট বড় ব্যবসায়ীদের সেই খোঁজ নিতে কালিরবাজার কাঁপড়ের দোকান, জুয়েলারী দোকান, মুদির দোকান, দর্জিদের সাথে কথা বললে তারা হতাশ হয়ে তাদের ব্যবসায়ীক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
নিউ প্রিয় জুয়েলার্স এর মালিক সুমন কর জানান, প্রতিবছর আমরা বৈশাখের উৎসব আয়োজন করে থাকি। এদিন একটি বছরের বেচা কেনার হিসাবের খাতা খুলে থাকি। যাদের বকেয়া থাকে তারা তা পরিশোধ করে নতুন খাতা খুলে থাকে। গত বছরের মত এবারো আমরা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারি নাই। এবছর শুরু থেকে ভেবেছিলাম গতবছরে ক্ষতিটা পূরণ করতে পারবো। কিন্তু এবারো লকডাউনে পড়ে গেছে। ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ।
দর্জি দোকানের মালিক মো. বাঁধন জানান, কাজের পরিমান খুবিই কম, পহেলা বৈশাখের কাজের চাপ পড়ে নাই। তারউপর লকডাউন হলে কিভাবে পরিবারকে নিয়ে চলবো তা নিয়ে খুব দুঃশ্চিন্তার মধ্যে আছি। মুদি দোকানের মালিক সফিক মিয়া বলেন, এখন কি আর ভাই পহেলা বৈশাখ আছে। ব্যবসা বাণিজ্য’র অবস্থা খুবই খারাপ। গত বছরের মত এবারেও লকডাউন পড়ছে। লকডাউনে পহেলা বৈশাখ চাপা পড়ে গেছে। সবাই এখন রোজার ঈদের জন্য ব্যস্ত হয়ে আছে। পহেলা বৈশাখে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে।
এই বছর তাদের ঘরোয়া কোন আয়োজন আছে কীনা এই বিষয়, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সামছুল আলম আজাদের সাথে কথা হলে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, আমাদের নতুন ভবনের কাজ চলছে আর লকডাউনের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে, লকডাউন না থাকলে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে পহেলা বৈশাখের আয়োজন করা যেতো। এখন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিদের্শ অনুযাই সকল কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে।


