Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

করোনায় নির্বাচনী আমেজে ভাটা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:০৫ পিএম

করোনায় নির্বাচনী আমেজে ভাটা
Swapno

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বৃদ্ধি পাবার পর থেকে বদলে গেছে রাজনীতিবিদদের চেহারা। গতবার এই করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন বিভিন্ন দলের একাধিক নেতারা, এবার তাদের অর্ধেককেও জনসম্মুখে দেখা যায়নি। সচেতন মহল বলছেন, গতবার করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা তাদের পরিচিত বাড়িয়েছেন। কিন্তু এবার করোনার ২য় ঢেউয়ে সেই নজির মেলেনি। ফলে নির্বাচনী আমেজে অনেকটাই ভাটা পড়েছে এমনটাই ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


গত বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হয় দেশব্যাপী লকডাউন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রুখতে সরকারের নেয়া এই উদ্যোগে সামিল হন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিভিন্ন ইসলামী ও বাম দলও শরীক হয়েছিলো সাধারন মানুষের সহায়তায়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যরা। কিন্তু এবার তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি জেলাজুড়ে। ফলে যারা দৈনিক আয়ের শ্রমিক ছিলেন তারা হয়ে পড়েছেন অসহায়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। বিএনপি থেকেও উচ্চারিত হয়েছে ২/৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। তারা গতবছর লকডাউন চলাকালে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ এবং অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন। পিছিয়ে ছিলেন নাসিকের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলররাও বেশ সক্রিয় ছিলেন সেবায়। যদিও বছর জুড়ে আলোচনায় ছিলেন কাউন্সিলর খোরশেদ ও কাউন্সিলর শকু। তবে অন্যান্যরা করোনার প্রভাব বিদ্যমান অবস্থাতেই ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছেন।


স¤প্রতি নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, গতবার যেভাবে মানুষকে বিপুল পরিমান অর্থ সহায়তা করতে হয়েছে এই বছর সেইরকম পরিস্থিত এখনও ঘটেনি। ব্যবসায়ীদের অবস্থা সাধারণ মানুষের চাইতেও খারাপ। গতবারের মত পরিস্থিতি এবার আসার কোন কারন নাই। এবার সরকার যেভাবে লকডাউন দিয়েছে তাতে সাধারন মানুষ কিন্তু কাজ করে খেতে পারছে। গত বছর যেটা হয়েছিলো সেটা করোনার নতুন ঢেউ ছিলো। মানুষ তখন অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। মানুষ এখন আয় করতে জেনে গেছে। আগে ছোট বড় কোন দোকানই চলে নাই। এখনও অনেকের দোকান বন্ধ, কারোই যে সমস্যা হচ্ছে না তা না। তবে মানুষ একটু উপার্জন করে খেতে পারছে।


উল্লেখ্য, গতবছর করোনার শুরুতে সাংসদ সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ২০ হাজার ৬শ’দুস্থ পরিবারকে রমজানে খাদ্যসামগ্রী কিনতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকা দেওয়া হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট বা নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ২০ জন করে মোট ৪৮০ জন যুবককে রমজান মাসের জন্য ৪ হাজার ৫শ টাকা করে সম্মানি দেন তিনি।


তবে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, করোনার কারণে অধিকাংশ মানুষের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও চলছে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। তাদের বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্যে চলছে মন্দাভাব। এসকল লোকসান কাটিয়ে উঠতে না পারায় নতুন করে সাধারন মানুষের সহায়তায় বড় আয়োজন করে দাঁড়াতে পারছেন না তারা। গতবার মানুষের পাশে দাঁড়ালেও এবার সেই সাহস দেখাতে পারছেন না কেউ। ফলে ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্য সহায়তার মাধ্যমে সাধারন মানুষের কাছে আসার যেই সুযোগ পেয়েছিলেন নির্বাচনের পূর্বে সেটি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। স্পষ্টতই নির্বাচনী আমেজে ভাটা এনে দিয়েছে মহামারী করোনা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন