সকাল সাড়ে আটটা, মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কের ধামগড়ের ঝুটপট্টি এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। ভেবেই নিয়েছি সামনে হয়তো ঝুটপট্টির কোন কারখানা বা গোডাউন হতে ট্রাকে ঝুটের বস্তা লোড বা আনলোড করা হচ্ছে, তাই এমন জ্যাম। ভুল ভাঙলো প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর যখন দুর থেকে দেখা গেল একটি হাতির মাথার অংশ দেখা যাচ্ছে এবং তার উপর খোশমেজাজে বসে আছে ২৫/৩০ বছরের এক যুবক।
দুর থেকে দেখেইে বুঝা যাচ্ছে যুবকের মুখে চওড়া হাসির কারণ। হাতিটি প্রতিটি গাড়ি আটকিয়ে শুঁড় তুলে ধাক্কা দেয়ার ভয় দেখাচ্ছে আর তাতেই ভয়ে গাড়ির চালক কিংবা যাত্রী পকেট হাতড়ে টাকা বের করে তুলে দিচ্ছে হাতির শুঁড়ে। পোষা হাতিটি শুঁড়ের মাধ্যমে সেই টাকা তুলে দিচ্ছে মাহুতের (হাতির পিঠের উপর তার মালিকের) হাতে।
এরইমধ্যে যারা টাকা দিতে গড়িমসি করছে সেখানে হাতিটি তার শুঁড় উঠানামা করে ভয় দেখিয়ে জোরপুর্বক টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাটারীচালিত ইজি বাইক থেকেও চাঁদা তুলেছে হাতিটি। চোখের সামনে একটি যাত্রী শূন্য ইজিবাইকের চালক বলছে তার কাছে টাকা নাই। তাই হাতিটি তার শুঁড় দিয়ে গাড়িটিকে বেশ কয়েকটি ঝাঁকি মেরে ভয় দেখাতে শুরু করে। আর তাতে ইজিবাইকের পিছনের চাকার বাম ঘেঁষা একটি মোটর সাইকেল পড়ে পায়ের হাটুতে ব্যথা পায় আরোহী। এতে বেশ মজাই পায় মাহুত। দাত বেড় করে হেসে বলে ‘ভাল হয়েছে টাকা দিলিনা ক্যান্’। হাতিটি মদনপুর থেকে এভাবেই রাস্তায় যানবাহন আটকিয়ে বন্দরের দিকে এগুতে থাকে।
এ বিষয়ে টাকা না থাকা ইজিবাইকের চালক নাদিম জানায়, আমি মাত্র গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। মদনপুর গিয়ে যাত্রী নেয়া শুরু করব। সে অভিযোগ করে, হাতিটি দিয়ে কয়েকদিন পরপরই তার মালিক এভাবে রাস্তায় ভয় দেখিয়ে টাকা তুলে। আর হাতিটি কোন সময় কী করে বসে, তার ভয়ে সবাই পকেট টাকা বের করে দিয়ে দেয়। যার কাছে না টাকা থাকে সে পড়ে চরম বিপদে। সকাল সাড়ে দশটার দিকে হাতিটিকে দেখা যায় নবীগঞ্জ এলাকার দিকে বীরদর্পে রাস্তার মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যে পরিবহনই আসছে তার কাছ থেকেই চাঁদা নিচ্ছে।
নবীগঞ্জ কাঠপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী হানিফ জানান, হাতিটি কয়েকদিন পরপরই এভাবে রাস্তায় বের হয়ে চাঁদা তুলে। যখন যানবাহন বেশী চলাচল করে তখন দোকানে হানা দেয় না, কিন্তু যখন রাস্তায় যানবাহন কম থাকে তখন তারা রাস্তার পাশের প্রতিটি দোকানে হানা দেয়। চাঁদা না দিলে মাহুতের ইশারায় হাতি তার শুঁড় ও কপাল দিয়ে দোকানে ধাক্কা দেয়ার ভান করে, দোকান ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে এমন ভয় দেখায়। মানুষজন তো আর হাতির সাথে পারবে না, তাই যে পারে দিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্বীপক চন্দ্র সাহার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হাতিটি রাস্তায় চাঁদাবাজির করছে এমন খবর আমরা পাইনি। হাতিটি তখন নবীগঞ্জ অবস্থান করছে জানালে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।


