Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

তালিকার পরও থেমে আছে অভিযান!

Icon

তুষার আহমেদ

প্রকাশ: ২০ মে ২০২১, ০৯:৩২ পিএম

তালিকার পরও থেমে আছে অভিযান!
Swapno

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের তালিকা করলেও অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না সিভিল সার্জন বা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের। গত কয়েক মাস পূর্বে জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ছাড়পত্রহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করা হয়। ওই তালিকার পর নারায়ণগঞ্জের খানপুরে তিনটি অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে অন্যান্য অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না। তা নিয়ে নানামুখি গুঞ্জন চলছে সচেতন মহলে।

 

তবে, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, গত বছর তালিকা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতা মূলক। অথচ, নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই। একই সাথে প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করা আবশ্যক হলেও এতেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে সিংহভাগ বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। লাইসেন্স নবায়ন নেই এমন প্রতিষ্ঠানের পরিমান প্রায় ৭০ শতাংশ বলে জানিয়েছে সূত্রটি। আর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লাইসেন্সই সংগ্রহ করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২টি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতালগুলোর অনুমোদনও দিয়ে দিচ্ছে সিভিল সার্জন! যা নিয়ম বহির্ভূত বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরেরই একাধিক সূত্র। ফলে নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে রহস্যের দানা বেধেছে সর্বত্র। এই বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করলেও অনুমোদন পেতে এক থেকে দু’বছর সময় লেগে যায়।

 

ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করলেই আমরা অনুমোদন দিয়ে দিই।’ পরিবেশ অধিপ্তরে আবেদন করা হলেই যে ওই প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত ভাবে ক্ষতিকর নয়- তা নির্নয় হওয়ার পূবেই লাইসেন্স দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স নেয়ার পরও যদি পরিবেশগত ভাবে তা ক্ষতিকর হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাদের লিখিত ভাবে জানাবে, অতঃপর পরবর্তী বছরে আমরা তাদের লাইসেন্স নবায়ন করবো না।’ প্রাপ্ত তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জে বেসরকারী হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১৭০টি। তবে, পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর গোটা জেলায় মাত্র ১২টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেছে। বাকি ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে! কাগজে কলমে যা অবৈধ। তবে, এসব ‘অবৈধ’ হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে জোড়ালো অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না সিভিল সার্জন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে।

 

সূত্র জানায়, সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে তালিকা তৈরীর পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে ৩টি অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাদের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সিলগালা হওয়া ক্লিনিকগুলো হলো- খানপুর এলাকার আশ্-শিফা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল, নিউ সম্রাট জেনারেল হাসপাতাল ও ডন চেম্বারের সোহেল জেনারেল হাসপাতাল। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অনুমোদনহীন অন্যান্য ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।

 

এদিকে, গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে, পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, যেকল প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেয়নি, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে দেখা যায়, সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। হাসপাতাল সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় তা তদারকির দায়িত্ব সিভিল সার্জনের। কিন্তু তারা যেহেতু অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে, সেক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লাইসেন্সের জন্য আসেও না। যদিও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য এটা বাধ্যতামূলক। তবে, সিভিল সার্জন অনুমতি দিয়ে ফেলায় আমরাও অভিযান চালাতে বিপত্তিতে পড়ে যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।   
 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন