নানা কারণেই আলোচনায় থাকছে নারায়ণগঞ্জ। কখনো রাজনীতি, কখনো দুর্নীতি আবার কখনো কখনো গুম, হত্যা ও সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবেও দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ঢাকার নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ন এই অঞ্চলটি। এবার সাইনবোর্ডে পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাত সন্ত্রাস বা জঙ্গিগোষ্ঠির রেখে যাওয়া শক্তিশালি বোমা উদ্ধারের পর নারায়ণগঞ্জে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুরনো সেই জঙ্গীবাদের কথন।
তবে, কে বা কারা পুলিশ ফাঁড়িতে এই বোম রেখে গেছে তা স্পষ্ট হয়নি আজও। যদিও এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে, কে বা কারা বোম রেখেছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পাড়লেও তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে অজ্ঞাতনামা জঙ্গিগোষ্ঠি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিপূর্বে সারাদেশে যখন জঙ্গি সংগঠনগুলো আস্ফালন দেখিয়েছিলো, তখন নারায়ণগঞ্জে কঠোর তৎপরতা দেখিয়েছিলো র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা। এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল জিহাদসহ নামি বেনামি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বেশ কিছু সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। এমনকি পাইকপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় নব্য জেএমবির প্রধান ও হলি আটির্জান হামলার মাস্টার মাইন্ড তামিম ও তার ২ সহযোগি। বছর খানেক পর ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকায় একটি বাড়িতে নব্য জেএমবির অস্ত্র তৈরীর কারখানা আবিস্কারসহ শক্তিশালি বোম ও বোম তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।
সচেতন মহল বলছে, একেরপর এক অভিযানে জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারের পর তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা। বলা হচ্ছিল, জঙ্গি গোষ্ঠির বিষ দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে। তবে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে পুলিশ ফাঁড়িতে শক্তিশালি বোমা উদ্ধারের পর ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এতে প্রতীয়মান হয়, সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী জঙ্গীগোষ্ঠি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের সক্রিয়তা ও সক্ষমতা জানান দিতেই সাইনবোর্ডের ওই পুলিশ ফাঁড়িতে শক্তিশালি বোম রেখে ছিলো জঙ্গিগোষ্ঠি- এমনটা মনে করছেন বোদ্ধা মহল।
তবে, সন্ত্রাসবাদের কোন গোষ্ঠি এই বোমা রেখেছে- তা এখনও তদন্তাধীন। তবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে- প্রাথমিক ভাবে তারা ধারণা করছেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠির সক্রিয় সদস্যদের মধ্য থেকে যারা জামিনে বেড়িয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে কোন একটি সংগঠনের সদস্যরা সংগঠিত হয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিতে পুলিশ ফাঁড়িতে এই বোম রেখে যেতে পারে। এমনটা হলে, জেলার অন্যান্য ফাঁড়ি, থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়গুলোতে ঝুঁকি বিদ্যমান। এক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়াতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর- এমনটাই মনে করছেন বোদ্ধা মহল।
তবে, পুলিশ প্রশাসন কতটা তৎপর তা জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জঙ্গিগোষ্ঠিরা সবসময়ই তৎপর থাকার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের তৎপরতার মাধ্যমে তাদের দমন করে আসছি, মানুষে জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত। পাশাপশি জঙ্গিগোষ্ঠিরা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্যতম টার্গেট করেছে, সেহেতু আমরা আরো সতর্কতা অবলম্বন করছি। হেফাজত ইসলামের ঘটনার পর পুলিশের স্থায়ী স্থাপনাগুলোতে আমরা নিরাপত্তা জোরদার করে সেখানে চৌকি বসিয়েছি। আর সাইনবোর্ডের ঘটনার পর থেকে আমরা অস্থায়ী স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’


