গরীব বৃদ্ধকে বিপদে ফেলে বিপাকে আইয়ুব আলী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২১, ০৭:০৯ পিএম
কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য বেকায়দায় পড়েছেন তিনি নিজে এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফা জহুরা। কাশীপুরের সত্তুর বছরের অসহায় বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ তার পরিবার নিয়ে ক্ষুধার জ্বালায় খাদ্য সাহায্য চেয়ে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করেন।
ফোন পেয়ে সাহায্য করার জন্য সেখানে যান ইউএনও আলিফা জহুরা। কিন্তু তিনি গিয়ে দেখতে পান ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ চার তলা বাড়ির মালিক। তখন তিনি ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে উল্টো এক’শ ব্যাগ খাবার জরিমানা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ফরিদ উদ্দিন আসলেই হতদরিদ্র। তাদের ছয় ভাই বোনের একটি পৈত্রিক চারতলা ভবন রয়েছে। সেই ভবনের ছয় ভাগের এক ভাগের মালিক তিনি। তাছাড়া বাড়িটিও পূরোনো। তিনি এই বাড়ির ছাদে একটি রুমে থাকেন। কোনো ভাড়া পান না।
এক সময় তিনি এক হোসিয়ারীর একজন কাটিং মাস্টার ছিলেন। বর্তমানে ওই হোঁসিয়ারিতে তিনি আট হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। তার এক মেয়ে মার্স্টার্স পড়ে এবং এক ছেলে প্রতিবন্ধী। ঘরে স্ত্রীও রয়েছে তার। ফলে সংসার চলে না। তাই তিনি সরকারের কাছে খাদ্য সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু উল্টো তাকে জরিমানা গুনতে হলো। ইউএনওর নির্দেশে সত্তুর হাজার টাকার খাদ্যপন্য কিনে তাকে বিতরণ করতে হয়েছে।
ফলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই অবিবেচনা প্রসুত কাজের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পরেছেন ইউএনও আরিফা জহুরা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী। নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন একজন ইউএনও হয়ে এভাবে তার ক্ষমতার অপব্যাহার করা ঠিক হয়নি। তার আরো ভালো করে জানা উচিৎ ছিলো। অপরদিকে একজন মেম্বার হয়ে আয়ুব আলী তার এলাকার একজন গরীব নীরিহ ব্যাক্তিকে সহযোগীতা করার পরিবর্তে উল্টো ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তাই তাদের এমন অদূরদর্শী কাজের খেসারত দিতে হবে বলে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন।


