লোড-আনলোডের নামে নিতাইগঞ্জে বিশাল ট্রাকের স্ট্যান্ড
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২১, ০৭:৪০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মন্ডলপাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের দুপাশে লোড আনলোডের নামে গড়ে উঠেছে ট্রাকের স্ট্যান্ড। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু সড়কের বিশাল অংশজুড়ে অবৈধ ট্রাকের স্ট্যান্ড থাকায়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
জানা গেছে, এখানে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এবং নাসিকের কার্যালয় অবস্থিত। তাই নিতাইগঞ্জকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একাধিক চিঠিও দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ডলপাড়া ও নিতাইগঞ্জের অবৈধ ট্রাকের স্ট্যান্ড, স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মন্ডলপাড়া পুল থেকে দক্ষিণ দিকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সারি সারি ট্রাক থামানো। তাই মূল সড়কের বেশির ভাগ জায়গাই দখল হয়ে যাওয়ায় অন্যসব যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরী হচ্ছে। নিতাইগঞ্জ মোড়ে সেলিম নামে এক ভদ্রলোক এ বিষয়ে বলেন, যানজটের জন্য নিতাইগঞ্জের রাস্তায় রিক্সা বা অন্য গাড়ি দিয়ে আমাদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। আর এর প্রধান কারণ এই ট্রাক স্ট্যান্ড। এসপি হারুন সাহেব থাকতে এখানে একবার উচ্ছেদ হয়েছিলো। তখন আমরা কিছুদিন ভালো ভাবেই রাস্তায় চলাচল করেছি। কিন্তু এখন আবার আগের মতো অবস্থা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাসিকের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ এ বিষয়ে বলেন, নিতাইগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় ট্রাকের অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে পুরো নগরজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের ভোগান্তী মাঝেমধ্যে অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিদেশ থেকে বড় বড় সংস্থার প্রতিনিধিরা আসেন। তখন সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের সামনে তারা এসব ট্রাকের স্ট্যান্ড দেখতে পায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের চোখে নারায়ণগঞ্জের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাই আমি মনেকরি দ্রুতই এই বিষয়টার একটা স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।
এদিকে সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে, সেই রিটের প্রেক্ষিতে নিতাইগঞ্জে অবৈধ স্ট্যান্ড না রাখার জন্য প্রশাসনকে হাইকোর্ট থেকে আদেশ দেয়া হয়। তাই এরপর বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও, কিছুদিন পর আবারো সেখানে রাস্তা দখল করে ট্রাকের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম এ বিষয়ে বলেন, নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন আটা, ময়দা ও চালের মিলগুলো প্রতিদিন যে পরিমাণে পণ্য আমদানি ও রপ্তানী করে তা ট্রাকে লোড আনলোডের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত বৈধ জায়গা নেই। তাই নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা সেখানে এক লাইনে গাড়ী রেখে পণ্য লোড আনলোডের কথা বলেছিলো। তবে মাঝেমধ্যে সেখানে রাস্তার পাশে দুই থেকে তিন লাইন করে ট্রাক রেখেও পণ্য লোড আনলোড করা হয়। এতে আমরা বিভিন্ন সময় সেখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবস্থাও গ্রহন করেছি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, নিতাইগঞ্জে ট্রাকের স্ট্যান্ড না রাখার বিষয়ে যদি হাইকোর্টের কোনো নির্দেশনা থেকে থাকে, তাহলে আমরা নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্যদের সেভাবেই নির্দেশনা দেবো, যেভাবে হাইকোর্ট বলেছে।


