Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অবৈধ টাকায় তিতাস কর্মকর্তা কর্মচারিদের পকেট ভারী

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম

অবৈধ টাকায় তিতাস কর্মকর্তা কর্মচারিদের পকেট ভারী
Swapno

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের নেপথ্যে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী; সচেতন মহলে এমন অভিযোগ পুরনো হলেও তা আলোচনায় এসেছে নতুন করে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নারায়ণগঞ্জ ডিভিশনের ফতুল্লা শাখার হিসাব সহকারী মাসুদ করিম মিন্টুর বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগের পর থেকেই তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়টি পূনরায় আলোচনায় এসেছে।

 

গত ২৩ মে জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তিতাসের ফতুল্লা শাখার হিসাব সহকারী মাসুদ করিম মিন্টুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মাসুদ করিম মিন্টু ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক ভবন ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তিতাসের ফতুল্লা জোনের হিসাব রক্ষক হলেও অবৈধ টাকায় নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মাসুদ। এসব অসাধু কর্মচারীদের কারণে ফতুল্লায় পর পর কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে বিস্ফোরণসহ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

এদিকে, কেবল হিসাব রক্ষক মাসুদই নন, তিতাসের অন্যান্য অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের তীর ছুড়ছে সচেতন মহল। অভিযোগ কারীদের মধ্যে একজন জানান, মাসুদ তিতাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম করে মাসে মাসে টাকা নিতো। তাই, অবৈধ সংযোগের অর্থ অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটেও যাওয়ার কথা! জেলাজুড়ে অবৈধ পন্থায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অসাধু মহলের পকেট ভারি হলেও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

 

সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে তিতাসের গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। তবে, ২০১৫ সালের পর নারায়ণগঞ্জ শহর কিংবা শহরতলীতে গড়ে উঠা অধিকাংশ আবাসিক ভবন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ। এমনকি বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা নিয়েও হচ্ছে অনিয়ম। ফলে বৈধ গ্রাহকদের প্রশ্ন, ২০১৫ সালের পর থেকে গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের সংযোগ এলো কোত্থেকে?

 

এদিকে, গত ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ এর একটি দল নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত তিতাসের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। দুদকের কাছে অভিযোগ ছিলো, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছে নারায়ণগঞ্জের তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে মাঠেও নেমেছিলো সংস্থাটি।

 

তবে, রহস্যজনক কারণে ওই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তা নিয়েও নানামুখি গুঞ্জন ছিলো সর্বত্র। এদিকে, অবৈধ সংযোগসহ ফতুল্লা জোনের হিসাব সহকারি মাসুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, ফতুল্লা জোনের হিসাব সহকারি মাসুদ করিম মিন্টুর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, ইতিপূর্বে মাদকের কারণে চাকরি গেলেও মাদক ছাড়েনি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নারায়ণঞ্জ ডিভিশনের ফতুল্লা শাখার হিসাব সহকারী মো. মাসুদ করিম মিন্টু। পূর্বে মাদক সেবনের দায়ে মাসুদ করিম মিন্টুর চাকরি চলে যায়। পরে হাইকোর্টে মামলা করে চাকরি ফিরে পায় মাসুদ। মাসুদ করিম মিন্টু গ্যাস কেন্দ্রীক নানা অপকর্মে লিপ্ত। গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে নানাভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতি করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকা থেকে তার বাৎসরিক আয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এ অবৈধ আয় দিয়ে নামে বেনামে ক্রয় করেছেন জমি ও ফ্ল্যাট।

 

এ অবৈধ আয়ের টাকায় মাসুদ বিভিন্ন রিসোর্ট ও তার নিজ বাসায় মাদকসহ নারী নিয়ে মনোরঞ্জন করে থাকে। সে প্রায় বাসা বাড়িতে ও কল-কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসিক ও বাৎসরিক টাকা আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ তিতাসের অভিযানে বিচ্ছিন্ন করা হলেও পরবর্তিতে টাকার বিনিময়ে তা পুণরায় সংযোগ দিয়ে আসছে মাসুদ। মাসুদ নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন চাকরি করার কারনে বদলী হলেও সে পূনরায় আবার বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জে যোগদান করে।  উল্লেখ্য, মাসুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত রোববার জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন