Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

যে কথা যায় না বলা

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২১, ১০:১৬ পিএম

যে কথা যায় না বলা
Swapno

মহামারী করোনা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে কেউ কারো নয়। একজন কর্তাকে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার জোগাড় করতে গিয়ে কতোটা কষ্ট করতে হয় তা দেখেছে উন্নয়নশীল দেশের মানুষগুলো। বিশ্বে এখনো করোনা বিদ্যমান। বাংলাদেশে হতদরিদ্র মানুষ খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মুখ ফুটে নিজের অভাবের কথা কাউকে বলতে পারে না। কোথাও সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে পারে না।

 

বাংলাদেশ সরকার মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ৩৩৩ নাম্বার প্রচলন করেছেন। কেউ ফোন করলে গোপনে তার কাছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খাদ্য পৌঁছে যাওয়ার কথা। দেশের অনেক মানুষ করোনাকালীন সময়ে সরকারের কাছ থেকে এমন খাদ্য সহযোগীতাও পেয়েছেন। তবে এর ব্যত্যয় ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরের নাগবাড়ি এলাকার ফরিদউদ্দিনের বেলায়। তিনি ৩৩৩ নাম্বারে খাদ্য সহায়তা চেয়ে ফোন করার পর তার বাড়িতে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা তহুরা উপস্থিত হয়েছিলেন।

 

বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন ৪ তলা ভবনের উপরে টিনশেডে বসবাস করেন। এটাই কাল হয়েছে ফরিদের জন্য। খাদ্য সহায়তা পাওয়ার স্থলে তাকে গুনতে হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। অথচ ফরিদ উদ্দিনের পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবার যোগ্য ছিল। স্থানীয় আউয়ুব আলী মেম্বারের তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ইউএনও ফরিদ উদ্দিনকে দন্ড দিয়েছে ১’শ মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য। ধার দেনা করে ফরিদ সেই খাদ্য কিনেছেনও। সেই খাদ্য সামগ্রী ইউএনও নিজ হাতে বিতরণও করেছেন। গোপনে যে সহযোগীতা পাওয়ার আশা করেছিলেন ফরিদ। অথচ এরচেয়ে আরো বেশি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তিনি।

 

প্রশ্ন উঠেছে, ইউএনও আরিফা তহুরা শুধুমাত্র একজন জনপ্রতিনিধির কথার উপর ভিত্তি করে কিভাবে একজন অসহায় পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অধিকার রাখে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সচেতনামূলক প্রচারণা বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচার হয়ে থাকে। এমন প্রচারনায় অনেকে হয়েছেন উপকৃত। বিশেষ করে ৯৯৯ ও ৩৩৩ নাম্বারে কল করার পর সেবা ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছেন অনেক পরিবারের কাছে। নিয়মিত এফএম রেডিও শুনতেন কাশিপুরের নাগবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন।

 

এফএম  রেডিওতে তিনি শুনতেন কিভাবে সরকারের পক্ষ থেকে মানুষ খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। সেই থেকে নিজে খাদ্য সহায়তা পেতে গত ১৯ মে তিনি ৩৩৩ নাম্বারে একটি কল করেছিলেন।  কল করার পর ২০ মে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা তহুরা ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে অবস্থান করেন। এসময় বৃদ্ধ ফরিদ ৪ তলা বাড়ি থেকে নেমেছিলেন। ইউএনও সাথে ছিলেন কাশিপুর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড আইয়ুব আলী। জনপ্রতিনিধি ইউএনওকে জানিয়েছিলেন বৃদ্ধ ফরিদ ৪ তলা ভবনের মালিক। ইউএনও কোনরকম যাচাই বাছাই না করেই আইয়ুব আলীর কথার উপর ভিত্তি করে ফরিদ উদ্দিনকে ১’শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। অন্যথায় জেল হাজতের কথাও বলেন তিনি। বৃদ্ধ ফরিদ উপায়ন্তর না পেয়ে সুদের উপর টাকা ধার,স্ত্রীর স্বর্ণ গয়না বিক্রি করে ১’শ মানুষকে খাদ্যসহায়তার জন্য সামগ্রীও ক্রয় করেছেন। সেই সামগ্রী ইউএনও নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিও করেছেন। অসহায় বৃদ্ধ ফরিদের অসহায়ত্বে কথা গোপন থাকেনি।

 

তবে ততোক্ষণে গোপনে তিনি যে খাদ্য সহয়তা চেয়েছিলেন তা ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।  সামাজিক মর্যাদা তার কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা একমাত্র তিনিই বঝিতে পারছেন।  প্রতিবন্ধী এক ছেলে ও কলেজ পড়–য়া এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় ফরিদ সামাজিক মর্যাদা বজায় রেখে যে খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলেন। তা সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।  ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে ফরিদ উদ্দিনকে সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যে টাকা দিয়ে তিনি মানুষের মাঝে খাদ্য মামগ্রী বিলি করেছিলেন সেই টাকাও তাকে দিয়ে দেয়া হয়েছে।  তবে যে সম্মানহানী তার ঘটেছে তা কি আদৌ পূরণ করা যাবে ? এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।  ইউএনও বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাকে যে তথ্য দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু আইয়ুব আলীও নিজের দোষ ঢাকতে বলছেন ভিন্ন কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ আইয়ুব আলী যা করেছেন তা অমানবিক ।

 

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম বেপারীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ২৬ মে  কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিনকে উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন