Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভুয়া পাসপোর্ট করতে আসা সেই রোহিঙ্গা তরুণী পলাতক

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২১, ০৬:১৬ পিএম

ভুয়া পাসপোর্ট করতে আসা সেই রোহিঙ্গা তরুণী পলাতক
Swapno

পুলিশি প্রতিবেদন উপেক্ষা, সঠিক নেই নাম-ঠিকানা তবুও জামিন মিলেছে রোহিঙ্গা তরুণী নূর তাজের (১৮)। নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া রোহিঙ্গা তরুণীর নুর তাজকে জামিন দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১০ হাজার টাকার বন্ডে দুইজন জামিনদারের জিম্মায় নুর তাজকে জামিন প্রদান করেন এবং একই দিন মামলার অপর এজাহারভূক্ত আসামী সুমন একই আদালত থেকে জামিন লাভ করে। পুলিশের তদন্তে আসামী রোহিঙ্গা তরুনী নুর তাজের নিকট থেকে জব্দ হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদও ভুয়া প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জানা গেছে, গত ২ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকাল সাড়ে  ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ওই তরুণীক আটক করা হয়। ওই সময় তরুণীকে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তায় করার অপরাধে সুমন নামের আরেক তরুণকেও আটক করা হয়েছিল। এই ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত নুর তাজ ও সুমনের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সাথে জালিয়াতি ও প্রতারণা করার অভিযোগ আনায়ন করা হয়।


 
এদিকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে আসে রোহিঙ্গা তরুণী নুর তাজের জামিন নিয়ে তৈরী হয়েছে ধুম্রজাল। ফতুল্লা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, জামিন লাভের পর থেকেই রোহিঙ্গা তরুণীর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে জামিনে বের হয়ে ওই তরুণী স্থায়ী আত্মগোপনে চলে গেছে।


 
নারায়ণগঞ্জের আদালতে দাখিল হওয়া পুলিশের একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পুলিশ গত মার্চ মাসে ৭ ও ৮ তারিখ মামলার আসামী মো. সুমন মিয়া ও রোহিঙ্গা তরুণী নুর তাজকে এক দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় রোহিঙ্গা তরুণী জানিয়েছিলেন, সে কক্সবাজারের টেকনাফ ব্যাস্তচুত (রোহিঙ্গা) ক্যাম্প থেকে এসে বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট এর দালাল মো. সুমন এর সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করার জন্য আবেদন করেন।

 

সে পুলিশকে জানিয়েছে তার বাবা-মা নেই, সে টেকনাফ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার পালিত মা আমেনার কাছে ছিল। রোহিঙ্গা তরুণী নুর তাজ দালাল মো. সুমন মিয়ার সহযোগীতায় বাংলাদেশের মিথ্যা নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভূয়া পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য জাল দলিলপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরী করে। ওই তরুণী এর আগেও সুমনের সহযোগীতায় তার ভাই আনোয়ার নামে আরো একটি পাসপোর্ট তৈরীর চেষ্টা করেছিল।


 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক সদস্য জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রোহিঙ্গা তরুণী বর্তমান টিকানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২৬১ জালকুড়ির ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য গত মার্চ মসের ৬ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) মিনারুল কাজী সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন ওই ঠিকানাটি সঠিক নয় এবং স্থনীয়রা নূর তাজকে চিনে না। র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর তরুণীর নিকট থেকে জব্দ করা জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র ভূয়া।
 
জামিনের বিষয়টি যোগাযোগ করা হয় নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো.আসাদুজ্জামানের সাথে। তিনি নথি পর্যালোচনা না করে কোন মন্তব্য করতে পারবেননা বলে জানান। 

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল (ভারপ্রাপ্ত) জানিয়েছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি জামিন আবেদনকারী আসামীর নাম ঠিকানা সংক্রান্তে নেগেটিভ মন্তব্য করেন সেহেতু আসামীর জামিন পাওয়ার আসা খুব ক্ষীণ। তবে বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন।


 
এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, নাম ঠিকানা যাচাইয়ের পূর্বে যদি কোন আসামীর জামিন লাভ করে, তাহলে ওই আসামীকে পরবর্তীতে খুঁজে পেতে অনেক বেগ পেতে হয় পুলিশের। তিনি জানান, জামিন নেওয়ার ক্ষেত্রে আসামীর পক্ষের আইনজীবীদেরও অনেক দায়িত্ব থাকে।

 

তিনি আদালতের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করতে চাইলে তিনি জানান, কোন আসামীর জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীর নাম ঠিকানা যাচাইপূর্বক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে এবং ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালতে তার নির্দেশনা প্রদান করে তাহলে বিষয়টি আরো সহজ হয়ে যায়। আর তা না হলে ভুয়া ঠিকানার আসামীদের পরবর্তীতে খুঁজে পেতে অনেক কষ্টো করতে হয়, অনেক সময় আসামীদের খুঁজেও পাওয়া যায় না, যা পরবর্তীতে মামলা তদন্তের জন্য বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

 

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘কোর্ট জামিন দিতেই পারে। সন্তুষ্ট হলে কোর্টের দেয়ার শতভাগ এখতিয়ার রয়েছে। বিচার এড়িয়ে পলাতক হবেনা এমর্মে জামিন দেয়া যেতে পারে। শিশু, নারী, অসুস্থ্য, বৃদ্ধ লোকের জন্য জামিনের বিষয়টি আইনে ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা হচ্ছে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে কোর্ট দেখে এবং দেখা উচিৎ। অপরাধের ধরণটা বড় হলেও এই চার শ্রেণির জন্য আদালত সহানুভূতিশীল থাকে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন