জ্যৈষ্ঠ মাসকে অনেকে মধুমাস বলেন। কিন্তু অভিধান ঘেটে যা পাওয়া যায় তাতে জানা যায় মধুমাস জ্যৈষ্ঠকে নয়, মধুমাস বলা হয় চৈত্র মাসকে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসকে মধুমাস না বললেও আমরা তাকে রসালো ফলের মাস বললে কিন্তু মোটেও ভুল হবে না। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, ডেউয়া, লটকন, জামরুল, তালসহ বিভিন্ন ধরণের রসালে এই মৌসুমী ফলের।
কৃষকের খেতে শোভা পায় আনারস, তরমুজ, বাঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরণের রসালো মৌসুমী ফল। রাস্তা দিয়ে হাটলে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে যখন এই ধরণের ফলগুলোকে ঝুলে থাকতে দেখা যায় তখন আশ্চর্য্য এক অনুভূতির সৃষ্টি হয় মনে। আর তখনই প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা এই বাংলার প্রতি ভালবাসা যেন আরো বেড়ে যায়।
তাই জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচন্ড গরমের কারনে যেমন মানুষ অতিষ্ট হয়ে যায়, তেমনি প্রকৃত এই ফলের মাস জ্যৈষ্ঠকে মানুষ আলাদাভাবে ভালবাসে তার রসালো ফলের জন্য। তাইতো বলা হয় রসালো ফলের মাস জ্যৈষ্ঠ। আর রসালো ফলের এই মাসে রসালো ফলের দৃশ্য দেখে কত কবি তার কবিতার উপাদান খুঁজে পান, কত গীতিকার তার গানের ছন্দ খুঁজে পায়।
এ সময় শহরের প্রধান বাজারগুলো এবং মহল্লাও গ্রামের বিভিন্ন বাজার ও অলিতে গলিতে ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে ফেরি করে বিক্রি কার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার রসালো ফল। আমের আবার বিভিন্ন জাত রয়েছে। যার মধ্যে বাজারে দেখা যায় ফজলি, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, জিলাপিভোগ, লক্ষণভোগ, মিছরিভোগ, সিঁদুরা, গিরিয়াধারী, বউভুলানী, জামাইপছন্দ, বাদশাভোগ, রানীভোগ, দুধসর, মিছরিকান্ত, রাজভোগ, মেহেরসাগর, কালীভোগ, সুন্দরীসহ বিভিন্ন জাতের আম। এসব আমের শুধু বাহারি নাম নয় আছে বাহারী স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণ। শোনা যায় এক সময় বাজারে প্রায় ৩০০ জাতের আম পাওয়া যেত তবে সেগুলো এখন আর তেমন দেখা যায় না। জ্যৈষ্ঠের প্রচন্ড তাপদাহে শহর মেতে উঠেছে প্রভৃতি পাকা ফলের মিষ্টি রসে। প্রচন্ড গরমে এইসব ফল আমাদের গরমের ক্লান্তি অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হলেও কালের বিবর্তনে এখন আর ষড়ঋতু তেমন একটা চোখে না পড়লেও গ্রীষ্মের গরম বর্ষার বৃষ্টি এবং শীতে ঠান্ডার পরশ আমরা ঠিকই বুঝতে পারি। শীতে যেমন সবজিতে বাজার সয়লাব হয় গরমে তেমনি বাজার ভরে উঠে রসালো ফলে। রসালো এই মৌসুমী ফলগুলো বৈশাখের শেষ দিক থেকেই বাজারে আসলেও মুলত জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে এগুলো পরিপক্ক হয় এবং খেতে সুস্বাদু হয়। এ সময়ে বাজারগুলোতে রঙবেরঙের ফলের এক অপরূপ দৃশ্য তৈরী হয়। করোনা মহামারিও ফলের বাজারে এবার তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বাজারে ফলের কোন কমতি না থাকলেও কিছু কিছু ফলের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আছে কিন্তু বেশকিছুই ফলের দামই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী।
তবে আমরা জ্যৈষ্ঠকে মধুর মাস না ই বললাম, কিন্তু প্রকৃতির রূপকে বিভিন্ন রঙিন ফলের রঙে সাজিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফলের স্বাদ ও বর্ণে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে তাতে আমরা জ্যৈষ্ঠ মাসকে অন্তত রসালো ফলের রানী বলতে কৃপণতা বোধ করতে পারি না। আমরা বলতেই পারি রসালো মাস জ্যৈষ্ঠে ফল ও রসে টইটুম্বুর।


