উদাসীনতায় নষ্ট কয়েক’শ কোটি টাকার সম্পদ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২১, ০৯:৫৭ পিএম
অযত্ন আর অবহলায় নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার পরিদপ্তরের কয়েক শক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষনে কোন উদ্যোগ না থাকায় শত কোটি টাকার ড্রেজার এখন জড়াজীর্ন অবস্থার পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে শহরের কিল্লারপুলে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার পরিদফতরে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার ওয়ার্কশপের বেহাল দশা । শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নোঙ্গর করে আছে বেশ কয়েকটি মাটি কাটার ড্রেজার। রয়েছে পুরোও বেশ কয়েকটি ড্রেজার। এর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ড্রেজার হলো (এসভি হালদা) ড্রেজার যার মূল্যে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অর্ধেক ডুবে আছে। যেই ড্রেজারটি ২০০৯ সালে সরকারি ভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে মেইনটেনেন্স করা হয়েছিলো।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে অর্ধেক পানির নিচে ডুবে গেছে বলে জানা যায়। শুধু তাই নয় আরো বেশ কয়েকটি ড্রেজার রয়েছে ঠিক একই অবস্থায়। এগুলো বেশীরভাগ ড্রেজারই প্রায় নষ্ট । হাতে গোনা বেশ কয়েকটা ছাড়া বাকী সব অকশন করা হয়েছে বলে জানা যায়। শুধু ড্রেজারই না ড্রেজারের পাইপসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে এগুলোও ফেলে রাখা হয়েছে অযত্নে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ ড্রেজারে সরকারের শত শত কোটি টাকার সম্পদ অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হওয়ার পথে।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি শত শত কোটি টাকা খরচ করে বানানো ড্রেজার ও পাইপসহ যন্ত্রপাতী নষ্ট হচ্ছে। বড় বড় কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি ও উদাসীনতার জন্য। এই ড্রেজারগুলো কিন্তু ভালো ছিলো এই গুলো দিয়ে এক সময়ে নদীর মাটি কাটা হয়েছিলো। এসভি হালদা ড্রেজারটি ভালো । ২০০৯ সালে এই ড্রেজারটি পূনরায় সংস্কার করাও হয়েছিলো। কিন্তু ড্রেজারগুলো জন্য যে লোকবল থাকার প্রয়োজন ছিলো তা নেই। এক বছর ধরে এই গুলো দেখাশুনার জন্য কোনে জনবল নেই। এইগুলো এইভাবেই অযত্নে নদীর তীরে পড়ে আছে। যদি লোকবল দিয়ে এই ড্রেজারগুলো দেখাশুনা করানো হতো তাহলে হয়তোবা এমনটা হতো না।
জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার পরিদফতরে একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। ওই ওয়ার্কশপে মেশিনের সংখ্যা মোট ১৮টি। যার মধ্যে একটি আর্টিক্যাল লেড মেশিন, যা পুরো বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র তিনটি। তবে মূল্যবান এই মেশিনটি দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলায়-অযতেœ পড়ে আছে। ওয়ার্কশপের দু’টি মেশিন সচল থাকলেও বাকি মেশিন পরে থাকতে থাকতে তাতে ধুলাবালি জমে গেছে। এ ছাড়া ১৮টি মেশিনের জন্য কর্মী রয়েছে মাত্র তিনজন। বাইরে পড়ে আছে কোটি কোটি টাকার পাইপ। আর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নোঙ্গর করে আছে বেশ কয়েকটি মাটি কাটার ড্রেজার। এর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ড্রেজার হলো এসভি হালদা, এসভি দুধকুমার, এসভি মনো, এসভি কর্ণফুলি। রয়েছে পুরোও বেশ কয়েকটি ড্রেজার। বছরের পর বছর এই ড্রেজারগুলো অবহেলায়-অযত্নে পড়ে আছে নদীর তীরে নোঙ্গর করে।
এবিষয়ে ড্রেজার পরিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, এইগুলো সব অকশনের দেওয়ার অনুমোদন হয়ে গেছে। কয়েকবার দেয়ার পরও লোক পাওয়া যায়নি। আবারও অকশন দেওয়া হচ্ছে। এগুলো শত কোটি টাকার ড্রেজার এক সময় ছিলো, এখন এগুলোর ভেল্যু ইস্কারাব। এসভি হালদা ড্রেজার সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হালদা ড্রেজার মেরামতের জন্য মন্ত্রলায়ণের অনুমোদন আছে এবং মেরামতের তালিকাও আছে। এটা প্রক্রীয়াধীন । আমার একটা উয়ং আছে পুনরায় সংস্কারের দায়িত্বে। উনি এগুলো নিয়ে কাজ করছে কোন কোন ড্রেজার গুলো সচল করা যায়। সেইগুলো নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, এসভি হালদা মেরামতের জন্য একটি কোম্পানীকে দায়িত্ব দেওয়া হইছে। বাজেট আসবে । তারপর এটি মেরামত করা হবে। তারআগে এইটার কোনো বাজেটে বরাদ্দ নেই। আর এর আগে এইটা মেরামতের এমন কোনো অনুমোদন আমরা পাইনি। আমরা এইটার একটি প্রক্রিয়া করতাছি। একটা সময়ে এগুলো সব চালু হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম শীতলক্ষ্যা নদীর নবীগঞ্জ ঘাটসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড, নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার পরিদফতর পরির্দশনে এলে ক্ষুব্ধ হন। এবং ওয়ার্কশপের বেহাল দশা দেখে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ওপর চটেন তিনি। সেই সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্কশপের এ অবস্থা কেন? আর্টিক্যাল লেড মেশিন কাজ করে না। এগুলো হয় কাজে লাগাবেন, না হলে ফেলে দেবেন। কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট করবেন না। তিনি বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার পরিদফতর উন্নয়নের জন্য কাজ কারছি। সবকিছু পরিদর্শন করে দেখেছি এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। আগামী মাসে আবার আসব। আমার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না জানার জন্য। এ ছাড়া আমাদের জনবল কম। সে লক্ষ্যে জনবল নিচ্ছে। আমি বলেছি যদি বাজেটের প্রয়োজন হয় তাহলে তা-ও দেয়া হবে। এ সময় ড্রেজার পরিদফতরের ফাইল ব্যবস্থাপনা ও স্টোরেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের নির্দেশনা দেন ।


