Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বিতর্ক বাড়ছে ছাত্রলীগে!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২১, ০৭:০৪ পিএম

বিতর্ক বাড়ছে ছাত্রলীগে!
Swapno

# অপকর্ম করে প্রশাসনের কাছে ধরা


# ধরা পড়লেই বহিঃষ্কার


# মাদকের সাথেও সংশ্লিষ্টতা অনেকের

একের পর এক বিতর্কে বিঁধছে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ। জেলা ও মহানগর থেকে শুরু করে উপজেলা কমিটিতেও একই চিত্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর ও উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিগুলোতে জায়গা হয়েছে বেশ কিছু মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী ও জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের, রয়েছে কিশোরগ্যাং লিডাররাও। পর্যায়ক্রমে এর সত্যতা মিলছে নানা অপকর্ম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অভিযানের মধ্যদিয়ে।   


জানা গেছে, গত ২১ জুন রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়সাল মিয়াকে ৮ কেজী গাঁজাসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-১ এক একটি দল। এসময় আজিম নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রলীগ নেতা মাদক মামলায় কারাগারে আছে। র‌্যাব বলছে, আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো ওই ছাত্রলীগ নেতা।  


এদিকে, মাদক ব্যবসারদ্বায়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূইয়া মাসুম। তবে, বহিস্কার করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে, কার হাত ধরে ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ন পদে আসলেন এই মাদক ব্যবসায়ী?


বিতর্ক ছড়িয়েছে সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগেও। গত ৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মদপানে অসুস্থ হয়ে ছাত্রলীগের তিন নেতা-কর্মীসহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, উপজেলার পোতাপের চরের আবুল হয়দারের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান বাবু, পিরোজপুর এলাকার আবু সিদ্দিকের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, ছাত্রলীগ কর্মী মহসিন মিয়া ও নাহিদ হাসান জিসান। মদপানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যুরপর তা নিয়ে দেশজুড়েই আলোচনা শুরু হয়। মাদকসেবীরা কিকরে সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে ঠাঁই পেলেন, সেই প্রশ্নও ছিলো সচেতন মহলের।


তথ্য বলছে, কেবল রূপগঞ্জ বা সোনারগাঁ উপজেলাতেই নয় বরং জেলা কমিটিতেও ছিলো মাদক কারবার, কিশোরগ্যাং লিডার ও জালজালিয়াতির সাথে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি। যারা জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন। এদের মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর ওকালতনামা, হাজিরা ও জামিননামা জালিয়াতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাইসুল আহমেদ রবিনকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ওই অভিযানে পালিয়ে যায় জেলা ছাত্রলীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শুভ্র। এর মধ্যে সোহানুর রহমান শুভ্র’র মাদক সেবনের একটি ছবি দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় প্রকাশ পায়। ওই ঘটনায় সাবেক ছাত্রনেতাদের সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড়ায় বর্তমান ছাত্রলীগের গোটা কমিটিই।


সোহানুর রহমান শুভ্র ও রাইসুল আহমেদ রবিন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আসলেও বিগত সময়ে তাদের দেখা যায়নি রাজনৈতিক অঙ্গনে। সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকে তাদের নাম জানতে পেরেছেন ওই অভিযানের পর। তা নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানিসহ অন্যান্য নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। ছাত্রলীগের কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে উঠেছিলো প্রশ্নও। যদিও, পরবর্তীতে  জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আজিজুল দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানিয়েছিলেন, বিতর্কিত জেলা ছাত্রলীগের উভয় সাংগঠনিক সম্পাদককে দল থেকে বহিস্কারের কথা।

 


তবে, এমন বিতর্কিতরা কোন উপায়ে জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে আসলেন, তা নিয়ে থেকে গেছে প্রশ্ন। জেলা আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রের প্রত্যক্ষ ইশারা ছিলো। ফলে ওই নেতার পুত্রকে খুশি রাখতেই তার পছন্দ মতো করা হয়েছে ছাত্রলীগের কমিটি। আর ওই কমিটিতে এমন বিতর্কিতদের ঠাঁই হলেও যোগ্যদের অনেকেই হয়েছেন বঞ্চিত।  

 


জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শুভ্র ও রাইসুল আহমেদ রবিন ছাড়াও পদধারী বেশ কিছু নেতাদের নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়া রেজা হিমেল, সহ-সভাপতি আরফান মাহমুদ বাবু, মহানগর ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মির্জা তোফা আহমেদ ওরফে স্বার্থক আহমেদ তোফা। তন্মধ্যে, সিনিয়র সহসভাপতি শাহরিয়া রেজা হিমেল ও তার চাচা মজিবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এক অসহায় পরিবারের সম্পত্তি দখল চেষ্টার। এমনকি হত্যার হুমকি, জমি দখল, মারধর, মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ একের পর এক অভিযোগে হিমেলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুধু কী তাই? প্রতিকার না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি ভুক্তভোগী পরিবার কাফনের কাপড় পড়ে  মানববন্ধনও করে।

 

তাছাড়া, ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও সস্তাপুর এলাকায় হিমেলের কিশোরগ্যাং বাহিনী রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরফান মাহমুদ বাবুর বিরুদ্ধেও রয়েছে কিশোরগ্যাং লালনের অভিযোগ। ইতিমধ্যে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর, পাইলট স্কুল ও খোঁজপাড়া এলাকায় বাবু ওরফে ভাগিনা বাবুর একাধিক অনুসারীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও হয়েছে। তাছাড়া, তার আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক কারবারের অভিযোগ। রয়েছে মামলাও।   

 

অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মির্জা তোফা আহমেদ ওরফে স্বার্থক আহমেদ তোফার ইয়াবা সেবনরত ছবি প্রকাশ পেয়েছে। ওই ছবিতে এই ছাত্রলীগ নেতাকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দেখা যায়। তোফা ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে তোলারাম কলেজে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে মারধর, চাষাঢ়া রেল স্টেশনে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমন বিতর্কিতরা ছাত্রলীগের কমিটিতে আসায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন