করোনাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি দৈন্য দশায় রয়েছে নিম্নবিত্ত পরিবার। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারা নিদারুন কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। করোনার শুরুতে যে দৈন্য দশায় ছিল মানুষগুলো,মাঝখানে কিছুটা স্বত্তি পেলেও করোনার কারনে ফের শুরু হয়েছে লক ডাউন। লক ডাউনের কারনে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। ঘরের কর্তা ব্যাক্তির অনেকেই চোখে পথ দেখে না। এরই মধ্যে আগামী সোমবার থেকে সাট ডাউনের কথা রয়েছে। এ অবস্থায় নিম্ন ও মধ্য বিত্তের মধ্যে চলছে হাহাকার।
নাম তার মহর আলী। ফতুল্লার বিসিক এলাকার পাশে তিনি বসবাস করেন। সংসারে রয়েছে এক ছেলে এক মেয়ে ও তার স্ত্রী। তার ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদ্রসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। করোনার কারনে মাদ্রাসা বন্ধ। স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন। করোনার কারনে গার্মেন্টস থেকে তাকেও ছাটাই করা হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জণ করার ব্যাক্তি তিনি। অভাবের সংসারে রিক্সা চালিয়ে কোনো রকম দিসযাপন করছিলেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে লক ডাউন। ঠিকমতো রিক্সাও চালাতে পারছেন না তিনি। প্রতিদিনই চলছে সংসারে অভাব।
মোহর আলী জানান, অভাবের তাড়নায় গাইবান্দা থেকে নারায়ণগঞ্জে পেটের টানে ছুটে এসেছিলেন পরিবার নিয়ে। কিন্তু না, চোখে যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শহরে এসেছিলেন তা করোনার কারনে এখন অন্ধকারে তলিয়ে গেছে । তার স্ত্রী বিসিকের একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করছিলেন। করোনার শুরুতে তিনিও তার চাকরী হারিয়েছেন। কোথায় যাবেন এখন কি করবেন এসব চিন্তায় রাতে ঠিক মতো ঘুমও হয়না তার। তিনি তার গ্রামের ভাষায় বলেন ‘অনেক কষ্টত আছে পরিবার প্রাণটা আর বাঁচেনা বাহে’।
পঞ্চবটি এলাকার একজন সব্জি বিক্রেতা বলেন,করোনা চলাকালীন সময়েও কষ্টে কেটেছে তার। পুনরায় লক ডাউনের কারনে তেমন বেঁচা কেনাও নেই। ভ্যান গাড়িতে করে সব্জি নিয়ে তিনি মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে বেড়ান। তবে আগের মতো বিক্রি নেই তার। তিনি আরো জানান, এভাবে লক ডাউন চলতে থাকলে হয়তো পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এভাবেই প্রতিদিন নিম্ন ও মধ্য বিত্ত পরিবারগুলোর জীবন কাটছে। সরকারী তহবিল বা স্থানীয় বিত্তশালী ব্যাক্তিরাও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না। ফলে হাহাকার বাড়ছে সর্বত্র।


