# নামে মডেল থানা, কর্মে পুরনো
ফতুল্লা মডেল থানা। বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত এই থানা এলাকা। এখানে যেমন রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠান তেমনি রয়েছে ঘনবসতি। গেল কয়েক বছর আগে এই থানাকে মডেল থানায় রুপান্তরিত করা হয়েছে। তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য এই থানাকে মডেল ঘোষণা করা হলেও আসামী গ্রেফতার, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানো অথবা রাতে এলাকায় টহল দেয়ার জন্য পুলিশের সরকারী তেমন বাহন নেই।
দিনে রাতে পুলিশকে টহল দিতে হয় রিকুইজিশন করা সিএনজি বা ইজি বাইকে চরে। ফলে দিনের চাইতে রাতের বেলা থানা পুলিশের অফিসারদের নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও দাবী করেছেন বেশ কয়েকজন। যার ফলশ্রুতিতে গত কয়েকদিন যাবৎ ফতুল্লা থানা এলাকায় রাতের বেলা ঘটছে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা। অনেকে মনে করেন, নামে ফতুল্লা থানা মডেল হলেও যানবাহন ব্যবহারে এখনো মান্দাতার আমলের নীতিতেই চলছে থানাটি। অপরদিকে দিনে ৮টি ও রাতে ১১টি টহল টিম থাকলেও দিনে এবং রাতে টহল টিমের সংখ্যা বাড়াতে হবে বলেও অনেকে মনে করেন।
গত কয়েকদিনে ফতুল্লা থানা এলাকায় বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাতে ইজি বাইক ছিনতাই, হত্যা, কাঁচামাল ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে সমানতালে। এছাড়াও বেশ কিছু এলাকায় ঘটেছে মারামারির মতো ঘটনাও। ফতুল্লা মডেল থানা এলাকাগুলোর মধ্যে এনায়েতনগর, কাশিপুর, ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তাবলী ইউনিয়ন উল্লেখ্যযোগ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে এনায়েতনগর, কাশিপুর ও কুতুবপুর এলাকায়। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম থেকে সাইনবোর্ড, পঞ্চবটি থেকে জামতলা, পঞ্চবটি থেকে কাশিপুর হাটখোলা, কাশিপুর হাটখোলা থেকে মধ্য নরসিংহপুর, কুতুবপুরের নয়ামাটি, নাককাটার মোড়, নন্দলালপুর, তক্কারমাঠ, পঞ্চবটি থেকে পাগলা মেরিএন্ডারসন এলাকায় রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংঘঠিত হয়। বিশেষ করে ছিনতাই ও হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো উল্লেখিত এলাকায় ঘটে থাকে।
এনায়েতনগর এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, রাতে পুলিশের একটি টহল টিম পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থান করে সেই টিমটি কাশিপুর হয়ে আবার পঞ্চবটি আসতে সময় লাগে ২/৩ ঘন্টা। এরমধ্যে যদি পঞ্চবটি এলাকায় ছিনতাইকারীরা অবস্থান করে তাহলে তারা বুঝতে পারে পুলিশে টহল টিমটি আগের স্থানে ফিরে আসতে সময় নেবে অনেক। আর এই সুযোগই গুলোই অপরাধীরা বেশি নিয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রতিদিনই কাশিপুর ব্রিজের উপর ছিনতাই হয়। প্রতিটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ভোর ৩ টা থেকে ভোর সাড়ে ৪ টার মধ্যে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি তেমন লক্ষ্য করা যায় না। একই সময় অক্টোঅফিস ঈদগাহর সামনেও একই স্টাইলে ঘটে থাকে ছিনতাই।
এছাড়াও খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড এলাকায়ও ঘটছে অহরহ ছিনতাইসহ হত্যাকান্ডের ঘটনাও। প্রতিটি এলাকায় পুলিশের টহল টিম যদি ঠিকমতো টহল দিতে পারতো তাহলে রাতের ফতুল্লা খুব নিরাপদ থাকতো। তিনি আরো বলেন, রাতে পুলিশকে অটো রিক্সা দিয়ে টহল দিতে দেখা যায়। একটি অটোরিক্সায় পুলিশ থাকলে যদি ছিতাইকারী মোটর সাইকেলে করে পুলিশের সামনে অপরাধ করে পালিয়েও যায়, সেক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করার থাকবে না। কারন একটি মোটর সাইকেলের সাথে ইজি বাইক গতির দিক থেকে কোনোভাবেই পেরে উঠবে না। ফতুল্লা মডেল থানা শুধু মাত্র নামে মডেল হয়ে আছে। পুলিশের ডিউটির সময় যে যানবাহন ব্যবহার করা হয় তা মান্দাতার আমলের মতোই।
এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার একজন উপ পুলিশ পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফতুল্লা থানাটি যে বিশাল এলাকা নিয়ে সে পরিমান যানবাহন নেই থানায়। ডিউটি গেলে পঞ্চবটি বাস স্ট্যান্ডে সিএনজি রিকুইজিশন করে এরপর ডিউটি করতে হয়। সিএনজি না থাকলে সে ক্ষেত্রে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে এক রাতে ২/৩টি ইজি বাইকে করে ডিউটি করতে হয়। নিজের দায়িত্বরত এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে সেখানে ইজি বাইকে করে যেতে অনেক সময় লেগে যায়, যার কারণে অনেক সময় বড় অফিসারদের কথাও শুনতে হয়।
পুলিশের টহল টিম যদি একটি এলাকায় একাধিকবার টহলে থাকতো তাহলে অপরাধীদের মাঝে কিছুটা হলেও ভয় কাজ করতো। কিন্তু একটি এলাকায় একবার টহল দিয়ে আসলে সে এলাকায় পুনরায় যেতে সময় লাগে ২/৩ ঘন্টা। পুলিশের নির্দিষ্ট গাড়ি ব্যবহার করা হলে অপরাধ অনেককাংশে কমে যেতো। এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, পুরো ফতুল্লা অঞ্চলে দিনে ৮টি ও রাতে ১১টি টিম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। দিনের চাইতে রাতে ৩টি টিম বেশি। ডিউটি পালন করার জন্য থানায় সরকারী গাড়ি রয়েছে মাত্র ৩টি। বাকি ডিউটিগুলো রিকুইজিশন করা গাড়িতে করে অফিসাররা করে থাকে। ফতুল্লা মডেল থানায় অফিসারদের ডিউটির জন্য যানবাহন অপ্রতুল রয়েছে মর্মে উর্দ্ধতন অফিসাররা অবগত আছেন। সরকারীভাবে গাড়ি বরাদ্দ হলে অফিসাররা মানুষের সেবা আরো ভালো ভাবে করতে পারবে বলেও তিনি দাবী করেন।


