প্রচেষ্টা আইভী’র, ক্ষমাপ্রার্থী শামীম
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২১, ০৮:৪২ পিএম
# উন্নয়নে সিদ্ধিরগঞ্জের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে ফতুল্লা
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লা এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের। আর এই আসনের সিদ্ধিরগঞ্জের উন্নয়নের দায়িত্ব হলো সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর। কারন সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার অন্তর্ভূক্ত হলেও এই থানা এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায়।
তাই সিদ্ধিরগঞ্জে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের তেমন কিছু করার নেই। এই বর্ষায় ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ দুটি এলাকায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। ফতুল্লার অবস্থা ভয়াবহ। বিশেষ করে ফতুল্লার ইসদাইর থেকে লালপুর পর্যন্ত বিশাল এলাকায় গত দেড় মাস ধরে পানি জমে আছে। এতে এসব এলাকার মানুষকে নিধারুন কষ্টের মাঝে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভাড়া দেয়া বাসাগুলি খালি পড়ে আছে। উল্টো মাসে মাসে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই হলো সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের এলাকার অবস্থা। এক কথায় ডিএনডির ভেতরে শামীম ওসমানের এলাকার প্রায় পূরোটাই বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। মানুষের ঘরে ঘরে পানি। যদিও এই অবস্থার জন্য এমপি শামীম ওসমান দূর্ভোগ কবলিত জনগনের কাছে গত রোববার ক্ষমা চেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় এমপি তার এই ব্যার্থতার জন্য ক্ষমা চান। বিপরিতে সিদ্ধিরগঞ্জেও প্রবল বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও পানি জমছে। বিশেষ করে ৭নং ওয়ার্ডে বৃষ্টির পানি জমছে। তারপরেও সিদ্ধিরগঞ্জের অবস্থা ফতুল্লার তুলনায় অনেক ভালো। কোথাও পানি জমলে সঙ্গে সঙ্গে সিটি করপোরেশন থেকে ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ঝাপিয়ে পরছে। প্রয়োজনে মেয়র আইভী নিজে ছুটে যাচ্ছেন। পানি নামানোর ব্যাবস্থা করছেন। এই হলো দুই এলাকার পার্থক্য। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের পূরোটাই হলো ডিএনডি প্রজেক্টের ভেতরে। সেনাবাহিনী সেখানে কাজ করছে।
ফলে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর দূর্ভোগ লাগবে এক সঙ্গে কাজ করছেন কর্তব্যরত সেনাবাহিনী এবং সিটি করপোরেশন। কিন্তু ফতুল্লার অবস্থা ভয়াবহ। তাই ফতুল্লাবাসী মনে করেন আর যাই হোক আইভী চেষ্ঠা করছেন। কিন্তু এমপি শামীম ওসমান তার এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এতোদিন কোনো চেষ্ঠাই করেননি। এরই মাঝে মানুষের যখন চরম ক্ষতি হয়ে গেছে তখন শামীম ওসমান বিদেশ থেকে এসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করলেন। যদিও তার প্রচেষ্ঠায় আগামী রোববার পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আসছেন। এবং শামীম ওসমান বলেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আসার আগেই যেনো ফতুল্লাবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করা হয়। এছাড়া তিনি আরো বলেছেন আগামী বর্ষায় তিনি ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা দেখতে চান না। তাই এখন দেখার বিষয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কথা মতো কাজ হয় কিনা?
এদিকে ফতুল্লাবাসীর দূর্ভাগ্য যে তারা একদিকে ডিএনডি প্রজেক্টে নেই, আবার তারা সিটি করপোরেশনেও নেই। তাই তাদের এলাকার এই জলাবদ্ধতা দেখার কেউ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো ফতুল্লা ডিএনডির ভেতরের অংশ হওয়ার পরেও কেনো অত্র অঞ্চলকে ডিএনডির আওতায় নেয়া হলো না। এই ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভূমিকা কি? এই ধরনের অপরিকল্পিত প্লান কারা করলো? বিপরিতে ফতুল্লাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায়ও যেতে দেয়া হচ্ছে না। রাখা হয়েছে ঢাল তলোয়ার বিহীন নীধিরাম সরদার ইউনিয়ন পরিষদের হাতে।
যে ইউনিয়ন পরিষদের কিছুই করার কোনো ক্ষমতা নেই। আর যেহেতু এসব কিছুর দায় শামীম ওসমান নিজেই নিজের কাঁধে নিয়েছেন তাই তাকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। তবে মানুষ যেটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা হলো সিদ্ধিরগঞ্জে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরে মেয়র আইভী আন্তরিক ভাবে চেষ্ঠা করছেন। বিপরিতে ফতুল্লায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ক্ষমা চাইছেন। এখন দেখার বিষয় তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রীকে আনার পর ফতুল্লা অঞ্চলের সমস্যা সমাধান হয় কিনা।


