নারায়ণগঞ্জে খাদ্য সহায়তা চেয়ে উল্টো শাস্তির মুখে পড়া সেই ফরিদ আহমেদ সকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে নতুন ভাবে জীবন সংগ্রাম শুরু করেছেন। অতীতকে পিছনে ফেলে জীবিকার তাগিদে নয় হাজার টাকা বেতনে স্থানীয় একটি হোসেয়ারী কারখানায় পলিম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন তিনি। নগরীর দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় এ.এম. আবুল হোসেয়ারী নামে একটি প্রতিষ্ঠানে তৈরী পোশাক প্যাকেট করছেন ফরিদ আহমেদ।
প্রতিষ্ঠানটিতে ফরিদ আহমেদ ছাড়াও আরো অনেক পোশাক শ্রমিক কাজ করছেন। রোববার সন্ধ্যায় ফরিদ আহমেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ত্রান বিরতনের জরিমানার টাকা ফিরত পাইয়া সব ঋণ পরিশোধ করেছি। এরপর থেকে আর কোন চাপ নেই। তিনি বলেন, স্ত্রী, মেয়ে ও প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে এখন অনেক ভালো আছি। তবে ঘটনার পর থেকে আত্মীয় স্বজনরা আগের মতো যোগাযোগ করে না কিন্তু তারপরও অনেক ভালো আছি।
ফরিদ আহমেদ বলেন, সাংবাদিকরা আমার ঘটনা মানুষের কাছে তুলে ধরছে তাই সত্য ঘটনাটা সবার নজরে আইছে। প্রশাসনও বুঝতে পারছে। তারা যাচাই বাছাই কইরা দেখছে আমি সত্য তাই আমার টাকা ফিরত পাইছি। এ জন্য সাংবাদিকদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। ফরিদ আহমেদ আরও বলেন, সব শেষ জেলা প্রশাসনের লোকজন বাসায় আইছিলো। তারা দেখছে আমার প্রতিবদ্ধী ছেলেরে। তাঁরা যাওয়ার সময় কইছিলো আমাগো সহযোগিতা করবো কিন্তু তারা যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করে নাই। খাদ্য চেয়ে হেনেস্তার মধ্য পড়া ফরিদের পরিবার আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।
তার স্ত্রী হিরন বেগম, মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক মাত্র ছেলে রিফাদ কে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। ফরিদের স্ত্রী হিরন বেগম বলেন, আমরা অনেক ভালো আছি। কখনো চিন্তা করি নাই সব জামেলা শেষ হইবো। আমরা এখন কারো কাছে ঋণ নাই। ওনি (ফরিদ) যে টাকা বেতন পায় তাই দিয়া কোন মতে সংসার চলে। তারপরও আল্লাহ ভালো রাখছে। ফরিদ আহমদ কে সাহায্যে আশ্বাসের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ফরিদ আহমদ একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বিধায় সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র দিলে তাকে সহায়তা করা হবে।


