Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদ হবে কবে?

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২১, ০৯:১৯ পিএম

চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদ হবে কবে?
Swapno

# গত রোজার ঈদের পরই বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর কথা ছিলো


# দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ, আমরা সহায়তা করবো : এসপি


# সড়ক জনপথের চিঠি পাইনি, কোভিড কমলে কার্যক্রম শুরু : ডিসি


# লকডাউনের পর কাজ শুরু করবো : সড়ক ও জনপথ

 

নানা আলোচনা-সমালোচনার পরও বন্ধ হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জের চাঁনমারি বস্তির মাদক ব্যবসা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চাঁনমারি বস্তিতে কয়েক যুগ ধরেই প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কারবার। পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশের পর অভিযান হলেও রহস্যজনক কারণে মাদক কারবারিদের টুঁটি চেপে ধরতে পারছে না প্রশাসন।

 

তাই চাঁনমারির মাদক নির্মূলে বস্তি উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি আজও। জানা গেছে, চাঁনমারি বস্তিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় গড়ে উঠেছে। বস্তির জায়গার বিষয়ে এযাবৎ তারাও ছিলো নিশ্চুপ। তবে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি ছয় লেনে উন্নিত করার কাজে রাস্তার দু’পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে। সেই হিসেবে চাঁনমারি বস্তির কিছু অংশও ভাঙ্গা পড়বে। তবে, ওই উচ্ছেদের সময়ে গোটা চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা নেয় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে, সড়ক ও জনপথের উচ্ছেদ কার্যক্রম সাইনবোর্ড থেকে চললেও চাঁনমারি বস্তির আগ পর্যন্ত গিয়ে থেমে আছে।

 

সচেতন মহল বলছেন, এতোদিনে চাঁনমারি বস্তিতো বটেই, গোটা চাষাঢ়া মোড় পর্যন্ত উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা অজানা কারণে সময় নিচ্ছেন। সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ই মে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গত রোজার ঈদের পরই বস্তিটি উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিলো। সেই লক্ষে ঈদের পরই একটি মিটিংও হওয়ার কথা ছিলো জেলা প্রশাসনের। ওই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো জেলা পুলিশ প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, সুশিল সমাজ এবং সংবাদ কর্মীদের। তবে, গত ১৪ই মে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে অধ্যবধি জেলা প্রশাসনের ওই মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। উপরন্ত পূর্বের ন্যায় চাঁনমারিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক বিক্রেতারা। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে বলেছিলাম যে, চাঁনমারি বস্তিতে মাদক ব্যবসা হয়। এই বস্তিটি রোডস্ এন্ড হাইওয়ের জায়গায়। এটা এখান থেকে উচ্ছেদ করার পক্ষে আমি মত প্রকাশ করেছিলাম। ওই মিটিংয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ অন্যান্য যারা ছিলেন, তারা বলেছিলেন যে ঈদের পরে সবাইকে নিয়ে মিটিং করে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু এখনো তা হয়নি। আমি মনে করি, এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির কাছে আমি আবহান করছি, তারা যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আর দীর্ঘদিন হলেও রোডস্ এন্ড হাইওয়ে এদিকটাতে উচ্ছেদ কার্যক্রম এখনো আগাতে পারেনি। আমরা তাদের উচ্ছেদ অভিযানে যত প্রকার আইনী সহায়তা প্রয়োজন, সেটা আমরা প্রদান করবো।’

 

জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিষয়ে রোডস্ এন্ড হাইওয়েকে বলেছি। তারা তাদের হোম ওয়ার্ক করছে। রাস্তার কাজে এমনিতেই দু’পাশে উচ্ছেদ হবে। কিন্তু যখন চাঁনমারির এদিকটায় উচ্ছেদ চলবে, তখন চাঁনমারির পুরো বস্তি উচ্ছেদ করা হবে। যেহেতু এই জায়গাটি তাদের, সেহেতু তারা আমাদের কাছে চিঠি দেবে। আমরা এখনো তাদের চিঠি পাইনি। মূলত রোডস্ এর পক্ষ থেকে একটি চিঠি আসবে আমাদের কাছে। এর মধ্যে আমরা কোভিডের মধ্যে পড়ে গেছি। এই অবস্থার মধ্যে আমরা অন্যদিকে মাথা ঘামাতে পারছি না। তবে, আমরা আশা করছি যে, কোভিডটা কমে গেলে এসব কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

 

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহেদী ইকবাল দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এখন করোনার কারণে লকডাউন চলছে। তাই কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। আর রাস্তার কাজের জন্য পুরোটাই উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি বস্তিটাও উচ্ছেদ হবে। আমরা প্রপোজাল প্রস্তুত করছি। লকডাউন গেলে আমরা এটা শুরু করবো। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ আমাদের মেজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করা হবে। আমরা প্রস্তাবকারি। আমাদের পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার নেই। তাই লকডাউন বা অন্যান্য বিধিনিষেধ শেষ হলেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়েই আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাবো।’

 

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়টি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন চাঁনমারি বস্তির পাশে অবস্থিত। একই স্থানে রয়েছে আদালতপাড়া ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়। অথচ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আদালত পাড়া ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের পাশে চাঁনমারী বস্তিতে চলছে নির্বিঘ্নে মাদক কেনা-বেচা। কয়েক দশক ধরে এই চাঁনমারি বস্তিই মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও অদৃশ্য কারণে চাঁনমারিতে মাদক ব্যবসার মূল উৎপাটন করা যাচ্ছে না। রাস্তার পাশে মাদক নিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রেতাদের হাকডাক দিতে দেখা যায়। প্রশাসনের অভিযান চললেও এখানে মাদক নির্মূল হচ্ছে না। সকালে অভিযান চললে দুপরেই জমে উঠছে মাদকের হাট।

 

সূত্র বলছে, চাঁনমারী এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত। আর ৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। যিনি প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। মাদক বিক্রেতাদের বাড়ি থেকে তুলে এনে শায়েস্তা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন বারংবার। তবে, সেই শামীম ওসমানের বাড়ির কাছাকাছি চাঁনমারী এলাকার অবস্থান হলেও ওই স্থান থেকে মাদক নির্মূলে তাকে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না বলে অনেকেই প্রশ্ন তুলে থাকেন। নগরবাসী বলছেন, শহরের টানবাজার এলাকার পতিতালয় শামীম ওসমান কঠোর হস্তে উচ্ছেদ ও পূনর্বাসন করলেও তার নিজ আসনে অবস্থিত চাঁনমারীতে এমন মাদকের হাট কেন নির্মূল করছেন না- তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন