# এই প্রশ্ন অবহেলিত ফতুল্লাবাসীর
কোথায় সেই নতুন বৌ আর স্কাই সিটি? শামীম ওসমান বলেছিলেন তিনি যদি এমপি নির্বাচিত হন তাহলে ফতুল্লাকে তিনি নতুন বৌ এর মতো করে সাজাবেন। উন্নত বিশ্বের আদলে স্কাই সিটি হিসাবে গড়ে তুলবেন ফতুল্লাকে। এমন কথা তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ও বলেছিলেন যখন তিনি এই সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সিটি নির্বাচনে তিনি মেয়র আইভীর কাছে হেরেছেন।
তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে হারার পরেও সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু ফতুল্লার তেমন কোনো উন্নয়ন তিনি করতে পারেননি। কিছু রাস্তা পাকা করলেও সেই সকল রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকে ছয় মাস। এই মুহুর্তে ফতুল্লার বিশাল এলাকায় জলাবদ্ধতার কারনে চরম দূর্ভোগের মাঝে রয়েছেন ফতুল্লার মানুষ। একজন এমপি হিসাবে শামীম ওসমানের উন্নয়নের অধিক্ষেত্র ফতুল্লার মাত্র পাঁচটি ইউনিয়ন। কারন সিদ্ধিরগঞ্জ তার নির্বাচনী এলাকা হলেও সিদ্ধিরগঞ্জের উন্নয়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের মেয়রের হাতে। সেখানে শামীম ওসমানকে কিছু করতে হচ্ছে না।
অথচ এই পাঁচটি ইউনিয়নে তিনি চোখে পরার মতো তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়ন হলো কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা, কুতুবপুর এবং বক্তাবলী। আর এই পাঁচটি ইউনিয়নের মাঝে তিনটিতে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের বসবাস করা একেবারে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এনায়েতনগর, ফতুল্লা আর কুতুবপুরে তীব্র জলাবদ্ধতা হচ্ছে। ফলে এই তিনটি ইউনিয়নে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ এখন একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাই এসব এলাকার মানুষ এখন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে অভিশাপ দিচ্ছে। এলাকাবাসীও নিজেদেরকে অভিশপ্ত মনে করছেন। তারা তাদের এই দুর্ভোগের জন্য সম্পূর্ণরূপে শামীম ওসমানকেই দায়ী করছেন। তারা মনে করেন তাদের এমপি শামীম ওসমান এলাকার উন্নয়ন নিয়ে চরম গাফিলতি করেছেন। উন্নয়নের নামে তিনি যা করেছেন তাতে হয়তো ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি নিজে এবং তার কিছু অনুসারি লাভবান হয়েছেন।
তাই ফতুল্লাবাসী জানতে চান শামীম ওসমান কেনো অতীতে তাদেরকে এসব মিথ্যা প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। আবার পূরো এলাকাকে ডুবিয়ে এখন কেনো তিনি ক্ষমা চাইছেন? তবে অনেকে মনে করেন শামীম ওসমান যে জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগের কারনে জনগনের কাছে ক্ষমা চাইলেন এটাই বেশি। তিনি ক্ষমা না চাইলেই বা কার কি করার ছিলো? তবে তিনি যাই বলেন না কেনো এখন আর মানুষ তার কোনো কথা বিশ্বাস করেন না। কারন এরই মাঝে প্রমান হয়ে গেছে তিনি যে জনগনের উন্নয়নের ব্যাপারে মোটেও সিরিয়াস নন। যদিও তিনি বলেছেন আগামী বর্ষায় আর তিনি ফতুল্লায় কোনো জলাবদ্ধতা দেখতে চান না। কিন্তু তিনি যদি এই কথা অন্তর থেকে বলে থাকেন তাহলে তাকে এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক কাজ করতে হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে আসলে কোথায় কি কাজ হচ্ছে তাকে সেটা তদারকি করতে হবে। তার কোনো লোক দিয়ে এটা তদারকি করালে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বরং আগামী বছর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলেই এলাকাবাসী মনে করেন। এছাড়া ফতুল্লাবাসী এখন আর শামীম ওসমানকে তাদের আপন লোক মনে করেন না। কারন তারা প্রমাণ পেয়েছেন ফতুল্লার জন্য শামীম ওসমানের কোনো আন্তরিকতা নেই। বরং ফতুল্লাকে শামীম ওসমান তার ব্যাক্তিগত উন্নয়নের সিড়ি হিসাবে ব্যাবহার করছেন।
তাই অত্র এলাকার সকলের একটাই প্রশ্ন, কোথায় সেই নতুন বৌ? আর কোথায় সেই স্কাই সিটি? তারা আরো মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের চারজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। এরা হলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী, রূপগঞ্জের এমপি ও মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী ও আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এই চারজনের মাঝে উন্নয়নের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে কেবল শামীম ওসমানের এলাকাটি। ফলে একেবারে অসহায় হয়ে পরেছেন ফতুল্লার জনগণ।


