আশা দেখাচ্ছে ১৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২১, ০৭:১৫ পিএম
# বরাদ্দ চাওয়া হয় ২০১৯ সালে, সম্ভাবনা ২০২১’এ
# ফতুল্লাকে ৩টি জোনে ভাগ করে পরিকল্পনার ছক
# ৬৯টি ড্রেনের দৈর্ঘ্য ৪৩ হাজার ৮৪৭ মিটার
ডিএনডি অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও প্রজেক্টের আওতাভুক্ত হয়নি ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী, টাগারপাড় ও লালপুর এলাকা। ফলে ১২৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ের মেগা প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না ডিএনডি অধ্যুষিত এসব এলাকায়। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার জলাবদ্ধতার চিত্র নিয়ে গণমাধ্যমে ধারবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের।
এদিকে, ডিএনডি প্রজেক্টের সাথে এসব এলাকা যুক্ত করা যাবে কিনা, এর উত্তর মিলবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আগামী রোববার ফতুল্লায় আসার পর। যদিও এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তবে, লালপুর ও ইসদাইরসহ ফতুল্লার অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে বিকল্প পথও পন্থাও বেছে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ফতুল্লার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এলজিইডি’র আওতায় ১৭৫ কোটি টাকার বরাদ্ধ আসছে। এই প্রকল্পের আওতায় ফতুল্লায় অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। মূলত, এসব এলাকার ড্রেনগুলো পূনঃনির্মাণের পর তা সংশ্লিষ্ট খালের সাথে সংযোগ করা হবে।
এর ফলে জলাবদ্ধতা প্রবণ এসব নিচু এলাকার পানি ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে খালে চলে আসলে খালের মাধ্যমে তা নদীতে গিয়ে পড়বে। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধান তথা পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে লালপুর, ইসদাইর, গাবতলী ও টাগারপাড়সহ ফতুল্লার অন্যান্য এলাকায় যেই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা নির্ভর করছে এলজিইডি’র ১৭৫ কোটি টাকার ওই বরাদ্ধের উপর।
জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে এলজিইডি’র ওই বরাদ্ধ চাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ২০২১ সালে এসে ওই বরাদ্ধ পাওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে। সভায় উপস্থিত এলজিইডি’র ইঞ্জিনিয়ার জানান, ১৭৫ কোটি টাকার ওই প্রস্তাবিত প্রকল্পে ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৬৯টি ড্রেন নির্মান হবে। এসব ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪৩ হাজার ৮শ’ ৪৭ মিটার। এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য ফতুল্লাকে ৩টি জোনে ভাগ করে পরিকল্পনার ছক তৈরী করা হয়েছে। এসব ড্রেনের সংযোগ ডিএনডির অভ্যান্তরিণ খাল, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশবে। তিনটি জোনের মধ্যে প্রথমটি কুতুবপুর। এই ইউনিয়নে ড্রেন হবে মোট ২২টি। ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ১২ হাজার ২০ মিটার।
এই ড্রেনগুলো কুতুবপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে কংশ খালের সাথে মিশে শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি নামবে এবং কুতুবপুরের পশ্চিম অংশের ড্রেনগুলো মিশবে বুড়িগঙ্গা নদীতে। দ্বিতীয় জোনে রয়েছে ফতুল্লা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নটিতে ড্রেন হবে ১৬টি। এখানে প্রস্তাবিত ড্রেনের দৈর্ঘ্য ১৯ হাজার ৮২৭ মিটার। এসব ড্রেনের কিছুটা নলখালি খাল এবং কিছুটার সংযোগ হবে বুড়িগঙ্গা নদীতে। তৃতীয় জোনে রয়েছে কাশিপুর, এনায়েতনগর ও বক্তাবলী এলাকা। এর মধ্যে কাশিপুর ও এনায়েতনগরে ড্রেনের পরিমান ৩০টি এবং বক্তাবলীতে ১টি। এসকল ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ১২ হাজার মিটার। এর মধ্যে বাবুরাইল খাল ও কাশীপুর এনায়েতনগরের কিছু ড্রেন ধলেশ্বরী নদীতে সংযোগ স্থাপন করেছে।
জানা গেছে, কেবল ড্রেনই নয়, পাশাপাশি গ্রাম সড়ক ও ফুটপাতের উন্নয়ন এবং নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে ওই প্রকল্পের আওতায়। এদিকে, ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী, টাগারপাড় ও লালপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার কয়েকটি কারণ সনাক্ত করেছে সেনাবাহিনী। এগুলো হলো, ইসদাইর এলাকা দিয়ে রেলপথের ডাবল লাইনের কাজে পানি পাস হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় যত্রতত্র খাল ও ড্রেনের ময়লা ফেলা, খালের সাথে ড্রেনের সংযোগ না থাকা বা খালের তুলনায় এলাকাগুলোর ড্রেন নিচু হয়ে যাওয়া এবং ইসদাইর এলাকা দিয়ে এক সময়ের বহমান খাল দখল হয়ে যাওয়া। জানা গেছে, এক সময়ে ইসদাইর, গাবতলী ও লালপুর এলাকার পানি এই খাল হয়েই বেরিয়ে যেত।
তবে, ডিএনডি এলাকার অভ্যান্তরিণ খাল হওয়া সত্বেও তা ডিএনডি প্রজেক্টের আওতাভুক্ত হয়নি। এর কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তারা ইতিপূর্বে জানিয়ে ছিলেন, এই খালটি সিএস ও আরএস জরিপে না থাকায় তা নকশাভুক্ত হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালটি এস.এ জরিপের ম্যাপে উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে একসময়ের প্রবাহমান খাল পরবর্তীতে কেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশায় উঠে আসেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও উত্তর মেলেনি কোথাও। তবে, ডিএনডি প্রজেক্টের সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা সরেজমিনে খালটির বিষয়ে আদ্যপান্ত জেনে তা নথিভুক্ত করেন এবং গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভায় এই বিষয়টি উপস্থাপন করেন। ফলে, দখল হয়ে যাওয়া এই খালটি উদ্ধার করার আভাস পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
এদিকে, গতকালের সভায় সকলের কণ্ঠে উঠে আসে সমন্বয়হীনতার অভাব। কোন দপ্তরই অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কাজ করেন না। এর ফলে উন্নয়ন কাজ হলেও শুরু হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। গতকালের সভায় উঠে আসে এসব তথ্য। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, ডিএনডি প্রজেক্ট এর কর্মকর্তা তাকবিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তা, এলজিইডি, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা, সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী, ডিপিডিসির প্রকৌশলীসহ অন্যান্য সরকারী বিভাগের কর্মকর্তারা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাড. খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ-নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন, থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক প্রমূখ।


