Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২১, ০৮:২২ পিএম

উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে
Swapno

# এখন পর্যন্ত ফতুল্লায় কোন ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেই


# জলাবদ্ধতার এই কষ্ট বছরের পর বছর


# মানুষের এই কষ্ট দীর্ঘদিনের, জানতেননা এমপি

 

দীর্ঘদিন ফতুল্লার মানুষ কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তা নিয়ে টনক নড়েছে সেখানকার স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের। তবে এতোদিন সমস্যা সমাধানের তেমন তৎপরতা না দেখালেও এবার স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পর দৃশ্যমান কিছু করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে আশানুরূপ ফল আশার আগেই আবারো ক্ষণে ক্ষণে সিটি করপোরেশন এলাকার কিছু ব্যাপারেও ঈঙ্গিত করতে দেখা গেছে সাংসদ শামীম ওসমানকে।

 

সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকবছর ধরে টানা জলাবদ্ধতায় কষ্ট করছে ফতুল্লাবাসী। নানা দপ্তরের উদাসীনতায় সেই দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুন। তবে সেসববে আমলে নেননি এমপি শামীম ওসমান। ফতুল্লার এলাকার তুলনায় সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে কয়েকগুন বেশি। আর সেটিই যেন নিতে পারছেননা এমপি শামীম ওসমান। ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি সভায় এমপি শামীম ওসমান আকার ইঙ্গিতে সিটি করপোরেশনকেই যেন দুষছেন। কখনো বলছেন, সিটি এলাকার ড্রেন সেখানে শেষ হওয়ায় ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে? গতকাল জলবদ্ধতা নিরসনের দ্বিতীয় দফার সভাতেও শামীম ওসমান তেমনটি বলেছেন। অবশ্য সিটি করপোরেশনের উপস্থিত কর্মকর্তা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের যে ড্রেনটি সেখানে শেষ হয়েছে তা অন্য ড্রেনের সাথে সংযোগ করে দেয়া হবে। এতোটুকুতেও সীমাবদ্ধ হলেও চলতো।

 

শামীম ওসমান সভায় সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে জালকুড়ি ডাম্পিং প্রজেক্টের ব্যাপারেও কথা বলেছেন। তিনি বলছেন, ২০১৮ সালে তৈরি ডাম্পিং প্রজেক্টের কাজ শেষ হতে এতো সময় লাগছে কেন? তিনি পরোক্ষভাবে সেখানকার জমি অধিগ্রহণ নিয়েও বাঁকা ইঙ্গিত করেছেন। সূত্র জানিয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিটি করপোরেশনকে কম ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়নি। এরপরে সিটি করপোরেশন নাসিক ১৮নং ওয়ার্ডে বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করতে পেরেছিল। এছাড়া জালকুড়ির প্রজেক্টও সেই বছরেই হাতে পায়। সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং করা নিয়ে শামীম ওসমানের যদি এতোই আক্ষেপ থাকে তবে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর নির্বাচনী এলাকার বর্জ্য কোথায় ডাম্পিং হচ্ছে।

 

সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের থেকে ফতুল্লায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ খাদের যে ডাম্পিংয়ের জায়গা দিয়েছিলো তাতে রাস্তা না থাকায় বর্জ্যব্যবস্থাপনার কর্মীরা সেখানে বর্জ্য ফেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া এনায়েতনগর এবং কাশীপুর এলাকার দুটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে ডাম্পিং করা শুরু করলে সেখানকার স্থানীয় মানুষ ও চেয়ারম্যানেরা বাধা প্রদান করে। এনিয়ে ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান স্বপনও কম অভিযোগ করেননি। ফতুল্লা এলাকায় এখন অবধি বর্জ্য ডাম্পিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। সদ্য সমাপ্ত সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে,  যেখানে ফতুল্লা এলাকাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত সেসবের সমাধান না করে সিটি করপোরেশনকে নানাভাবে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। আদতে এটি যেন উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর মতো অবস্থা। 

 

সূত্র আরো জানিয়েছে, জালকুড়িতে সিটি করপোরেশনের ২৩ একর জায়গায় বর্জ্য ডাম্পিংয়ের যে প্রজেক্টটি হচ্ছে তা এই পর্যন্ত আনতে সিটি করপোরেশনকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। সেসময় সিদ্ধিরগঞ্জের এই প্রজেক্ট নিয়ে শামীম ওসমান টু শব্দটিও করেননি। উল্টো লিংক রোডের পাশে যে বর্জ্য ফেলা হয় তা নিয়ে ঢালাওভাবে সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করেছেন তিনি। যদিও সিটি করপোরেশন বরাবর এটি অস্বীকার করেছে। শামীম ওসমান আবারো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গটি টেনে আনায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ফতুল্লা অঞ্চলের বর্জ্য এখন অবধি ডাম্পিং হচ্ছে কোথায়? 

 

সূত্র জানায়, ডিএনডি প্রজেক্টে ৫৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর এটি নিয়ে বেশ উচ্ছস্বিত ছিলেন এমপি শামীম ওসমান। পরবর্তীতে এই অর্থের পরিমান আবারো বাড়ানো হয়। তাহলে ফতুল্লার যেসব এলাকা এখন জলাবদ্ধতায় শিকার হচ্ছে সেসব এলাকা কেন ডিএনডি প্রজেক্টের আওতায় আনা গেলনা তা নিয়েও প্রশ্ন কম উঠছেনা। যদিও এমপি শামীম ওসমান ফতুল্লার জলাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এরপরেও আরো একটি কথা উঠছে, তাহলে ডিএনডি প্রজেক্টে যে ফতুল্লার মানুষ উপকৃত হবেনা এটি নিয়ে কি তার কোন মাথাব্যথা ছিলোনা। এখন জনরোষের মুখে আবারও এই সমস্যা সমাধানে নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

 

যদিও এমপি শামীম ওসমান জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রথম সভায় স্বীকার করেছেন, তিনি এব্যাপারে এক্সপার্ট নন। তবে ডিএনডি প্রজেক্ট হলে ফতুল্লাবাসী কী ধরণের সুবিধা পাবেন এমন প্রশ্ন তো তিনি তুলতেই পারতেন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। সূত্র জানায়, এমপি শামীম ওসমান আসলে এখনকার চর্তুমুখী জনরোষে সবকিছু গুলিয়ে ফেলছেন। কখনো সিটি করপোরেশন আবার কখনো জেলা পরিষদকে ইঙ্গিত করে টিপ্পনী কাটছেন। আদতে তা না করে যদি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কথা ভেবে উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চিন্তা করতেন তাহলে এখন লাখো মানুষের এতো কষ্ট পোহাতে হতোনা।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন