Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

প্লাস্টিক ও কেমিক্যালে ভর্তি ছিলো জুসের কারখানাটি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২১, ০৮:২৮ পিএম

প্লাস্টিক ও কেমিক্যালে ভর্তি ছিলো জুসের কারখানাটি
Swapno

প্রচুর প্লাস্টিক দানা, বোতল, কর্ক, পলিথিন, কার্টুন, মোবিল ও খাবারের কেমিক্যাল ভর্তি ছিলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সেজান জুসের কারখানাটি। বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল থাকায় আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়েছে। শুক্রবার (৯ জুলাই) কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কেমিক্যালের ড্রাম, কন্টেইনার ও প্লাস্টিকের বোতল। কারখানাটিতে জুস, লাচ্ছি, সেমাইসহ বিভিন্ন পণ্য বোতলজাত ও প্যাকেটিং করা হতো। ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছিল বিভিন্ন কেমিক্যালের গোডাউন।

 


কারখানার শ্রমিক ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, কারখানাটি তিন শিফটে পরিচালিত হতো। সেখানে কাজ করতো প্রায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক। কারখানাটিতে জুসের কর্ক, লেভেল প্যাকেটিং’র কাজ করা হয়। বৃহস্পতিবার ৫টায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে নিচ তলায়। ভবনটির ছাদ থেকে ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। তবে জীবন বাঁচাতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে লাফ দিয়ে আহত হন। ক’জন নিহতও হন, যাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

 


অগ্নিনির্বাপণে জড়িত ফায়ার সার্ভিসের মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক ফায়ার ফাইটার বলেন, কারখানার ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার একই জায়গাতে সবাই মরে পড়েছিল। সেখান থেকেই মূলত অধিকাংশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ভবনটির প্রতিটি গেইটে কলাপসিবল গেইট দিয়ে তালা মারা ছিল। আবার প্রতিটি সিঁড়ি নেটের জাল দিয়ে আটকানোও দেখা গেছে। হয়তো ওপরে উঠার সিঁড়ির মুখে নেট দিয়ে আটকানো থাকায় অনেকেই ছাদে যেতে পারেননি। তা ছাড়া সামনে দিয়ে বের হওয়ারও সুযোগ ছিল না আগুনের কারণে। যে কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমরা কাজ করছি। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আগুন এখনো পুরোপুরি নির্বাপণ হয়নি। চেষ্টা চলছে। ভবনের চারটি ফ্লোর থেকে ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৩ জন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছে। এখন ডাম্পিং’র কাজ চলছে।

 

দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ডাম্পিং’র কাজ শেষ। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা বাকি। এই দুই তলা হচ্ছে কারখানার গোডাউন। তবুও আমরা ভবনে সার্চ করেছি, আশা করছি ভেতরে আর কোনও লাশ নেই। তবে কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে, এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই বা কত তা আগামী ১০ কার্যদিবসে মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন