Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

দুই ভরসায় শামীম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২১, ০৯:২৪ পিএম

দুই ভরসায় শামীম ওসমান
Swapno

# মন্ত্রীর আশ্বাস ও এলজিইডি’র ১৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প


ফতুল্লার সাধারণ মানুষ যখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত, তখন স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা সফরে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। এতে ফতুল্লাবাসীর সমালোচনার কাঠগড়ায় ছিলেন প্রভাবশালী এই সাংসদ। তবে, সর্বমহলে নিন্দিত হলেও দেশে ফিরেই জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে আঁটঘাট বেধে মাঠে নেমেছেন তিনি।

 

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, ডিএনডি প্রজেক্ট কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, রোডস্ এন্ড হাইওয়ে ও গণপূর্ত বিভাগসহ সকারের অন্যান্য দপ্তরের সাথে ইতিমধ্যে দুই দফা মিটিং করেছেন শামীম ওসমান। এসব মিটিংয়ে শামীম ওসমান প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন জলাবদ্ধতা দূর করার। জলাবদ্ধতা দূরকরণে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে সাতদিন পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও তিনি প্রস্তুত। অর্থাৎ লালপুর ও ইসদাইরসহ ফতুল্লার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন শামীম ওসমান।  

 

সূত্র বলছে, শামীম ওসমান এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন দুটি বিষয়ের উপর ভর করে। একটি হচ্ছে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক অপরটি এলজিইডি’র ১৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প। এই দুটি বিষয়ের উপর ভর করেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের আশা দেখছেন শামীম ওসমান। জানা গেছে, শামীম ওসমান দেশে ফেরার পর গত ৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ফোন করেন শামীম ওসমান। এসময় প্রতিমন্ত্রী শামীম ওসমানকেসহ অন্যান্যদের সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের কথা ভেবেই কিন্তু ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য এতো টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। প্রথমে ৫১৮ কোটি টাকা থেকে সেটা বাড়িয়ে ১২৯৯ কোটি টাকা করেছেন।

 

আমি মনে করি, ডিএনডিবাসি যাতে আরামে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষেই তিনি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। তাই বর্তমানেও যেই সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, আগামী রোববার সরেজমিনে এসে এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করে সেই সমস্যা দুর করতে আমি সক্ষম হবো বলে আশা করছি।’ মন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর ইসদাইর ও লালপুর এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধানের পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। অর্থাৎ লালপুর ও ইসদার এলাকা ডিএনডি প্রজেক্টের আওতাভুক্ত করার আভাস পাওয়া গেছে মন্ত্রীর আশ্বাসে।

 

অন্যদিকে, লালপুর ও ইসদাইর ছাড়াও ফতুল্লার অন্যান্য অঞ্চলেও রয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এসব এলাকার অভ্যান্তরিন ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর। ড্রেনের সাথে সংশ্লিষ্ট খাল বা নদীর সাথে সংযোগ নেই। তাই ফতুল্লায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পরিকল্পনা নিয়েছে এলজিইডি। পাশাপাশি গ্রামীণ কিছু সড়কও উন্নয়ন করার কথা জানিয়েছে এলজিইডি। গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিরসন কল্পে অনুষ্ঠিত সভায় সেই পরিকল্পনার কথাই জানান এলজিইডির প্রকৌশলী। এলজিইডি’র প্রকৌশলী জানান, ‘১৭৫ কোটি টাকার ওই প্রস্তাবিত প্রকল্পে ফতুল্লাজুড়ে মোট ৬৯টি ড্রেন নির্মান হবে। এসব ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪৩ হাজার ৮শ’ ৪৭ মিটার। এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য ফতুল্লাকে ৩টি জোনে ভাগ করে পরিকল্পনার ছক তৈরী করা হয়েছে। এসব ড্রেনের সংযোগ ডিএনডির অভ্যান্তরিণ খাল, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশবে।

 

তিনটি জোনের মধ্যে প্রথমটি কুতুবপুর। এই ইউনিয়নে ড্রেন হবে মোট ২২টি। ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ১২০২০ মিটার। এই ড্রেনগুলো কুতুবপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে কংশ খালের সাথে মিশে শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি নামবে এবং কুতুবপুরের পশ্চিম অংশের ড্রেনগুলো মিশবে বুড়িগঙ্গা নদীতে। দ্বিতীয় জোনে রয়েছে ফতুল্লা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নটিতে ড্রেন হবে ১৬টি। এখানে প্রস্তাবিত ড্রেনের দৈর্ঘ্য ১৯৮২৭ মিটার। এসব ড্রেনের কিছুটা নলখালি খাল এবং কিছুটার সংযোগ হবে বুড়িগঙ্গা নদীতে। তৃতীয় জোনে রয়েছে কাশিপুর, এনায়েতনগর ও বক্তাবলী এলাকা।

 

এর মধ্যে কাশিপুর ও এনায়েতনগরে ড্রেনের পরিমান ৩০টি এবং বক্তাবলীতে ১টি। এসকল ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ১২ হাজার মিটার। এর মধ্যে বাবুরাইল খাল ও কাশীপুর এনায়েতনগরের কিছু ড্রেন ধলেশ্বরী নদীতে সংযোগ স্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এলজিইডি’র ১৭৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠ ভাবে বাস্তবায়ন হলে ফতুল্লার অভ্যান্তরিন ড্রেনেজ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি এসব এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যাও থাকার কথা নয়। তাই এলজিইডি’র ওই প্রকল্পও আশ্বস্ত করছে শামীম ওসমানকে। এক্ষেত্রে  ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে যেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন শামীম ওসমান, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও এলজিইডি’র ওই ১৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে শামীম ওসমানের জন্য।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন