Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

‘মেয়েটা আমার পুইড়া মইরা গেলো’

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১, ০৮:৩৪ পিএম

‘মেয়েটা আমার পুইড়া মইরা গেলো’
Swapno

‘মেয়েটাকে আমি চাকরিতে দিতাম চাই নাই। আমার মায়ে কইলো একটা চাকরি করুক। অভিজ্ঞতা হইবো। কিছু পয়সাও পাওয়া যাইবো। আহারে মেয়েটা আমার পুইড়া মইরা গেলো।’ শুক্রবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গের সামনে এভাবেই বিলাপ করছিলেন হাশেম ফুড কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু বরণ করা কম্পা রানী বর্মণের বাবা পরভী চন্দ্র বর্মণ।

 

মেয়ের কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে সকালে মৌলভীবাজার থেকে ছুটে এসেছেছিলেন তিনি। চাকরিতে যোগদানের ৮ দিনের মাথায় হাশেম ফুডে অগ্নিকান্ডে কম্পারানী মৃত্যু হলো। মৌলভী বাজার থেকে রুপগঞ্জে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে চাকুরীতে যোগদান করেছিলেন তিনি। কম্পারানী বাবা মায়ের সাথে থাকতো মৌলভী বাজারে। মাত্র ১৫ দিন আগে মেয়েটি রুপগঞ্জে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। তার সাথে তার দাদী প্রভাতী রানীও এসেছিলেন।

 

ফুফুর বাড়িতে যেহেতু  মাস দুয়েক থাকবেন সেহেতু কম্পারানীকে চাকুরীতে দেয়া হয়েছিল। দু মাস কাজ করে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে সংসারটা কিছুটা হলেও ভালো চলবে ভেবেই চাকরীতে পাঠিয়েছিল দাদী ও তার ফুফু। তবে সেই আশা অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই  হয়ে গেছে। ৪ হাজার ৮’শ টাকা বেতনে চাকরী হয়েছিল কম্পার। প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ তলায় ললিপপ সেকশনে কাজ করতো সে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ের জন্য বিলাপ করছিল কম্পার বাবা পরভী চন্দ্র বর্মণ।

 

প্রসঙ্গত,রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন প্রায় চার শতাধিক কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়ক তৈরি করার প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন