জীবিত না হোক শিশু সন্তানের লাশটা পেতে চান ফজলুর
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৫ পিএম
উদ্ধার কাজ সমাপ্তির একদিন পরও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড এন্ড কারাখানার সামনে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন স্বজনরা। সকাল থেকেই দেখা গেছে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনটির সামনে কান্নারত স্বজনদের আহাজারি। এ ঘটনায় চলে গেছে ৫২ টি তাজা প্রান। আহত রয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। অনেকে রয়েছেন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন।
তবে স্বজনদের কাউকে কারখানার মূল ফটকের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। গতকাল দুপুরে হাশেম ফুড লিমিটেডের সামনে রাস্তার পাশে বসে কাঁদছিলেন ফজলুর রহমান। তার ১২ বছর বয়সী শিশু সন্তান হাসনাইন আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ। ভোলার চরফ্যাশন থেকে গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রওয়ানা হন তিনি। বরিশাল থেকে সাত হাজার টাকায় প্রাইভেট কার ভাড়া করে সকাল ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান। পেশায় তিনি ক্ষেতমজুর। ধার-দেনা করে ভাড়া জোগার করেছেন। ঢাকা মেডিকেলে ডিএনএ স্যাম্পল দেওয়ার পর আসেন রূপগঞ্জে।
ফজলুর রহমান বলেন, গত এক বছর যাবৎ তিনি অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। চিকিৎসার জন্য অর্থও নেই তার। একমাত্র ছেলে হাসনাইন বাবার দুরাবস্থা দেখে গত ঈদুল ফিতরের দশদিন পর পাশের গ্রামের মোতালেব নামে দুসম্পর্কের চাচার সাথে এসে রূপগঞ্জে হাশেম ফুড কারখানায় কাজ নেয় সে। গত বৃহস্পতিবারের আগুনের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ হাসনাইন। হাসনাইনের মা নাজমা বেগম বাসায় কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একাই রূপগঞ্জে এসেছেন বাবা ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট কইরা ঢাকায় আসছি। সেখান থেকে রূপগঞ্জে। ছেলে কোন কারখানায় কাজ করতো তাও জানি। আমার কষ্ট দেইখা আমার বাবায় ঢাকা আসছিল। তার কোনো খোঁজ পাইতেছি না। জীবিত না পাই অন্তত লাশটাও যেন পাই এই আশায় ঢাকায় আসছি। নিজের হাতে বাবারে যেন মাডি দিতে পারি।’ ফজলুর বলেন, কারখানার লোকজনের সাথে কথা বলতে ভেতরে ঢুকতে চেয়েছিলেন তিনি। ছেলে কোথায় পুড়ে মারা গেল সেটা অন্তত দেখতে চেয়েছিলেন। তবে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আগুন লাগার পর দীর্ঘ সময় কারখানায় আগুন থাকায় ৪৯ জন শ্রমিক আগুন পুড়ে লাশ হয়ে বের হয়। আগুন পুড়া লাশগুলো দেখে কার লাশ চেনার উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে ডিএনএ রিপোর্ট করে লাশ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য। অসহায় নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের লাশটাও বুঝে পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে স্বজনরা হাজির হয়েছেন মর্মান্তিক এক দাবি নিয়ে। অন্তত পক্ষে লাশের অংশ বিশেষ হলেও ফেরত চান এবং এ ঘটনায় জড়িডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্বজনরা।


