Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জঙ্গিদের অভয়ারণ্য নারায়ণগঞ্জ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২১, ০৮:০৯ পিএম

জঙ্গিদের অভয়ারণ্য নারায়ণগঞ্জ
Swapno

# একেরপর এক জঙ্গি তৎপরতায় শিরোনাম হচ্ছে না’গঞ্জ


# অভিযানের পরও নারায়ণগঞ্জেই তৎপরতা বেশি জঙ্গিদের


# শক্তির জানান দিতে জঙ্গিগোষ্ঠি, লক্ষ্য প্রশাসন


# আমরা সতর্কতা অবলম্বন করছি : এসপি


 
সম্প্রতি জঙ্গি তৎপরতার একাধিক আলোচিত ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এই জেলা ক্রমশই জঙ্গিদের অভয়ারন্যে পরিণত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে আবিস্কার হওয়া জঙ্গি আস্তানা এবং জঙ্গিগোষ্ঠিার সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতারের তথ্য সেই বার্তাই বহন করছে। তাই জঙ্গিদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলার যেই তথ্য জানিয়েছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো চিত্র। একেরপর এক জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে জেলার সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকেও।

 


এরই মধ্যে গত ১১ জুলাই রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দরের পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বোমা ও বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এর মধ্যে প্রথমটি আড়াইহাজার এবং দ্বিতীয় অভিযানটি হয় বন্দরের ধামগড় ইউনিয়ন এলাকায়।

 


সিটিটিসির কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার তিন জঙ্গির মধ্যে সামসি বারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ জুলাই বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বন্দরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। নাঈম বন্দরের এই বাড়িটিতে সপরিবারে বসবাস করতেন। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে এই বাড়িটিতে তিনি একাই বোমা তৈরি করছিলেন।

 


এর আগে রাত বারোটায় আড়াইহাজারের নোয়াগাঁও মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের কক্ষ থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ওই মুয়াজ্জিনের কক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করে সিটিটিসি।সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম জানান, গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রোববার বিকেলে আড়াইহাজারের মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বোমাটি আড়াইহাজারের এ বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল।

 


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, নিজেদের অস্তিত্ব ও শক্তির জানান দিতেই পুলিশ ফাঁড়িতে বোমা বিস্ফোরণ করতে চেয়েছিলো নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গী সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’। প্রায় ১ মাস ২৪ দিন পর গত রোববার সেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সহ বোমা উদ্ধার ও জড়িতদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতারও করেছে সিটিটিসি। বিগত সময়ের তথ্য বলছে, নানা কারণেই আলোচনায় থাকছে নারায়ণগঞ্জ। কখনো রাজনীতি, কখনো দুর্নীতি, কখনো ভয়াবহ দূর্ঘটনা আবার কখনো কখনো গুম, হত্যা ও সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবেও দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এই জেলা। এর মধ্যে বেশ কিছু জঙ্গী গ্রেফতার এবং তাদের আস্তানা আবিস্কারের মাধ্যমে জঙ্গীদের অন্যতম আবাস স্থলেও উঠে আসছে নারায়ণগঞ্জের নাম।

 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিপূর্বে সারাদেশে যখন জঙ্গি সংগঠনগুলো আস্ফালন দেখিয়েছিলো, তখন নারায়ণগঞ্জে কঠোর তৎপরতা দেখিয়েছিলো র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থ্যাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর অন্যান্য বিভাগগুলো। এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল জিহাদসহ নামি বেনামি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বেশ কিছু সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। এমনকি পাইকপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় নব্য জেএমবির প্রধান ও হলি আটির্জান হামলার মাস্টার মাইন্ড তামিম ও তার ২ সহযোগি। বছর খানেক পর ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকায় একটি বাড়িতে নব্য জেএমবির অস্ত্র তৈরীর কারখানা আবিস্কারসহ শক্তিশালি বোম ও বোমা তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী স্থানসহ নানা করণেই জঙ্গিদের পছন্দের জায়গা হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ। তাই এই জেলায় জঙ্গি বিরোধী একাধিক সফল অভিযানের পরও তাদের আনাগোনা এবং তৎপরতা তুলনামুলক বেশি।

 


সচেতন মহল বলছে, একেরপর এক অভিযানে জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারের পর তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা। বলা হচ্ছিল, জঙ্গি গোষ্ঠির বিষ দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে। তবে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে পুলিশ ফাঁড়িতে শক্তিশালি বোমা উদ্ধারের পর আড়াইহাজার ও বন্দরে বোমা তৈরীর কারখানা আবিস্কার ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী জঙ্গীগোষ্ঠি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের সক্রিয়তা ও সক্ষমতা জানান দিতেই সাইনবোর্ডের ওই পুলিশ ফাঁড়িতে শক্তিশালি বোম রেখে ছিলো জঙ্গিগোষ্ঠি। সেই যাত্রায় জঙ্গিরা সফল না হলেও নারায়ণগঞ্জেই যেহেতু আস্তানা গেড়ে বোমা তৈরীর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, সেহেতু নারায়ণগঞ্জ ঘিরে তাদের ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো বলে মনে করছেন বোদ্ধামহল।

 


এদিকে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ‘জঙ্গিগোষ্ঠিরা সবসময়ই তৎপর থাকার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের তৎপরতার মাধ্যমে তাদের দমন করে আসছি, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত। পাশাপশি জঙ্গিগোষ্ঠিরা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্যতম টার্গেট করেছে, সেহেতু আমরা আরো সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমরা অস্থায়ী স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করছি।’  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন