কথা রেখেছেন মেয়র, সহযোগিতায় চেয়ারম্যান
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১, ১০:৫২ পিএম
জলবদ্ধতা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ফতুল্লার বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে এনায়েতনগরের কালিয়ানীর খালটি দখল করে আছে অনেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এই খালটি নামে মাত্র খাল হলেও পুরো খালটি দেখতে অনেকটা খেলার মাঠের মতোই মনে হবে। কোন রকম পরিকল্পনা না থাকার কারণে এই খালগুলো দিনের পর দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
যার ফল স্বরূপ সামান্য বৃষ্টিতে পানি সরতে না পেরে এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন আগেও যখন বৃষ্টির পানিতে এনায়েতনগরের বিভিন্ন এলাকা যখন পানিতে তলিয়ে ছিল, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী এনায়েতনগরে কালিয়ানীর খাল খননে একটি অত্যাধুনিক ভেকু পাঠিয়েছেন। ভেকুটি যাতে সুন্দরভাবে খাল থেকে বর্জ্য অপসারন করতে পারে,সেজন্য এনায়েতনগরের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। সবার অংশ গ্রহনে কালিয়ানীর খালটির খনন কাজ এখনো চলছে। খুব শীঘ্রই সদর উপজেলা থেকে কালিয়ানি খাল খননে একটি অত্যাধুনিক ভেকু আসার কথা রয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এক সময় সৈয়দপুর থেকে দিয়ে শীতলক্ষা নদী থেকে বড় বড় বাণিজ্যের নৌকা কাশিপুর, এনায়েতনগর ও ফতুল্লায় কারিয়ানীর খাল দিয়ে যাতায়াত করতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় খালগুলো বেদখল হয়ে গেছে। অনেক প্রভাবশালী খালের উপর গড়ে তুলেছেন পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা। কাশিপুর, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খালগুলোকে দখল মুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছিল। কিছু উদ্যোগ সফল হলেও কালিয়ানীর খালসহ বিভিন্ন খালের বেশির ভাগই বরাদ্দের অভাবে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। গত কয়েক বছর যাবৎ এনায়েতনগর ও কাশিপুরের বিভিন্ন এলাকা সামান্য বৃষ্টির পানির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি খালে সরতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। সম্প্রতি এনায়েতনগরের মাসদাইর,মুসলিমনগরসহ বেশ কিছু এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জমান বিভিন্ন ওয়ার্ড মেম্বারদের সাথে নিয়ে আছিনতলা ব্রিজ থেকে সর্বপ্রথম কালিয়ানীর খাল খনন করা শুরু করে। শাসনগাও ও মুসলিমনগর এলাকার আছিনতলা ব্রিজ সংলগ্ন কালিয়ানী খাল থেকে ১৬৫ গাড়ি বর্জ্য কালিয়ানীর খাল থেকে সরিয়ে ছিলেন। তবে এরই মধ্যে এনসিসির মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানকে ফোন করে বলেছিলেন,কালিয়ানীর খাল থেকে বর্জ্য অপসারনের জন্য তিনি একটি অত্যাধুনিক ভেকু পাঠাবেন। মেয়র তাঁর কথা মতো খালের বর্জ্য অপসারনের জন্য ভেকু পাঠিয়েছিলেন। আর সেই ভেকু জলে ও স্থলে থেকে সমানভাবে কাজ করতে পারে বলেই খুব দ্রুত কালিয়ানীর খালের বর্জ্য অপসারণ হচ্ছে।
পুরো প্রক্রিয়ায় সার্বিকভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, আতাউর রহমান মেম্বার, আক্তার মেম্বার, নেছার উদ্দিন মেম্বার, রোজিনা মেম্বার, শামসুল হকসহ অনেকে। এছাড়াও কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যাক্তি মেয়রের দেয়া ভেকুটি যাতে খাল খননে কাজ করতে পারে সেজন্য নানাভাবে সাহায্য করেছেন। এরইমধ্যে খালে ভেকুটি নামতে গিয়ে বেশ কিছু বৈধ স্থাপনারও ক্ষতি হয়েছে। যাদের ক্ষতি হয়েছে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের স্থাপনা নির্মাণে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, যখন এনায়েতনগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করে, তখনই কালিয়ানীর খাল খননে কাজ শুরু করি। সীমিত শক্তি দিয়েই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ একটি ভেকু দিয়ে খনন শুরু করি। খাল থেকে ১৬৫ গাড়ি বর্জ্য উত্তোলন করা হয়। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় ফোন করে জানিয়েছিলেন খাল খননের কাজের জন্য তিনি একটি অত্যাধুনিক ভেকু দিতে চান।
আমিও তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। তিনি তাঁর কথা মতো ভেকু পাঠিয়েছিলেন। ভেকুটি যাতে খাল থেকে বর্জ্য উত্তোলন করতে পারে সেজন্য যা যা করনীয় আমার প্রতিটি ওয়ার্ড মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে পূর্ন সহযোগীতা করেছি। শুধু তাই নয়, ভেকু যতোক্ষন খনন কাজ করে প্রত্যেকটি মেম্বার ভেকুর সাথে থেকে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এতিমধ্যে সদর উপর জেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আধুনিক ভেকুর জন্য লিখিত আবেদন করেছি। আশা করি তিনি তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেবেন।


