Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ডিএনডি খালে ৪০ অবৈধ স্থাপনা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:১৩ পিএম

ডিএনডি খালে ৪০ অবৈধ স্থাপনা
Swapno

# সাড়ে ৫ কিলোমিটার খাল এখনো উদ্ধার হয়নি


# আওয়ামী লীগ অফিসসহ এসব প্রতিষ্ঠান সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে
 

 

২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট একনেকে পাশ হয় ডিএনডি’র মেগা প্রকল্প। যা বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে প্রকল্প ব্যায়ও। ৫১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার প্রকল্প ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২শ’ ৯৯ কোটি টাকায়। এরপরও প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করণে প্রতিবন্ধকতা এখনো বিদ্যমান।  

 

ডিএনডি’র সূত্র জানিয়েছে, প্রজেক্টের অন্তর্ভূক্ত ৫ দশমিক ৭৪০ কিলোমিটার খাল এখনো উদ্ধার হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, খালের অবশিষ্ট এই অংশে গড়ে উঠেছে বেশকিছু সরকারী-বেসরকারী বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, পেট্রোল পাম্প, পুলিশ ফাড়ী এমনকি আওয়ামী লীগের অফিস কার্যালয়ও। বিশেষ করে মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ও স্কুল গড়ে উঠায় এগুলো অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না বলে ডিএনডির প্রজেক্ট সূত্র জানিয়েছে।  

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএনডি প্রজেক্টের আওতাভুক্ত মোট খালের দৈর্ঘ্য ৯৩ দশমিক ৯৯৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৮৮ দশমিক ২৫৮ কিলোমিটার খাল উদ্ধার এবং সীমানা নির্ধারণ করা গেলেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এখনো ৫ দশমিক ৭৪০ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা যায়নি। ডিএনডি প্রজেক্টের সূত্রগুলো বলছে, মূলত ৫ দশমিক ৭৪০ কিলোমিটারের এসব খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে ১০টি স্কুল, ১৮টি মসজিদ, একটি মন্দির, ৬টি মাদ্রাসা, ৩টি পেট্রোল পাম্প, একটি পুলিশ ফাঁড়ী এবং একটি আওয়ামী লীগের অফিস। তথ্য বলছে, খাল দখল করে গড়ে উঠা ১০টি স্কুলের মধ্যে বেশ কয়েকটি সরকারী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও আছে। এসব স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির অন্যত্র স্থানাস্তরের ব্যবস্থা নিয়েই ৫ দশমিক ৭৪০ কিলোমিটার খাল উদ্ধারে নামবে ডিএনডি প্রজেক্ট কর্মকর্তারা।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএনডির অবশিষ্ট ৫ দশমিক ৭৪০ কিলোমিটার খালে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ৪০টি অবৈধ স্থাপনা। এগুলো হলো- শাহীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহীবাজার অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্ডেন, আনন্দলোক উচ্চবিদ্যালয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়, রসুলবাগ কিন্ডারগার্ডেন, হাজী মোয়াজ্জেম আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রোকেয়া আহসান বিশ্যবিদ্যালয়, মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সুমিলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯২ নং জালকুড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়, বায়তুল আমান জামে মসজিদ, আলেপনগর জামে মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ, বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, নূরানী জামে মসজিদ, বায়তুল সালেহ জামে মসজিদ, বায়তুল মামুন জামে মসজিদ, জামিয়া আরাবিয়া জামে মসজিদ, আলামিন জামে মসজিদ, বায়তুচ্ছালাম জামে মসজিদ, বাইতুল্লাহ কাউছার জামে মসজিদ, বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদ,

 

মিজমিজি দক্ষিপাড়া বড় মিনার মসজিদ, ছিদরাতুল মুনতাহা জামে মসজিদ, বাইতুল নুর জামে মসজিদ, মসজিদুল মদিনা জামে মসজিদ, বিশ্বরোড জামে মসজিদ, নয়ামাটি চিতাশাল এবং মন্দির, দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসা, দারুল সুন্নাহ মাদ্রাসা, বাইতুল কুরআন মাদ্রাসা, জামিয়াতুল ওমর ফারুক (রাঃ) মাদ্রাসা, মার্কাতুজ তাহফিজ মাদ্রাসা, মাখযানুস সুন্নাহ মাহমুদিয়া মাদ্রাসা, ফাতেমা নাজ পেট্রোল পাম্প, পূর্বচল প্রেট্রোল পাম্প, ক্যাব এক্স পেট্রোল পাম্প, পুলিশ ফড়ি এবং আওয়ামী লীগ অফিস। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে ডিএনডি প্রজেক্ট অফিসারের সাথে গতকাল রাতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।    

 

তবে, জলাবদ্ধতা দূরকরণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সাংসদ শামীম ওসমানের মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ ফারুক বলেছিলেন, ‘২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট একনেকে প্রকল্পটি পাশ হয়। যেখানে ৫১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছিলো। প্রকল্পটা নেওয়ার পর আমরা দেখি যে, প্রকল্প এলাকাটিতে প্রায় ৯ হাজার ৮১০টি অবৈধ স্থাপনা ছিলো। ২৫৩১টি একতলা ভবন ছিলো, ১৯০০টি তিনতলা ভবন ছিলো, ২৪৩টি ৪তলা ভবন ছিলো ছোট বড় মিলিয়ে ৫ হাজার দোকান ছিলো, ৮২টি ফ্যাক্টরী ছিলো। মসজিদ ছিলো, মন্দির ছিলো, স্কুল ছিলো। এগুলো প্রকল্পের আওতায় ক্লিয়ার করতে গিয়ে ৫১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকায় সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। তাই ২০২০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধিত বাজেটে ১২শ’ ৯৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।’

 

এদিকে, ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ দীর্ঘদিন চলমান থাকলেও জলাবদ্ধতা এখনো রয়েগেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার না হওয়া খালগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা এবং যেসকল খাল উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো যাতে পূনরায় ভরাট না হয়, তা নিশ্চিত করা গেলেই মুক্তি মিলবে জলাবদ্ধতা থেকে। পাশাপাশি এলাকার অভ্যান্তরিণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিকল্প নেই। এদিকে, জলাবদ্ধাতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রকল্প এড়িয়ার মধ্যে পানি নেই। পানি আছে প্রকল্প এড়িয়ার বাইরে। আমি সেনাবাহিনীকে বলেছি এটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। জলাবদ্ধতা দুর করতে হবে। এই জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আমার আহবান থাকবে যে, যেসমস্ত এলাকায় খাল খনন করা হয়েছে, সেগুলোর সাথে বাসাবাড়ির সুয়ারেজ লাইনগুলো বন্ধ রাখতে হবে। বন্ধ না করলে একদিক দিয়ে ড্রেজিং করা হলে আরেক দিক দিয়ে ভরাট হয়ে যাবে।

 

তবে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিএনডির মানুষের কথা ভেবেই ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য এতো টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। আমি মনে করি, ডিএনডি বাসি যাতে আরামে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষেই তিনি প্রকল্পটা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাই জলাবদ্ধা দুরকরার স্থায়ী সমাধানের জন্যই কাজ করা হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন