ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মেয়রের কড়া নির্দেশ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২১, ০৬:৪৮ পিএম
# না’গঞ্জে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
# একই সঙ্গে মশক নিধন এবং মোবাইল কোর্ট অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র : হিরণ
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সর্বত্র ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মীরা। এছাড়া মেয়রের নির্দেশে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
গতকাল এই প্রতিনিধিকে এসব তথ্য জানিয়েছে এই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হিরণ। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন রাজধানীতে এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে চলেছে। প্রতি দিন গণমাধ্যমগুলিতে ডেঙ্গুর খবর আসছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আরো আগে থেকেই আমাদের মাননীয় মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী বেশ সজাগ রয়েছেন। তিনি আমাদেরকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা এখন মশক নিধন অভিযান আরো জোরদার করেছি। পাশাপাশি আমরা মোবাইল কোট পরিচালনা করছি।
কারন আপনারা সকলেই জানেন ডেঙ্গুর বাহক হলো এডিস মশা। আর এডিশ মশা ডিম পারে পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক জাতীয় পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা সহ এই ধরণের পাত্রে জমে থাকা পরিস্কার পানিতে। তাই জনগন যদি সচেতন হয় এবং বাড়ির আশাপাশে, ছাদে বা বারান্দায় যাতে এই ধরনের পাত্র না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখে তাহলে এডিস মশা জন্মাতে পারে না। আর এই কাজটা সকলে মিলে সজাগ ভাবে করলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা যায়। আর এই কারনেই আমরা এখন অভিযানও পরিচালনা করছি। এরই মাঝে একটি বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মেয়রের নির্দেশে আমরা গোটা সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপক ভাবে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করছি। আরো আগে থেকেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা নয় বরং সিটি করপোরেশনের পাশ্ববর্তী ইউনিয়নগুলির ওয়ার্ডেও মশক নিধন অভিযান চালাতে। কারন সেখান থেকেও মশা এসে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমন ঘটাতে পারে। নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন এখন পর্যন্ত আমরা এই সিটি করপোরেশন এলাকায় কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাইনি। আশা করি আমরা এবার ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।
প্রসঙ্গত, এরই মাঝে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার ঘটতে শুরু করেছে। দেশে আগের দিন ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছেন ২২১ জন। গত চার দিনে ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত জুলাই মাসেই ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ২৮৬ জন। তার আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৭২ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে থাকায় মেয়র আইভী আগে ভাগেই সর্বাত্বক প্রচেষ্ঠা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আশা করছেন এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেই থাকবে।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৬ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮ জন। ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগী আছেন ১ হাজার ৪ জন। অন্যান্য বিভাগে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫৪ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৮৩ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। এ পর্যন্ত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ৮টি মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে।


