সব ইউনিয়নেও করোনার টিকা মিলবে ৭ আগস্ট
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২১, ০৬:৫৬ পিএম
# প্রতি ইউনিয়নে তিনটি করে কেন্দ্র স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন
আগামী ৭ আগষ্ঠ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সব ইউনিয়ন পরিষদেও এক যোগে দেয়া হবে টিকা। প্রত্যেক ইউনিয়নে তিনটি করে কেন্দ্র খোলা হবে। আর কেন্দ্রগুলিতে ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিয়ে গেলেই দিতে পারবেন টিকা। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার ইমতিয়াজ আহম্মেদও এমন তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চেইলে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জক ডাক্তার ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বাড়ছেও না কমছেওনা। এটা খারাপের মধ্যে ভালো বলতে পারেন। তিনি আরো বলেন আশার কথা হলো আমরা আগামী সাত তারিখ থেকে বারো তারিখ পর্যন্ত সারা নারায়ণগঞ্জ জেলায় ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছি। এটা সফল হলে এই জেলায় করোনার প্রকোপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে আহবান জানাবো তারা যেনো কঠোর ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। মাক্স না পরে যেনো কিছুতেই চলাফেরা না করেন।
তাই টিকার ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমরা যদি সচেতন ভাবে জীবনযাপন করি তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাবে বলে আমি মনে করি। আমরা শিগগিরই একটি করোনা মুক্ক সমাজ পাবো বলে আশা করি। তিনি এই টিকা দানের ক্রাশ প্রোগ্রাম সফল করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের ডাক্তার নূর ফয়সাল জানিয়েছেন সারা নারায়ণগঞ্জে করোনা এখন ব্যাপক বিস্তার লাভ করার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটির দিকে চলে গেছে। তিনি আরো জানান তার কাছে গত দুই মাস ধরে যতো রোগী আসছে তার অধিকাংশই করোনার সিমটম নিয়ে আসছেন। তাই তিনিও মনে করেন আর দেরী না করে সারা দেশে ব্যাপক টিকা দান কর্মসূচি চালু করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন এরই মাঝে যারা টিকা নিয়েছেন তাদের অন্তত করোনায় মৃত্যুর ঝুকি নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয় টিকা গ্রহনকারীদের হাসপাতালেও যেতে হবে না। আক্রান্ত হলে বাড়িতে চিকিৎসা করেই সেরে উঠবে এবং সেরে উঠছেন।
অপরদিকে সাত তারিখ থেকে শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে টিকা দান কর্মসূচি শুরু করা হলে এবার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই টিকা গ্রহন করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কারন টিকা গ্রহণের ব্যাপারে এখন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারন এবার করোনা এমন ভাবে ছড়িয়েছে যে ধনী দরীদ্র সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। একটা সময় বলা হতো গরীব মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয় না। কিন্তু এটা এবার মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এখন বহু গরীব মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং অনেকে মৃত্যু বরন করছে। বিশেষ করে গরীব মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। সরকারী হাসপাতালই তাদের ভরসা। আবার অনেকে সরকারী হাসপাতালেও ঠাই পাচ্ছেন না।
এছাড়া এখন নারীরা অধিকহারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে গণটিকা দানের কোনো বিকল্প নেই। তাই সিভিল সার্জন আহবান জানিয়েছেন সকলে যেনো মাক্স পরেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। তিনি আরো বলেন, একটু ধৈর্য্য ধরে সকলে টিকা গ্রহন করলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি অনেকটা বদলে যাবে।


