Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সন্তান বিক্রির বিচারে নারী পেল ৭ হাজার টাকা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২১, ১১:৩২ পিএম

সন্তান বিক্রির বিচারে নারী পেল ৭ হাজার টাকা
Swapno

#নাটের গুরু আবদুল কুদ্দুসের ঘরে তিন মেয়ে 


# সন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে  বাসা ভাড়া


#হাসপাতালে খরচ কত টাকা জানেনা নারী, সন্তান রেখে ধরিয়ে দিয়েছে সামান্য টাকা



নগরীতে পরকীয়ায় সন্তান প্রসবের ঘটনায় বিচার করা থেকে শুরু করে সব কিছুর দায়িত্ব এখন ভূইয়ারবাগ বাইতুল নূর মসজিদের খতিবের উপর দেয়া হয়েছে বলে একটি সুত্র জানান। দেওভোগ ভূইয়ারবাগ এলাকার মানুষ এখন তাকিয়ে আছে এই ঘটনায় ভুক্তভোগি নারী কি বিচার পান। আদৌ বিচার পাবেন কি না। তবে এই ঘটনায় শহরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে ভিন্ন ধর্মের নারী পুরুষ পরকীয়ায় জরিয়ে সন্তানকে কি আসলেই অর্থের অভাবে বিক্রি করে দেয় নাকি তাকে চাপ দিয়ে বিক্রি করানো হয়। এলাকাবাসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় বিচারের ২০ হাজার টাকা হতে ভুক্তভোগী নারী তার হাতে ৭ হাজার টাকা পান। বাকী ১৩ হাজার টাকা পূর্বের  ভাড়া থাকায় অবস্থায় বাকী থাকায় বাড়ীর মালিককে পরিশোধ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগেরচিন্তা পত্রিকায় পরকীয়ায় ও ১৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রির ঘটনা মানুষের সামনে আসার পর ভূইয়াবাগ বাইতুল নুর জামে মসজিদে খতিব তা নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগি নারীকে গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে তথা কারো সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে বারন করা হয়। আর এ জন্য তিনি কারো সাথে এই ঘটনায় কথা বলেন।  

 


এদিকে আগে যারা বিচার করেছেন বলে শুনা গেছে তারা এখন সরে গেছে। এই ঘটনায় বিচারের ২য় পর্ব শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয় নাই। কিন্তু এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য এক শ্রেনীর প্রভাশালী লোক উঠে পরে লেগেছেন। তাদের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চান না। চলতি সমপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে বিক্রি করে দেয়। ভুক্তভোগি নারী জানান, সিজারিয়ান অপারেশনের পর বিল পরিশোধ করার সামর্থ্য না থাকায় আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেই। একই সাথে বিল পরিশোধ শেষে সন্তান বিক্রির আরো ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। ভুক্তভোগি নারী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হওয়ার পরেও নগরীর দেওভোগ ভূইয়ার ভাগ এলাকার মুসলিম পরিবারের আবব্দুল কুদ্দুস নামের ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। এই ঘটনায় সামাজিক ভাবে বসে ২০ হাজার টাকায় সমাধান করা হয় বলে জানান এলাকাবাসি। তবে সন্তানের প্রতি মায়ের মমত্ববোধ অকৃত্রিম ও তুলনাহীন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিলেও তার কথা মনে পড়তেই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন হতভাগ্য মা।

 


স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগি নারী নগরীর দেওভোগে চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। যারা সাথে পরকীয়ায় জরিয়ে পরেন তিনিও চা বিক্রেতা। ভুক্তভোগি নারীর আগের সংসারের ১ ছেলে সন্তান আছে। সেই সাথে আব্দুল কুদ্দুসের পরিবারে ৩ সন্তান আছে। পাশা পাশি দোকান দারি করায় তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায় তারা অবৈধ মেলা মেশায় জরিয়ে পরেন বলে জানান ওই নারী।

 


এদিকে ওই নারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার সন্তানকে লালন পালন করার সামর্থ্য না থাকায় আমি তাকে বিক্রি করে দেই। অনেকে সন্তানকে মেরে ডাষ্টবিনে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু সৃষ্টি কর্তার ভয়ে আমি তা করি নাই। অভাবের তারনায় পরে আমাকে এই কাজ করতে হয়েছে। যার সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছে তাকে আমি কাকা বলে ডাকতাম। পরে শয়তানের ধোকায় পরে আমাদের মেলা মেশা হয়ে যায়। ভূইয়ার ভাগ এলাকার কয়েকজন এসে আমাকে বলে সামাজিক ভাবে বিচার করে তার থেকে একটা অর্থ নিয়ে দিবে। কিন্তু কত দিবে তা বলে নাই। আমি অসহায় মানুষ এটা নিয়ে এত কিছু হবে তা বুঝতে পারি নাই। কারা বিচার করেছে তাদের নাম জানতে চাইলে তা তিনি বলতে পারেন নাই।

 

আসলে সঠিক বিচার পাবেন কি না তা নিয়ে ধোয়াশায় আছে ভুক্তভোগি নারী তিনি আরও জানান, অভাবের তাড়নায় পরে সন্তান বিক্রি করে দিলেও তার জন্য আমার ঠিকই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কি আর করা। ১ সন্তান নিয়ে নিজেরাই ঠিকমত খেতে পারিনা। তার মাঝে আবার এই সন্তানের খরচ বহন করবো কোথা থেকে। এর মাঝে ভাড়া নেয়া দোকানটাও মালিক নিয়ে নিছে। আমরা এখন কিভাবে চলবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি। এত কিছুর পরেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে ফায়দা নিতে চাইতাছে। কেই ফায়দা নিতে না পারে আমি তা চাই। আমি যেন ন্যায় বিচার পাই সবার কাছে এই কামনা করি।
 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন