Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গ্যাসপাইপ লিকেজে আতঙ্ক

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩৬ পিএম

গ্যাসপাইপ লিকেজে আতঙ্ক
Swapno

# লিকেজে ঘটছে একেরপর এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা


#দুর্ঘটনার ঘটার পরে ব্যবস্থা, আগে নেই


#২০ শতাংশ গ্যাস রাইজারে সমস্যা


#আবেদন করলে সংস্কার : তিতাস



নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিতাসের সার্ভিস পাইপ লিকেজ রয়েছে। এসব লিকেজের কারণে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে ঘটে চলেছে একেরপর এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। তবে, লিকেজগুলো স্থায়ী ভাবে সংস্কার করা যাচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৩০ শতাংশ রাইজার ও ততোধিক সার্ভিস পাইপে অসংখ্য লিকেজ রয়েছে। এসব লিকেজ থেকে প্রতিনিয়তই গ্যাস বেড়িয়ে আসছে। এতে করে আকষ্মিক দূর্ঘটনার চাঁপা আতঙ্ক নিয়েই দিনাতিপাত করছে ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

সবশেষ গত ৩০ জুলাই ফতুল্লার লালখা এলাকার একটি বাড়িতে গ্যাসের রাইজারের লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ওই বাড়ির ৩টি বসত ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়। এছাড়া গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর গ্যাস লিকেজ থেকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৪ জনের প্রাণহানী এবং পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পশ্চিম তল্লার জামাই বাজার এলাকায় বিস্ফোরণে ১১ জন দগ্ধ হওয়ার খবরে নড়চেড়ে বসে তিতাস কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ফতুল্লাসহ জেলাজুড়ে গ্যাসের পাইপ লাইন ঢালাও ভাবে সংস্কার করবেন তারা। তবে, এরপরও মিলছে না প্রতিকার।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর বা শহরতলী- তিতাস গ্যাস অফিসের অবহেলা রয়েছে সর্বত্র। একই সাথে কিছু বাড়িওয়ালারাও সচেতন নয়। তাই লিকেজ থাকা সত্বেও তা সংস্কারের জন্য জোর দিচ্ছেন না। আবার জোর দিলেও এক্ষেত্রে তিতাসের লোকদের উদাসীনাতা দেখা যায়। বৃষ্টি মৌসুমে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে জ্বলাবদ্ধতা হলে তিতাসের সার্ভিস গ্যাস পাইপগুলোর লিকেজ থেকে গ্যাসের বুদবুদ আকারে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। তাছাড়া বাসা বাড়ির গ্যাস রাইজার থেকে শব্দসহ তীব্র গতিতে গ্যাস বেড়িয়ে আসে। রাইজারের পাইপগুলো মরিচায় পরিপূর্ন। এভাবে গ্যাস লিকেজ হওয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা, দক্ষিন সেহাচর, লালখা, রামারবাগ, কাঠেরপুল, কোতালেরবাগ, লামাপাড়া, ইউনিকম টেক্সটাইল মোড়, তক্কারমাঠ, পিলকুনী, দাপা ইদ্রাকপুর, জোড়পুল ও খোঁজপাড়া সহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় তিতাসের গ্যাস পাইপ ও রাইজার লিকেজ থেকে তীব্র গতিতে গ্যাস বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন সড়ক এখন আরসিসি ঢালাইয়ে রূপান্তর হওয়ায় এবং জলাবদ্ধতা না থাকায় গ্যাস পাইপ লিকেজ থাকলেও গ্যাস লিকেজের বিষয়গুলো চোখে পড়ছে না। তবে, ছুটির দিনে মিল ফ্যাক্টরী বন্ধ হলে সার্ভিস লাইনে গ্যাসের চাপ বেড়ে যায় এবং তা আরসিসি ঢালাইয়ের রাস্তা গলে বের হতে না পারলেও ঘনত্ব কম থাকা মাটির নিচ দিয়ে আশপাশের ড্রেনে বা কর্দমাক্ত স্থানে বুদবুদ আকারে বেড়িয়ে আসে।

 

ফলে প্রায় সময় বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের জ্বলন্ত সিগারেট ফেলার কারণে আগুন জ্বলে উঠে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল ফতুল্লার দক্ষিন সেহাচর এলাকায়। গত বছরের ২৫ মে ঈদুল ফিতরের রাত প্রায় ১২টার দিকে ওই এলাকার জনৈক হাসেম এর দোকান ও বসত বাড়ীর সামনে গ্যাস পাইপ লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গ্যাস পাইপটি মূলত আরসিসি ঢালাই রাস্তার নিচে থাকলেও সেখান দিয়ে লিকেজ পাইপ থেকে গ্যাস বের হতে না পেরে রাস্তার পার্শ্ববর্তী ড্রেন দিয়ে তীব্র বুদবুদ আকারে গ্যাস বেড়িয়ে আসে। ঈদের রাত প্রায় ১২টার দিকে অজ্ঞাতনামা পথচারী জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন ড্রেনে ফেলার সাথে সাথে ড্রেনেই আগুন জ্বলে উঠে। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

স্থানীয়রা বলছেন, গ্যাস পাইপ বা রাইজার লিকেজের এমন ঘটনা গোটা জেলাজুড়ে। এরপরও তিতাস কর্তৃপক্ষ তা মনিটরিং করছেন না এবং নিচ্ছেন না কার্যকরি কোন ব্যবস্থাও। সেহাচরের শাহীন নামে স্থানীয় এক টেকনিশিয়ান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন- ‘আমাদের এলাকার বিভিন্ন অংশে গ্যাস পাইপ লিকেজ আছে। বর্তমানে বেশ কিছু সড়ক আরসিসি ঢালাইয়ে রূপান্তর হওয়ায় বুদবুদ গুলো চোখে পড়ছে না। তবে, মাটির ঘনত্ব কম থাকলে পৃথক স্থান দিয়ে গ্যাস বেড়িয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জলাবদ্ধতা ছাড়া তা চোখে দেখার উপায় নেই।’ তিনি বলেন- ‘এলাকার বিভিন্ন রাইজার গুলোও লিকেজ আছে। শুধু সেহাচর এলাকাতেই অন্তত ২০ শতাংশ গ্যাস রাইজারে সমস্যা রয়েছে। সেখান থেকে গ্যাস বেড়িয়ে আসে।’  গ্যাস পাইপ ও রাইজার লিকেজ সংস্কারের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও গতকাল তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট লোকেশন দিয়ে আবেদন করা হলে সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নেবেন তারা।  


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন