# টার্গেট সিটি করপোরেশন আর জেলা পরিষদ
# ষড়যন্ত্র মোটেও কোন প্রভাব ফেলবেনা
#নারায়ণগঞ্জের সববিষয় সম্পর্কে অবগত প্রধানমন্ত্রী
বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ চুনকার রাজনীতিতে পুরোটা জায়গা জুড়ে ছিলো সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ। প্রটোকলের বাইরে গিয়ে তিনি সাবলীলভাবে মিশতেন সাধারণ মানুষের সাথে। আর এই গুণটাই তাকে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় ও নন্দিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাবার পথ অনুসরণ করেছেন মেয়েও। নারায়ণগঞ্জ ছাপিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সফল মেয়র চুনকা কন্যা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নারী মেয়র হিসেবেও মেয়র আইভীর নাম। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং সিটি করপোরেশনের দুই মেয়াদের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেয়র আইভী। চলতি বছরের শেষে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর সেটিকে ঘিরেই প্রায় বছর দেড়েক আগে থেকেই নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন মেয়র আইভী এমনটি মনে করেন নারায়ণগঞ্জবাসী। তবে গত দুইবারের নির্বাচনের আগের সময়ের চেয়ে এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন।
এবার শুধু তিনি নন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও সেই ষড়যন্ত্রের তালিকায় আছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আনোয়ার হোসেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র আইভীর উপর আস্থা রাখেন। বিজয়ী হয়ে আস্থার প্রতিদান রাখেন মেয়র আইভী। আনোয়ার হোসেন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীতা না পেলেও নিরাশ হননি। আনোয়ার হোসেনের উপর আস্থা রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেন। এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয় ২০১৩ সালে। তখন থেকেই সভাপতির গুরু দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ার হোসেন। মেয়র প্রার্থী হওয়া নিয়ে সম্পর্কে চাচা আনোয়ার হোসেনের সাথে কিছুটা তিক্ততা থাকলেও সেই দুরুত্ব সময়ের ব্যবধানে একেবারেই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। আর যার ফলে চাচা ভাতিজির সম্পর্কে চিড় ধরানোর কোন কৌশলই আঁটকে পারেনি এবার প্রতিপক্ষরা। আর তাই দুজনকেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করার প্রয়াস নিয়েছে একটি পক্ষ। যা শহরে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর রাজনীতির প্রতিফলনও বলছেন কেউ কেউ।
সূত্র জানিয়েছে, মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিবে এমন গুঞ্জন ছিল বছরের শুরুতে। আর আসছে কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ঠাঁই পেতে আগ্রহী খোকন সাহা। এখানেই শেষ নয়, বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান তার ছোট ভাই এমপি শামীম ওসমানের বন্ধু খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেখতে চান বলে বিভিন্ন সভায় বলেন। এরপরপরই মসজিদ ও মাদ্রাসা এবং দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে দুটো ঘটনায় মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করে একটি পক্ষ।
\তবে সেইসব ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। প্রায় একই সময় সোনারগাঁয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের উদ্বোধনকৃত ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলে একটি চক্র। সেটি নিয়েও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জ। এসকল ধকল সামলে নিজ আলোয় আলোকিত মেয়র আইভী। আনোয়ার হোসেনও বিজ্ঞের মতো সবকিছু সামলে নিয়েছেন। গত ২৫ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোশেনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মা মমতাজ বেগম মৃত্যুবরণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ মেয়র আইভী ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক জানাতে মেয়র আইভীর বাসায় যান সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান। মেয়র আইভীকে সমবেদনা জানান তারাও। এতোটুকু ঠিক ছিল। সবাই ভেবেছিলো অবশেষে নারায়ণগঞ্জে আসছে সুবাতাস। কিন্তু তা টিকলো কেবল দিন দশেক।
হঠাৎ মাসদাইর কবরাস্থানে পাশের শ্মশানের পুকুরের মাটি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এঘটনায় সরাসরি মেয়রকে অভিযুক্ত না করলে অভিযোগের তীর ঠিকই ছোড়া হয় সিটি করপোরেশনের উপর। এনিয়ে সিটি মেয়রও পুরো ঘটনার সত্য বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে ততক্ষণে আবারো বিভক্ত হয়ে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যেহুতু এবার আনোয়ার হোসেন বেশ বুঝেসুঝে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন যার ফলে তাকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি কেউ। আর যার ফলে এবার মেয়র আইভী শুধু নন, তার চাচা আনোয়ার হোসেনকে নিয়েও ষড়যন্ত্র খেলছে একটি মহল, আর সেটি চলবে সামনের সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদের ভবিষ্যত চূড়ান্ত নির্ধারণ হওয়া পর্যন্ত।
তবে এসব ষড়যন্ত্র কোনটাই টিকবেনা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জের সববিষয় সম্পর্কে অবগত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চিত্র কীভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে দিয়েছেন আর আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের হাল কতখানি শক্তভাবে নির্ভেজাল দায়িত্ব পালন করেছেন তা খুব ভালো করেই জানেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। আর তাই চাচা-ভাতিজির বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন সেগুলো তেমন কোন প্রভাব ফেলবেনা কোথাও।


