শিল্পাঞ্চল না’গঞ্জে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকা সহজ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২১, ০৯:১১ পিএম
# যে কোন ধরণের সক্রিয়তা বন্ধের জন্য আমরা কাজ করছি নারায়ণগঞ্জে : র্যাব সিও
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এবং সেই আস্তানাগুলোতে একের পর এক অভিযানে যেসব জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা আটক হয়েছে, তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বিভিন্ন শক্তিশালী বোমা ও বোমা তৈরীর সরঞ্জামসহ জিহাদী বই। তাই এই জেলাতেই কেন এতো জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ র্যাব ১১’র এক উর্ধ্বতন কর্মকতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ যেহেতু একটি শিল্পাঞ্চল তাই এখানে প্রচুর শ্রমিকদের মাঝে জঙ্গিরা তাদের লুকিয়ে রাখাটা সহজ মনে করেন। মূলত এটিই এর অন্যতম কারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসের ১১ তারিখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিজান চালিয়ে মামুন নামে এক জঙ্গিকে তিনটি শক্তিশালী বোমাসহ আটক করে পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াত। এরপর মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার মদনপুর এলাকায় আরো একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখান থেকেও শক্তিশালী আরো চারটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, মদনপুরের এই বাড়িতে থাকতেন জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য ওসামা নাঈম নামে আরেক জঙ্গি। তিনি কিছুদিন আগে কেরানীগঞ্জ থেকে আটক হয়েছিলেন। এছাড়া, চলতি বছরের মে মাসে সিদ্ধিরগঞ্জর একটি পুলিশ বক্সের সামনে থেকে যেই বোমা উদ্ধার হয়েছিলো সেটিও এই চক্রের সদস্যরাই রেখেছিলো।
সূত্র বলছে, নানান কারণেই বাংলাদেশের জঙ্গিরা নারায়ণগঞ্জকে তাদের বসবাসের স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছে। আর এর প্রমানও মিলেছে বহুবার। দেখা গেছে, দেশের বড়বড় অনাকাঙ্খীত ঘটনার সাথে জড়ীত জঙ্গি সদস্যরা থাকতেন এই জেলায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ এখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। যেমন, ২০১৬ সালে শহরের পাইকপাড়া বড় কবরস্থান এলাকায়; শোলাকিয়া ময়দানে হামলা এবং গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয়। যা পরবর্তীতে পুরো শহরজুঁড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিলো। তখন নারায়ণগঞ্জবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছিলো যে, শিল্পে সমৃদ্ধ এই জেলাটি যাতে আর জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল না হয়। কিন্তু এরপরও এখানে একাধিক-বার জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১’র কোম্পানী কমান্ডার (আদমজী নগর ক্যাম্প) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এই জেলাটি যেহেতু একটি শিল্প এলাকা, তাই এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর শ্রমিক কাজ করতে আসে। ফলে নানান সংগঠনের এখানে এসে আস্তানা করে। কারণ জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিরা মনে করে এখানে নিজেদের হাইড (লুকিয়ে রাখা) করা ইজি (সহজ) বলে মনে করে তারা। কিন্তু আমরাও এখন শক্ত অবস্থানে আছি। পাশাপাশি আমাদের নজরদারীও এখন আগের চেয়ে বেড়েছে। তাদের যে কোন ধরণের সক্রিয়তা বন্ধের জন্য আমরা কাজ করছি নারায়ণগঞ্জে।


