Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মেয়র-চেয়ারম্যানে আলাদা নজর

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২১, ০৬:৪৬ পিএম

মেয়র-চেয়ারম্যানে আলাদা নজর
Swapno

# আগামী ৭  ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিটি নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে


# নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও ইসি কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট হবে জেলা পরিষদে



করোনার চোখ রাঙানিতে জীবনযাত্রা যেখানে থমকে গিয়েছিলো সেখানে নির্বাচন সঠিক সময়ে হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সঠিক সময়েই নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মেয়াদ শেষ হবার আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোশেন, জেলা পরিষদসহ ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি।

 

সূত্র জানিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাসহ বর্তমান কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগে নতুন সিইসি ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ হিসাবে মেয়াদ ৬ মাসেরও কম সময় রয়েছে। এরমধ্যেই ৩৫’শ নির্বাচন শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বছরের শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে। ব্যাকফুটে থাকা বিএনপির নানা প্রার্থীরাও নির্বাচন নিয়ে নানা সময় উকিঝুকি মেরেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন দেয়ার ঘোষণায় আটঘাট বেধেঁ মাঠে নামার প্রস্তুুতি নিচ্ছে কয়েকটি মহল এমনটি জানিয়েছে সূত্র।

 


সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ নির্বাচনে মেয়র আইভীর প্রার্থীতা কঠিন করে দিতে মাঠে নেমেছে বছরের শুরু থেকে। নাসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে এবার বছরের শুরু থেকেই জেলা পরিষদকে টার্গেট করেও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আগাম অগ্রসর হয়েছে আওয়ামী লীগেরই একটি পক্ষ। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজী এবং একই দলের নেতা হলেও নিজ দল থেকেই মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে ঠেলে দিতে অগ্রসর হয়েছে সেই চক্রটি।



এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে এ করপোরেশনের নির্বাচনের সময়সীমা শুরু হয়েছে। আগামী ৭  ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আইনানুগ জটিলতা আছে কি না, তা জানতে চেয়ে ১২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছে ইসি।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর এ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়। করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়াারি। এদিন থেকেই মেয়াদ শুরু। সূত্র জানিয়েছে, নাসিক নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নে ব্যাপক স্বাক্ষর রাখার কারণে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী একচ্ছত্রভাবে আওয়ামী লীগের গুডবুকে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অন্য আরেকটি পক্ষ নানা সময়ে তাকে বিতর্কিত করবার চেষ্টা করেও সেসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মেয়র আইভীর হাত ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গোটা এলাকায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। ব্যাপক উন্নয়নের কারণে দেশের সকল সিটি করপোরেশনের তুলনায় এগিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

 

গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী থাকলেও এবার নির্বাচনের কোন প্রস্তুতি নিয়ে মাথা ঘামায়নি বিএনপি। মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার  মতো হেভীওয়েট কোন প্রার্থীও আগমনী বার্তা জানায়নি। পানি যতটা ঘোলা করবার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে সেই মহলটি বছরেরর অন্যান্য সময়ও মেয়র আইভীর পেছনে নানা ইস্যু তৈরির চেষ্টা করেন। তবে আদতে সেসব কখনোই সফল হয়নি।  



এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে,  দেশের ৬২টি জেলা পরিষদে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোট হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ  জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী জানুয়ারিতে। প্রতিটি জেলা পরিষদ একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে গঠিত। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনে আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এটি কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তবে বছরের শুরু থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, এড. বাবু চন্দনশীল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ বাদলের নাম নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। এখানেও আগ্রহ নেই বিএনপির।



সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার অদূরে হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রতি বাড়তি দৃষ্টি থাকবে পুরো দেশের। এছাড়াও পৌরসভা, ইউপি নির্বাচনগুলোও এই স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েকমাস নানা নির্বাচন নিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত থাকবে নারায়ণগঞ্জ। সেপ্টেম্বর থেকেই নানা ধরণের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন