কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ মামলা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩৪ পিএম
# বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করার ফাঁদ পাতে খোরশেদ
# হাতিয়ে নেন ৫০ লাখ টাকা
# সম্ভ্রম-অর্থ হাতিয়ে নিয়ে মেরে ফেলার হুমকি
# ২৫ আগস্ট বাড়িতে ছিলেন তিনি, পুলিশ খুঁজে পায়নি
খোরশেদের সুখ্যাতি যেমন ছড়িয়ে পড়েছিল। থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ায় কুৎসিত কাউন্সিলর খোরশেদকে দেখছে পুরো দেশ। নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার পদাবলী নামক কবিতায় নিজেই লিখেছেন, ‘সুন্দরের মাঝে কুৎসিত বসবাস, সঙ্গী হতাশা আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস। নিকষ কালো জোৎস্না রাত, চারিদিক জুড়ে শুধুই বিষাদ।’
করেনাবীর হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়ে খোরশেদ যেন নিজের অপকর্মের কথাগুলোই উল্লেখ করেছে। এবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে এক নারী। গত বছর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের লাশ সৎকার করে আলোচনায় এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ। এ ছাড়া তিনি মহানগর যুবদলের সাবেক আহবায়ক। গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন সাঈদা আক্তার শিউলী। তিনি এর আগেও তিনি খোরশেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করেছিলেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রকিবউদ্দিন আহমেদ জানান, আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। শিউলীর আইনজীবি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেছে শিউলী। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামী মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কিশোরকাল থেকেই সায়েদা শিউলির একই এলাকার বসবাস করার কাররে পূর্ব পরিচিত। সাবালিকা হওয়ার পর সায়েদা শিউলী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু স্বামীর সহিত বনিবনা না হওয়ার একপর্যায়ে তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর সায়েদা শিউলী সন্তারদেরকে নিয়া চাষাঢ়া এলাকায় নিজ বাড়ীতে বসবাস করাকালীন মামলার আসামী মাকসুদ আলম খন্দকার খোরশেদ বিভিন্ন সময়ে বাদীনির সাথে একটা ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। কিন্তু সায়েদা শিউলী প্রথম প্রথম খোরশেদের প্রস্তাবে রাজি না হইলেও আসামীর মনভোলানো কথায় একপর্যায়ে খোরশেদের সাথে শিউলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং খোরশেদ শিউলীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করিলে বিবাহ বন্ধনে ব্যতিত এরুপ সম্পর্ক করিতে অস্বীকার করেন।
এক পর্যায়ে খোরশেদ ভুক্তভোগী শিউলীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবে মর্মে আশ্বস্ত করেন। এরপর ২০২০ সালের ২ আগস্ট বিকেলে খোরশেদ অপরিচিত একজন লোক নিয়ে সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর এলাকায় সায়েদা শিউলীর মালিকাধীন এস.এস ফিলিং স্ট্রেশনে উপস্থিত হন। এরপর অজ্ঞাতনামা লোকটিকে দেখিয়ে খোরশেদ শিউলীকে বলেন, অজ্ঞাতনামা লোকটি একজন কাজী। খোরশেদ শিউলীর সাথে এখনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান এবং শিউলী সে কথায় রাজি হলে খোরশেদ অত্যন্ত কৌশলে ভূয়া অজ্ঞাত নাম ব্যাক্তির মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। খোরশেদ কৌশলে কাবিন নামা রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর নিয়া শিউলিকে জানান, আজ থেকে তারা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। এমন প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে দেখিয়ে মামলার বাদিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এমন ঘটনা ঘটাবার পর বিভিন্ন সময়ে শিউলীর ফেসবুক, ম্যসেঞ্জার, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ এ খোরশেদ যোগাযোগ করে বউ বলিয়া সম্বধন করে নানাভাবে ফুসলাইয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।
একসময় শিউলী খোরশেদের কাছে বিয়ের কাবিন চাইলে দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাইতে থাকেন। একসময় খোরশেদের কাছে শিউলী বিবাহের কাবিননামা চাইলে খোরশেদ জানায় পরে কাবিন নামা দিবে। কিন্তু বারবার কাবিননামা চাইলে একসময় খোরশেদ জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। একসময় খোরশেদ জানায়, শিউলীকে তার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করে এবং বিয়ের বিষয়টিও একেবারে অস্বীকার করে। মামলায় শিউলী উল্লেখ করেন, খোরশেদ অসৎ লালসা চারিতার্থ করার জন্য প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করিয়া স্বামী না হওয়া সত্ত্বেও শিউলীকে জোরপূর্বক বে-আইনী ও প্রতারনার আশ্রয় ধর্ষণ করেছে।
এছাড়া মামলায় শিউলী উল্লেখ করেন, তিনি সি.এন.জি অনার্স এসাসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের সভাপতি। তিনি গার্মেন্টস, হোশিয়ারি সহ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট এর ব্যবসা করেন্ এফ.বি.সি.সি.আই ও বিজি.এম এর সদস্য। ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন সময় দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। শিউলী আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হওয়ার কারনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে প্রতারনার আশ্রয়ে খোরশেদ শিউলীর কাছ থেকে ২ লাখ এবং পাঁচ লাখ টাকা করে পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। শিউলী নানা সময় সামাজিক উচ্চ মর্যাদার কারণে এসব ঘটনার বিষয়ে খোরশেদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে মামলা দায়ের করেন। খোরশেদ এখনো শিউলীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করিতেছেন।
তবে কাউন্সিলর খোরশেদের দাবি, র তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করা করা হচ্ছে।এরআগে খোরশেদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে আইসিটি মামলা দায়ের করেন সায়েদা শিউলী। খোরশেদ ওই মামলায় পলাতক রয়েছে। খোরশেদকে খুঁজে পাচ্ছেনা পুলিশ। তবে ২৫ আগস্ট মাসদাইরের বাড়িতে ছিল খোরশেদ। স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রোগ্রাম হবে এমন সংবাদে খোরশেদের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ। খোরশেদ বাড়িতে থাকলেও তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।


