Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ছাত্রলীগকর্মী পরিচয়ে কলেজের প্রিন্সিপালকে গুলি করে হত্যার হুমকি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪২ পিএম

ছাত্রলীগকর্মী পরিচয়ে কলেজের প্রিন্সিপালকে গুলি করে হত্যার হুমকি
Swapno

সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াসউদ্দিন ইসলামীক মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মীর মোসাদ্দেক হোসেনকে ছাত্রলীগ পরিচয়ে গুলি করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে দ্বীন ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার (আগস্ট) বিকেলে কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মীর মোসাদ্দেক হোসেন।

 

জানা যায়, দ্বীন ইসলাম নামে ওই যুবক নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মীর মোসাদ্দেক জানান, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত তানভীর নামে এক ছাত্র গত দেড় বছরে অনলাইনে নিয়মিত ক্লাশ না করায় ও অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় তানভীন ইসলামের পিতা ইতিমধ্যে ২ থেকে ৩ বার লিখিত অঙ্গীকার নামা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। অনলাইন ক্লাস থেকে বিরত থাকার পরও তাকে এইচএসসি ফরম পুরণে সুযােগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে মে, জুন, জুলাই (২০২১) মাসে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত না থেকে ইউটিইব থেকে কপি পেষ্ট করে এলাইনমেন্ট জমা দেয়।

 

অদ্য (২৫ আগস্ট) দুপুর ২ টায় আমি তানজীন ইসলামের বাবা তাজুল ইসলামকে মোবাইলে অবগত করি যে, তার ক্লাসে অনুপস্থিত ও কপি পেষ্ট করে এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার কারণে তাকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণে সুযোগ দেয়া হবে না। তার বাবা বাসায় যেয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাকে অবগত করে। ইতিমধ্যে ছাত্র তানভীর ইসলাম হিরাঝিল এলাকার দ্বীন ইসলাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে জনৈক ব্যক্তি আমার অফিস কক্ষে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে জানতে চায় আমি কেন উক্ত ছাত্রকে এইচএসসি ফরম পুরণ করতে দিব না। তারপর সে আমাকে গুলি করার হুমকি দেয় এবং রাস্তায় বের হলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে।

 

দ্বীন ইসলাম নামধারী ঐ ছেলে আমার কলেজের প্রভাষক নিলয় পারভেজ সুজনকে শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং কলেজের সকলকে অশালিন ভাষায় গালাগাল করে। উক্ত দ্বীন ইসলামের সকল কর্মকান্ড আমাদের সিসি টিভির ফুটেজে রয়েছে আমাদের কাছে। এমতাবস্থায় আমি এবং আমার কলেজের শিক্ষকের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আমি ইতিমধ্যে প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেছি।  

 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে এবিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ যুগের চিন্তাকে জানান, দ্বীন ইসলাম নামে মহানগর ছাত্রলীগে যুগ্ম সম্পাদক পদে কেউ নেই। এব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।  


এদিকে ছাত্রলীগ নেতা দ্বীন ইসলাম বলেন, আজকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের শেষ তারিখ। তানভীন খুবই মেধাবী  ছেলে। কিন্তু তাকে ফরম ফিলাপ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর তার বাবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। তিনি আসবেন রাতে। তাই বিষয়টি আমাকে দেখার জন্য বললে আমি তানভীনের পক্ষ নিয়ে কলেজে যাই। কিন্তু মোসাদ্দেক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং অন্যান্য শিক্ষককদের নিয়ে আমাকে আটকে মারধর করতে চেয়েছিলেন। আমি কোনো রকমে তার রুম থেকে  বেরিয়ে আসি। এরপরও অধ্যক্ষ অন্য শিক্ষকদের সাথে নিয়ে সিঁড়ির উপরে আমাকে আটকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে আমি এসআই রিপনকে ফোন করলে তারা সরে গেলে আমি কলেজ থেকে দ্রুত বের হয়ে আসি।

 

অন্যদিকে যে শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে এত কিছু সেই শিক্ষার্থীর পিতা তাজুল ইসলাম বলেন, দ্বীন ইসলাম নামের কাউকে আমি চিনি না। তাকে ফোন করে পাঠানোর প্রশ্নই উঠে না। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু সঙ্গদোষে সে অমনোযোগী হয়ে যায়। আমি দুইবার তার হয়ে অঙ্গিকারনামাও দিয়েছিলাম। এরপরও সে লাস্ট পনেরদিন ক্লাস করেনি। আজ (বুধবার) কলেজ থেকে অধ্যক্ষ স্যার আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে আমি নিজেও লজ্জিত হই এবং তাকে জানিয়েছিলাম, স্যার আপনাকে অনুরোধ করার মুখ আমার আর নেই। এখন যেটা ভালো মনে করেন আপনি করতে পারেন আমার বলার আর কিছু নেই।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন