# তৈমুর-মামুনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে সভা বাতিল
# পছন্দ মত কমিটি সাজাচ্ছে মামুন মাহমুদ, তৈমুর ও অনুসারীদের বাধা
দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের মাঝে কমিটি নিয়ে এই বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
জেলা বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ইউনিট কমিটি গঠনের লক্ষ্যে রাজধানীর বিজয় নগরে অবস্থিত ৭১ হোটেলে সভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। সভায় সোনারগাঁ থানা ব্যতিত বাকি ৯টি ইউনিট কমিটি গঠনের জন্য বসা হয়েছিলো। কিন্তু ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জের কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরুর পরই আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই হট্টগোলের মধ্যদিয়ে সভা বাতিল হয়ে যায়।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় মামুন মাহমুদ তার পছন্দ অনুযায়ী কমিটি সাজিয়েছে। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের কমিটিতে আওয়ামী পরিবারের সন্তান শাহ-আলম হীরার নাম প্রস্তাব করেন মামুন মাহমুদ। শাহ-আলম হীরা সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা রাশিদা বেগমের ছেলে। তার আপন বড় ভাই মো. সালাম মাহমুদ নাসিক ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছোট ভাই বাপ্পি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। যিনি কিছুদিন আগেও মাদকসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো। এছাড়াও, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শাহ-আলম হীরার অংশ নেয়ার একটি ছবিও রয়েছে নেতাকর্মীদের হাতে হাতে। তাই শাহ-আলম হীরাকে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে আনার বিষয়ে বিরোধীতা করেন তৈমুর আলম খন্দকার।
এছাড়াও, ফতুল্লার কমিটিতে যোগ্যনেতাদের উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলা হয়। ফতুল্লায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল ও নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে বেছে নেয় মামুন মাহমুদ। সভায় এসবের বিরোধীতা করেন তৈমূর। এতে তেঁতে উঠেন মামুন মাহমুদ। এক পর্যায়ে মামুন মাহমুদও প্রশ্ন তুলেন রূপগঞ্জের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে। রূপগঞ্জের কমিটিতে তৈমূরের আত্মীয়কে আনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন মামুন মাহমুদ। তা নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, “যোগ্য নেতাদের উপেক্ষা করে বিতর্কিতদের কমিটিতে আনতে চাইলে তিনি কমিটিতে স্বাক্ষর করবেন না। প্রয়োজনে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দিবেন।” এই বলেই সভা থেকে চলে যান তৈমুর আলম খন্দকার। এতে সম্মতি জানান সভায় উপস্থিত সিংহভাগ নেতারা। এক পর্যায়ে সভা বাতিল হয়ে যায়।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মামুন মাহমুদ অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিতদের দ্বারা কমিটি করতে চাইছেন। এর মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেটকে খুশি করার সুক্ষ্ম প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন জেলা বিএনপির এই সদস্য সচিব। এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, তার সাথে কারো বিতর্ক বা বিরোধ হয়নি। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে আমি বলেছি, সবগুলো কমিটিতে একত্রে সই করবো। আজ একটা কাল একটা, এমনটা করবো না। এছাড়া অন্যকিছু হয়নি।’
সিদ্ধিরগঞ্জের শাহ-আলম হীরা আওয়ামী পরিবারের হওয়ায় মামুন মাহমুদের প্রস্তাবনাকে আপনি নাকোচ করেছেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তৈমুর আলম বলেন, ‘এগুলো আমাদের ইন্টারনাল বিষয়, এগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করতে পারবো না। এটা আমার ঈমানী দায়িত্ব।’
এদিকে, রূপগঞ্জের কমিটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছিলো। এই সমালেচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমুর আলম বলেন, ‘আমার বোন এই ধরনের কমিটিতে আসবেও না। রেহানা বা এই নামে আমার কোন বোন নেই। তাছাড়া, আমার কাছে চিঠি এসেছে যে, কমিটিতে ১৫ শতাংশ মহিলা অবশ্যই নিতে হবে। তাই আমি আরো মহিলা ইনক্লুড করার জন্য খুজছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি চেয়ারপার্সনের (খালেদা জিয়ার) এ্যাডভাইজার। জেলার সভাপতিও ছিলাম। আমি থানা কমিটিতে কেন যাবো। থানা কমিটির নেতৃত্ব আমি কখনই চাইনি।’
এদিকে, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে বিএনপি অঙ্গণে। বর্তমানে ইউনিট কমিটি নিয়ে এই সমালোচনা আরো জোড়ালো হচ্ছে। এযাবৎ নেতাকর্মীদের মাঝে জমে থাকা অর্ন্তদ্বন্দ্ব একটু একটু করে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যা বিএনপির জন্য অশনি সংকেত বলেও মনে করছেন বোদ্ধা মহল। তবেই এই বিরোধ বা বিভক্তির জল কোথায় গিয়ে গড়ায়, সেটাই এখন ভাবিয়ে তুলছে নেতাকর্মীদের।


