নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসপির হুঁশিয়ারি
একটা ফুটালে দশটা ফুটাবো
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ পিএম
# বৈধ অস্ত্র হেফাজতে নেয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করবে পুলিশ
# সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে তামা করে ফেলবো, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত খসায় ফেলবো : এসপি
শহর থেকে শহরতলী, নির্বাচনি হাওয়া লেগেছে সর্বত্রই। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত ছড়িয়েছে নির্বাচনের আগমনী বার্তা। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া, চলতি বছরই জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা জোড়ালো হচ্ছে।
তাই নির্বাচনের এই বছরে রয়েছে নানা শঙ্কাও। কেননা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখা গিয়েছিলো। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যেত এই নারায়ণগঞ্জেই। তবে, এবার নির্বাচন কেন্দ্রীক যেকোন সহিংসতা প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।
গতকাল বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘ সামনে নির্বাচন। আল্লাহ তায়ালা যদি রহম করে, আমি যদি থাকি, তাহলে কি হবে তা আপনারা রেজাল্ট পাবেন। আমার আগের কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জে ছিলো। খোঁজ নিয়ে দেখুন সেখানে নির্বাচন হয়েছিল। আপনি যদি একটি ককটেল ফোটান, আমি ১০টি ফুটাবো। একটু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে দেখবেন, সেখানে তামা করে ফেলবো।
তিনি বলেন, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত খসায় ফেলবো, যদি নির্বাচনে কেউ কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেন। এটা যেই হন। উপরে আল্লাহ নিচে আমি, মাঝখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে আমি মানি না। বিবেকে যেটা সঠিক, আমি সেটাই করবো। কারণ আমাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে এক জনপ্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘যারা কিশোরগ্যাং নিয়ে ঘুরে এবং জনপ্রতিনিধি হতে চায়, আপনারা তাদের ভোট দিবেন না।
এসপি বলেন, আপনারাই ভোট দিয়া কিশোরগ্যাংরে গডফাদাররে নির্বাচিত করবেন, মাদক ব্যবসার গডফাদাররে বানাবেন, আবার নির্বাচনের পর আসবেন নালিশ দিতে, তাহলে আমি করবো।’ এদিকে, গত নির্বাচনের মত এবারও সকল বৈধ অস্ত্র হেফাজতে নিবে পুলিশ। নির্বাচনের পর যথারীতি সেই অস্ত্র নির্দিষ্ট বাহকের কাছে ফেরত বুঝিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও কাজ করার কথা জানিয়েছেন এসপি জায়েদুল আলম।
এই প্রসঙ্গে দৈনিক যুগের চিন্তাকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হলে সকল বৈধ অস্ত্রগুলো পুলিশি হেফাজতে নেয়া হবে। এছাড়াও সিডিউলের পর আইনত যা যা করনীয়, আমরা তাই করবো। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও আমরা কার্যক্রম চালাবো।’ এসপি বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে অবশ্যই আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবো। এক্ষেত্রে আগে নির্বাচন ঘোষণা হবে, কয়টা কেন্দ্র হবে, কোন কোন কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন বলে আইডেন্টিফাই হবে, সেই অনুসারে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈধ বা লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের বিষয়ে যেমন তথ্য রয়েছে, তেমনি অবৈধ অস্ত্রের বিষয়েও তথ্য বা তালিকা রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। সেই অনুযায়ী অভিযানও চালানো হয় প্রায় সময়ই। যদিও গত বেশ কিছুদিন যাবত সেই কার্যক্রম তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। তাই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করার আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।


