Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিরক্ষায় মেয়র আইভী

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০১ পিএম

বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিরক্ষায় মেয়র আইভী
Swapno

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শহরে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর স্থাপন, বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভাস্কর্য নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

বঙ্গবন্ধুর গড়া আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও স্মৃতিরক্ষায় কাজ করেছেন ডা. আইভী। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার জন্য আয়োজিত প্রথম সভার স্মৃতিবিজড়িত পাইকপাড়ার মিউচুয়েল ক্লাব পুননির্মাণ করে সংরক্ষণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ করেছেন সিটি মেয়র। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আজীবন হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানি সরবরাহ বিভাগের বিলও মওকুফ করেছেন মেয়র আইভী। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক খচিত স্থাপনা নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

 


সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে নারায়ণগঞ্জ শহরের বুকে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এই ভাস্কর্যটিকে ঘিরে শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে চত্ত্বর। এই চত্ত্বরেরও নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। গত বছরের ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কর্মসূচির দিন ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং তাঁর স্মরণে মেয়র আইভী এ চত্ত্বর নির্মাণ ও নামকরণ করেন। বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের ঠিক পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় সম্বলিত ফলক ও তাঁর আবক্ষ ভাস্কর্যটি।
প্রয়াত পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার নামে নির্মিত আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কর্ণার তৈরি করেছেন সিটি মেয়র ও আলী আহাম্মদ চুনকার জ্যেষ্ঠ কন্যা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ওই কর্ণারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেওয়া ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্পী চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। সিটি কর্পোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে সিরাজউদ্দোল্লা ক্লাবেও বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করেছেন মেয়র আইভী। নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন বহুতল নগরভবনেও বঙ্গবন্ধু কর্ণার রাখা হবে বলে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে।

 


জাতির বীর সন্তান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিরক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে সড়কের নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা সড়ক’ হিসেবে নামকরণ করেছেন সিটি মেয়র। প্রতিটি ওয়ার্ডে এইসব সড়কের নামফলক ইতোমধ্যেই উন্মোচন করা হয়েছে। একই সাথে প্রতিটি ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের নামাঙ্কিত ফলক স্থাপনেরও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে এই ফলকের ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 


সম্প্রতি নগরভবনে এক অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আইভী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশটাকে সুন্দর করে সাজানোর দায়িত্ব আমাদের। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বলবো, সিটি কর্পোরেশন করে দিতে পারে এমন কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে সেই কাজ করে দেবো। কারণ এই অধিকার সরকার আমাদের দিছে। প্রস্তাব আমার কাছে আসতে হবে।’

 


২০০৭ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র থাকাকালে আইভী দেশে প্রথম ২২০ জন মুক্তিযোদ্ধার হোল্ডিং ট্যাক্স আজীবন মওকুফ করেছিলেন। পরে ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট পর্যন্ত বাড়ির মালিক সব মুক্তিযোদ্ধার হোল্ডিং ট্যাক্স আজীবন মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি করে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পানি সরবরাহ বিভাগের বিলও মওকুফ করার হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ ও বাবুরাইল খালের উপর নির্মিত সেতু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 


মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের স্মৃতিবিজড়িত স্থান নারায়ণগঞ্জ। বহুবার এই নারায়ণগঞ্জে এসেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নারায়ণগঞ্জ নগরীর পাইকপাড়ায় অবস্থিত মিউচুয়েল ক্লাবে আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি গঠনের সভা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের স্মৃতিবিজড়িত ওই ক্লাবও সংরক্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

এ বিষয়ে মেয়র আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। পাইকপাড়ার মিউচুয়াল ক্লাবে আওয়ামী লীগের জন্ম। এইখানে সবকিছু গুছিয়ে তিনদিন পর ঢাকার রোজ গার্ডেনে কমিটির আত্মপ্রকাশ হয়। বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে এই কথা উল্লেখ করেছেন। এই রোজ গার্ডেনের বাড়িটি কিনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওইখানে উনি মুক্তিযুদ্ধসহ অন্যান্য স্মৃতিবিজড়িত বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। এই কথা শোনার পর আমি মিউচুয়াল ক্লাবও সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিলাম। জরাজীর্ণ একতলা ক্লাব ভবন আমি তিনতলা করেছি। ১৯৪৭ থেকে শুরু করে সকল নেতাদের ছবি চারদিকে থাকবে। সুন্দর করে সাজানোর চেষ্টা করছি। শেখ রাসেল কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণারও থাকবে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাতে উদ্বোধন করেন সেই চেষ্টা করছি।’

 


বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের স্মৃতিরক্ষাই নয় বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামেও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নগরীর বুকে দেওভোগে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন পার্কের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নামে। দৃষ্টিনন্দন শেখ রাসেল পার্ক এখন নগরবাসীর বিশুদ্ধ খোলা বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার একটি স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুবিশাল লেক ও সবুজে ঘেরা এই পার্ক নির্মাণের জন্য নগরবাসীর অগাধ কৃতজ্ঞতা রয়েছে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামেও স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সিটি মেয়র আইভী। সিটি কর্পোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলের ২৩ নং ওয়ার্ডে ‘শেখ হাসিনা বিজ্ঞান কমপ্লেক্স’ নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং তাঁর স্মরণে মুজিব শতবর্ষে ছিল নানা আয়োজন। কোভিড মহামারীর মধ্যেও বছরব্যাপী নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এসব আয়োজনের মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মাজার জিয়ারত, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, শহরজুড়ে আলোকসজ্জা, বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি, মেডিকেল ক্যাম্প, বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ, শিশু-কিশোর ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিতরণ। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এসব কর্মকান্ডের মূল্যায়নে দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অনেকে কেবল মুখেই বলেন কিন্তু কাজের কাজ করেন না। আর নাসিকের মেয়র আইভী মুখে বলেন না কিন্তু করে দেখান।

 

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়নের স্রোতধারায় সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক কাজ করেছেন। তার উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জেই শুধু নয় সারাদেশেই প্রশংসিত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের যারা নাগরিক তারা মেয়রের প্রতি অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্ট। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে উন্নয়নের মডেল হিসেবে সমাদৃত ও পুরষ্কৃত। আইভীও উন্নয়নের মডেল হিসেবে সমাদৃত ও স্বীকৃত। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেয়র হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন