জেলায় ২১৪টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
মামুনুর রহমান
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ পিএম
# জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে: ডিসি
# শারদীয় দূর্গাপূজায় তিনস্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে: এসপি
# নারায়ণগঞ্জে এবার ২১৪টি পূজা মন্ডপে হবে শারদীয় দূর্গাপূজা : শিপন
আসছে ১১অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা । উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি মন্ডবে মন্ডবে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। এ উৎসবকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে কাঁদামাটি, খড়-কাঠ আর প্রতিমা নিয়েই দিন কাটছে কারিগরদের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা।
এবছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২১৪টি পূজা মন্ডবে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গা উৎসব। প্রতিমা তৈরির মৃৎ শিল্পীরা দিনরাত নিরলশ ভাবে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দূর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, গণেশ, কার্তিক, অসুর, সিংহসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ শিল্পীদের। আসছে ১১অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হবে। ১৫অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের উৎসব।
সরেজমিন শহরে ও শহরের বাইরের বিভিন্ন পূজা মন্ডব ঘুরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে। আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন পূজামন্ডপ গুলোতে সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পী কারিগররা। আর সেই প্রতিমা শিল্পীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঁদামাটি, খড়, কাঠ, বাঁশ আর সুতলি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দেবী দুর্গাসহ প্রতিমাগুলোকে মনোমুগ্ধকর অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন এই শিল্পীরা। প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে এক একটি প্রতিমা। অতি ভালোবাসায় তৈরি করা হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবের মূর্তি। কয়েকজন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা জানান, প্রতিমা গড়া শেষ হলে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ।
দুর্গাপুজার বিভিন্ন পুজামন্ডপের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন চলবে। দেবীদুর্গা আসছেন অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবীদুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। আর ব্যস্ত সময় পার করছেন কমর্রত মৃৎশিল্পীরা। প্রতিবছর আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকারিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শারদীয় দূর্গোৎসব পালনে এবারও পুজার সেই পুরনো জাকজমক থাকবে অনেকটা অগোচরে।
এদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্গোৎসবকে সফল করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পূজা মন্ডেপের কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপনের নেতৃত্বে পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসব নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে সাজসাজ রব। পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পুজারি থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতিতে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই প্রতিমা শিল্পীদের।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধান সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন জানান, বর্তমানে মহামারী করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে শারদীয়া দুর্গাপূজা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা হবে। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ থেকে আমাদেরকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার আগে যেমন বাড়তি জাকজমকপূর্ণ হতো, সেটা এবারও হবে না। আগামি ৬ অক্টোবর মহালয়ের মধ্যে দিয়ে আমন্ত্রণ ও ১০অক্টোবর মহাপঞ্চমীর বোধন ঘট স্থাপন করে পূজা শুরু হবে। আর ১৫অক্টোবর বিজয় দশমীর মাধ্যমে সমাপ্তি হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজা উদযাপন করা হবে। এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে ২১৪টি পুজামন্ডবে দুর্গাপুজার আয়োজন চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের পূজা উদযাপন পরিষদের মিটিং হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে আমাদের সব ধরনের সহযেগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ উৎসব সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ইতিমেধ্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগকে নিয়ে মিটিং করেছি। সেইসাথে সরকারি যে বরাদ্দ প্রতি মন্ডপের জন্য হাফ টন করে চাল সেটিও আমরা দিয়েছি। এবং আমরা পূজা মন্ডব কমিটিকে বলেছি তারা যেনো নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নিজস্ব ভোলটিয়ার রাখা হয়। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা। এবং কোভিড-১৯ রোধে প্রটোকল মেনে যেনো তারা শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করেন। সেই সাথে আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মাঠে কাজ করবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে আমাদের তিনস্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। জেলা পুলিশ, সাদা পুলিশ, গোয়েদা পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। প্রত্যেক পূজা মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর মোতায়েন থাকবে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং দুস্কৃতিকারীরা যাতে কিছু না করতে পারে তার জন্য পূজা সম্পূর্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সার্বক্ষণিক জেলা পুলিশ থেকে আইনশৃংখলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং পূজাকালীন সময়ে চুরি ও ছিনতাই রোধে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম নিরাপত্তা হিসেবে মাঠে কাজ করবে।


