# পাল্লা ভারি করার মিশনে রয়েছে মামুন মাহমুদ
# যোগ্যদের চাইতেও অযোগ্যদের প্রতি রহস্যজনক দরদ
# অযোগ্যদের পদায়ন করা হলে ঘটবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
পহেলা জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। তৈমুর আলম খন্দকার এবং মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন এই আহবায়ক কমিটি জেলার অধিনস্থ ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করতে গিয়ে নানা ভাবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে ঘিরে সমালোচনা চলছে সর্বত্র।
এদিকে, জেলার ১০টি ইউনিট কমিটির মধ্যে রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ ও তারাবো পৌরসভার কমিটি নিয়ে বিবাদ চলমান আছে। এর মধ্যে, রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব পদে বাছির উদ্দিন বাচ্চুকে আনতে চাইছেন মামুন মাহমুদ। অথচ, এই বাছির উদ্দিন বাচ্চুকে নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে বিএনপি অঙ্গণেই। তিনি বিগত সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাও তেমন নেই।
কারণ, বিগত সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন আন্দোলন সংগ্রামের দায়ে মামলার শিকার হয়ে জেল হাজত খেটে ছিলেন, তখন বাছির উদ্দিন বাচ্চু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সক্ষতা গড়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়িয়েছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাকে রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব বানাতে চেষ্টা করছেন মামুন মাহমুদ এবং নির্বাহী কমিটির দুই নেতা। অন্যদিকে, সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত ছায়েম বিগত সময়ে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাকে মাইনাসের চেষ্টা চালাচ্ছে মামুন মাহমুদ। তবে, ছায়েমের পক্ষে আছেন তৈমুর আলম খন্দকার। কেননা, আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ছায়েমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়।
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব পদ নিয়েও সমালোচনায় বিধেছেন মামুন মাহমুদ। তিনি ওই পদে শাহ-আলম হীরাকে আনতে চাচ্ছেন। এই শাহ-আলম হীরা একেতো আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, দ্বিতীয়ত তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের সমর্থক গোষ্ঠিতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও বিগত সময়ে সরকার দলীয় কোন মামলা হয়নি। অন্যদিকে, সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশি বিএনপি নেতা কাউন্সিলর ইকবাল ইতিপূর্বে আন্দোলন সংগ্রামের কারণে একাধিক মামলা আসামী হয়েছেন। কিছুদিন আগেও সরকার দলীয় মামলায় তিনি দীর্ঘ ছয় মাস কারাবন্দি ছিলেন। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে জেল-জুলুম পোহালেও এই ইকবালকে সদস্য সচিব পদে আনতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন মামুন মাহমুদ।
শোনা গেছে, শাহ-আলম হীরাকে পদায়ন করতে মামুন মাহমুদের সাথে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন মামুন মাহমুদ। তবে, রহস্যজনক কারণে শাহ-আলম হীরার পক্ষেই মামুন মাহমুদের অবস্থান লক্ষ করা গেছে। মামুন মাহমুদের এমন অবস্থানের কারণে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাঝে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জতো বটেই, জেলার ১০টি ইউনিটের মধ্যে যোগ্যদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত বা অযোগ্যদের পদায়ন করা হলে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠবে নেতাকর্মীরা। এমন বার্তাই শোনা যাচ্ছে বিএনপি অঙ্গন থেকে। এক্ষেত্রে বিএনপিতে দাবানলের শঙ্কা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সমর্থকরা বলছেন, আন্দোলন সংগ্রাম জোড়ালো করতে ব্যর্থ হলেও বিএনপির কতিপয় নেতা বলয় কেন্দ্রীক রাজনীতি করতে গিয়ে দলকে দূর্বল করছেন। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের পদায়ন করার মাধ্যমে জেনে শুনে দলেরই বিপদ ডেকে আনছেন সমালোচনায় বিদ্ধ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। শেষ পর্যন্ত সেই মিশন বাস্তবায়ন হলে ছাড় দেবে না নেতাকর্মীরা। তাদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে বলে ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৬-এ ক্ষমতার মসনদ ভাঙ্গে বিএনপির। পরের দু’বছর তত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৮ থেকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের শাসনামল। যা চলছে অদ্যবধি। এই একযুগেরও বেশি সময়ে আওয়ামী লীগ হটাতে বারংবার আন্দোলনে গিয়েও ব্যার্থ হয়েছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রের ডাকে শুরুতে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকলেও এখন ফটোসেশনের রাজনীতিতে তারা দ্বায় সারছে। গুরুত্বপূর্ন পদগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন না করে অযোগ্যদের আনার ফলেই আন্দোলন সংগ্রাম জোড়ালো হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, অযোগ্য ও নিস্ক্রিয়দের দলে আনার কারণ হিসেবে বোদ্ধা মহল বলছেন, কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই অযোগ্যদের দ্বারা নিজ নিজ পাল্লা ভারি করার মিশনে রয়েছে কতিপয় নেতা। এমন নানামুখি সমালোচনার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত কারা আসবেন নেত্বত্বে, অথবা, তৈমুর-মামুন সেই আশু দাবানল ঠেকাতে পারবেন কিনা, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন।


