কোলকাতাতেই বাচ্চু ঘোষালের শেষকৃত্য সম্পন্ন
ইউসুফ আলী এটম
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১, ০৪:২০ পিএম
পুলক আর নেই’; দুঃসংবাদটি অনেকটা বিনামেঘে বজ্রপাতের মতোই ছড়িয়ে পড়ে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাঝে। ছেলে ‘পল’এর চিকিৎসা করাতে ভারতের কোলকাতা গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৩ নভেম্বর নিজেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পুলক কান্তি ঘোষাল ওরফে বাচ্চু। অনেক চেষ্টা করেও সময়ের স্বল্পতাসহ নানা জটিলতায় তার মরদেহ নারায়ণগঞ্জে আনা যায়নি। কোলকাতাতেই তার মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বন্দরের সাবদী শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে তার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি ছিলেন এই মন্দিরের সেবাইত।তার প্রচেষ্টায় ব্রহ্মপুত্রনদের পূর্বতীরে অবস্থিত এই মন্দিরে পূণ্যার্থীদের স্নানের জন্য একটি বিশাল ঘাট জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাচ্চুর বন্ধুবান্ধব ছাড়াও বন্দরের সাবদী, দিঘলদী,মাধবপাশাসহ আশপাশের অনেক নারী পুরুষ ও শিশুকিশোর অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে বাচ্চুর সহপাঠীবন্ধু,নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন। এসময় তিনি কান্নাজড়িতকন্ঠে বলেন, আমি আমার একজন নিকটবন্ধুকে হারালাম। আমার ব্যক্তিগত সহকারির কাছে পুলকের মৃত্যুসংবাদ শোনে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেদিন আর কোন কাজই করতে পারিনি। বিছানায় শুয়ে কাটিয়েছি। পুলক নানাভাবে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আমাকে সহায়তা করতো। এখনো বিশ^াস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, বাচ্চু মারা গেছে। মৃত্যুর একদিন আগেও মোবাইলে কোলকাতা থেকে সে আমার সাথে কথা বলেছে। আমি তার ছেলের চিকিৎসার কথা জানতে চেয়েছি। আমার জন্য কিছু ওষুধ আনতেও বলেছিলাম। বাচ্চুর আচমকা মৃত্যুতে আমি শোকে মুহ্যমান। আল্লাহ যেন আমাকে ও তার পরিবারকে এ শোক সইবার ক্ষমতা দেন। আমি আমার বন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করি।
পুলক কান্তি ঘোষাল ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যকরি কমিটির সদস্য এবং সিটির ১৫ নং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে তিনি বাচ্চু ঘোষাল নামেই সবিশেষ পরিচিত। টানবাজার এলাকায় নিজের বাড়িতে সপরিবারে বাস করতেন। নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯৭০ সালে এসএসসি পাস করেন। আনোয়ার ছাড়াও তার সহপাঠী ছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা রোকনউদ্দিন আহমেদ,সাংবাদিক মুহাম্মদ আইউব,ইউসুফ আলী এটম,ব্যাংকার অশোক কুমার কর্মকার,ব্যাবসায়ী আলহাজ¦ দুলাল, মমতাজ উদ্দিন বাবুল, হারুনুর রশীদ বাবুল,ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আলম,আমেরিকা প্রবাসী আমানউল্লাহ টোকেন,প্রয়াত অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান, ডা.শাহজাহান,ডা.শরীফ মোঃ মোসাদ্দেক প্রমুখ। আনোয়ার এবং বাচ্চুর প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল সতীর্থ ’৭০ সংগঠনটির জন্ম। এই সংগঠনের মাধ্যমে বছরে অন্ততঃ একবার পুরানো বন্ধুরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে মিলনমেলার আয়োজন করে স্মৃতিচারণ,খেলাধুলা এবং হৈচৈয়ে মেতে ওঠে।
এক ছেলে ও এক কন্যার জনক প্রয়াত বাচ্চু ঘোষালের স্ত্রী দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভোগে মাস সাতেক আগে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। প্রচুর টাকা ব্যয় করেও প্রিয়তমা স্ত্রীকে বাঁচাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ছেলের হার্টের অসুখ তাকে আরো কাহিল করে ফেলেছিলো।


